০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায় বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি বক্স অফিসের নায়ক থেকে তামিল রাজনীতির বিস্ময়, কীভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় বদলে দিলেন তামিলনাড়ুর সমীকরণ ক্রেনশর পথ ও “আন্তঃসংযোগ”-এর জন্ম চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব মধ্যবিত্ত পৃথিবীর শেষ আশ্রয়: বারো বছরের কিশোরীরা কেন এখনও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান

দ্রুত ইউক্রেন শান্তিচুক্তির চাপের বিরুদ্ধে ইউরোপ

ইউক্রেন যুদ্ধ চতুর্থ বছরে প্রবেশের মুখে ইউরোপীয় দেশগুলো দ্রুত কোনো শান্তিচুক্তির পথে এগোনোর চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল সময় বাঁচানোর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বা ইউক্রেনের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক সময়সূচি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে আলোচনা বাড়লেও, এর গতি নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে।

ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, আলোচনার মূল সমস্যা নীতিগত নয়, বরং প্রক্রিয়াগত। অধিকাংশ দেশই ভবিষ্যতে আলোচনার পক্ষে থাকলেও তারা জোর দিচ্ছে যে ইউক্রেনকে সিদ্ধান্তের কেন্দ্রেই থাকতে হবে। কিছু বড় শক্তির মধ্যে সমান্তরাল আলোচনা ইউক্রেনকে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় নামিয়ে আনতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই।

Ukraine and Beyond: Shaping Europe's Security Future | International Crisis  Group

জার্মানি ও ফ্রান্সের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, কোনো চুক্তিতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে তা টেকসই হবে না। অতীতে দুর্বল পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগের কারণে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতা এখনও ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মনে গভীরভাবে রয়েছে।

ন্যাটোর ভেতরেও মতভেদ স্পষ্ট হচ্ছে। কিছু দেশ দ্রুত উত্তেজনা কমানোর পক্ষে, আবার মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো মনে করছে—ইউক্রেনকে শক্ত অবস্থানে রেখে আলোচনায় যেতে হলে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের আশঙ্কা, এখনই ছাড় দিলে ভবিষ্যতে আগ্রাসন আরও উৎসাহিত হবে।

দেশীয় রাজনীতিও আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বাজেট সংকোচন এবং ভোটারদের ক্লান্তি ইউরোপের অনেক দেশে নতুন প্রশ্ন তুলছে। তবুও অধিকাংশ সরকার ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

Ukraine, NATO, and War Termination | Council on Foreign Relations

ইউক্রেনের নেতৃত্ব বারবার বলেছে, সীমান্ত ও জবাবদিহির মতো মূল বিষয় স্থগিত রেখে কোনো অন্তর্বর্তী চুক্তি তারা গ্রহণ করবে না। তাদের মতে, বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া শান্তি মানেই অনিশ্চয়তা।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপ এখন দ্রুততার চেয়ে সতর্কতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অনেক রাজধানীর দৃষ্টিতে, ত্রুটিপূর্ণ দ্রুত শান্তির চেয়ে ধীর কিন্তু নিরাপদ সমাধানই কম ঝুঁকিপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায়

দ্রুত ইউক্রেন শান্তিচুক্তির চাপের বিরুদ্ধে ইউরোপ

০৩:০৭:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউক্রেন যুদ্ধ চতুর্থ বছরে প্রবেশের মুখে ইউরোপীয় দেশগুলো দ্রুত কোনো শান্তিচুক্তির পথে এগোনোর চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল সময় বাঁচানোর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বা ইউক্রেনের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক সময়সূচি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে আলোচনা বাড়লেও, এর গতি নিয়ে সতর্কতা বাড়ছে।

ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, আলোচনার মূল সমস্যা নীতিগত নয়, বরং প্রক্রিয়াগত। অধিকাংশ দেশই ভবিষ্যতে আলোচনার পক্ষে থাকলেও তারা জোর দিচ্ছে যে ইউক্রেনকে সিদ্ধান্তের কেন্দ্রেই থাকতে হবে। কিছু বড় শক্তির মধ্যে সমান্তরাল আলোচনা ইউক্রেনকে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় নামিয়ে আনতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই।

Ukraine and Beyond: Shaping Europe's Security Future | International Crisis  Group

জার্মানি ও ফ্রান্সের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, কোনো চুক্তিতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে তা টেকসই হবে না। অতীতে দুর্বল পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগের কারণে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতা এখনও ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের মনে গভীরভাবে রয়েছে।

ন্যাটোর ভেতরেও মতভেদ স্পষ্ট হচ্ছে। কিছু দেশ দ্রুত উত্তেজনা কমানোর পক্ষে, আবার মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো মনে করছে—ইউক্রেনকে শক্ত অবস্থানে রেখে আলোচনায় যেতে হলে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। তাদের আশঙ্কা, এখনই ছাড় দিলে ভবিষ্যতে আগ্রাসন আরও উৎসাহিত হবে।

দেশীয় রাজনীতিও আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, বাজেট সংকোচন এবং ভোটারদের ক্লান্তি ইউরোপের অনেক দেশে নতুন প্রশ্ন তুলছে। তবুও অধিকাংশ সরকার ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

Ukraine, NATO, and War Termination | Council on Foreign Relations

ইউক্রেনের নেতৃত্ব বারবার বলেছে, সীমান্ত ও জবাবদিহির মতো মূল বিষয় স্থগিত রেখে কোনো অন্তর্বর্তী চুক্তি তারা গ্রহণ করবে না। তাদের মতে, বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া শান্তি মানেই অনিশ্চয়তা।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপ এখন দ্রুততার চেয়ে সতর্কতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অনেক রাজধানীর দৃষ্টিতে, ত্রুটিপূর্ণ দ্রুত শান্তির চেয়ে ধীর কিন্তু নিরাপদ সমাধানই কম ঝুঁকিপূর্ণ।