০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

চীনের অ্যানিমেশন সিনেমায় ইতিহাস গড়া সাফল্য, পঁচিশ বিলিয়ন ইউয়ান আয়ের পেছনের গল্প

চীনের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র শিল্প নতুন এক মাইলফলকে পৌঁছেছে। চলতি বছরে দেশটির অ্যানিমেশন সিনেমার মোট বক্স অফিস আয় পঁচিশ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে, যা চীনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, এই সাফল্য শুধু আর্থিক নয়, বরং প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের এক যুগান্তকারী সমন্বয়ের প্রতিফলন।

প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার নতুন সমীকরণ
এই রেকর্ড আয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে প্রযুক্তির অগ্রগতি। ডিজিটাল নির্মাণ, উন্নত ভিজ্যুয়াল এফেক্টস এবং আধুনিক রেন্ডারিং প্রযুক্তি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে প্রযুক্তির আধিক্য সত্ত্বেও চীনা অ্যানিমেশন তার নিজস্ব পূর্বীয় নান্দনিকতা হারায়নি। কালি-তুলি ঘরানার ফাঁকা স্পেস, অনুভূতি নির্ভর দৃশ্যান্তর প্রযুক্তিকে সংস্কৃতির বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চীনা সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ
এই বক্স অফিস সাফল্যের আরেকটি বড় দিক হলো চীনা সংস্কৃতির সমৃদ্ধ প্রকাশ। অবকাঠামো বা শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিকাশও চীনের শক্তির বড় ভিত্তি হয়ে উঠছে। অ্যানিমেশন সিনেমা গুলো আধুনিক গল্পের ভেতর ঐতিহ্যবাহী উপাদানকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। নে ঝা টু প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনী নতুন রূপে সাজিয়েছে, আর নোবডি ক্লাসিক সাহিত্যকে আধুনিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এসব গল্পের মধ্য দিয়ে চীনা সভ্যতার আলাদা আকর্ষণ বিশ্বদর্শকের সামনে এসেছে।

বিশ্বমঞ্চে চীনা অ্যানিমেশনের প্রভাব
চলতি বছরে জুটোপিয়া টু চীনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র হয়েছে। এই ছবির বৈশ্বিক আয়ের প্রায় অর্ধেক এসেছে চীনা বাজার থেকে, যা উত্তর আমেরিকার বাজার কে ছাড়িয়ে গেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে চীনের সাংস্কৃতিক বাজারের উন্মুক্ততা। দেশীয় অ্যানিমেশনের উত্থানের পাশাপাশি বিদেশি চলচ্চিত্রের স্থিতিশীল উপস্থিতি চীন ও বিশ্বের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংলাপের নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

পরিপক্ব দর্শক মানসিকতা ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস
আগে দেশীয় ও বিদেশি চলচ্চিত্র নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এখন সেই আলোচনা অনেকটাই স্তিমিত। দর্শকরা একই হলে একদিকে নে ঝার জেদে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন, অন্যদিকে জুটোপিয়ার চরিত্রদের সংলাপে হাসছেন। এই স্বাভাবিক গ্রহণযোগ্যতা সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের বড় প্রমাণ। উন্মুক্ত বাজারে অন্য সংস্কৃতিকে গ্রহণ করার পাশাপাশি নিজের সংস্কৃতিকে বিশ্বমুখী করে তোলার ক্ষমতাই চীনের নতুন শক্তি।

উন্নয়নের নতুন প্রতীক
পঁচিশ বিলিয়ন ইউয়ান আয়ের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে প্রযুক্তির ডানা, চীনা সংস্কৃতির ফল এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সেতু। অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের এই উত্থান চীনের উন্নয়নগত গতি ও নরম শক্তির নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং

চীনের অ্যানিমেশন সিনেমায় ইতিহাস গড়া সাফল্য, পঁচিশ বিলিয়ন ইউয়ান আয়ের পেছনের গল্প

১১:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

চীনের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র শিল্প নতুন এক মাইলফলকে পৌঁছেছে। চলতি বছরে দেশটির অ্যানিমেশন সিনেমার মোট বক্স অফিস আয় পঁচিশ বিলিয়ন ইউয়ান ছাড়িয়েছে, যা চীনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, এই সাফল্য শুধু আর্থিক নয়, বরং প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের এক যুগান্তকারী সমন্বয়ের প্রতিফলন।

প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার নতুন সমীকরণ
এই রেকর্ড আয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে প্রযুক্তির অগ্রগতি। ডিজিটাল নির্মাণ, উন্নত ভিজ্যুয়াল এফেক্টস এবং আধুনিক রেন্ডারিং প্রযুক্তি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে প্রযুক্তির আধিক্য সত্ত্বেও চীনা অ্যানিমেশন তার নিজস্ব পূর্বীয় নান্দনিকতা হারায়নি। কালি-তুলি ঘরানার ফাঁকা স্পেস, অনুভূতি নির্ভর দৃশ্যান্তর প্রযুক্তিকে সংস্কৃতির বাহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

চীনা সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ
এই বক্স অফিস সাফল্যের আরেকটি বড় দিক হলো চীনা সংস্কৃতির সমৃদ্ধ প্রকাশ। অবকাঠামো বা শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিকাশও চীনের শক্তির বড় ভিত্তি হয়ে উঠছে। অ্যানিমেশন সিনেমা গুলো আধুনিক গল্পের ভেতর ঐতিহ্যবাহী উপাদানকে নতুনভাবে তুলে ধরছে। নে ঝা টু প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনী নতুন রূপে সাজিয়েছে, আর নোবডি ক্লাসিক সাহিত্যকে আধুনিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এসব গল্পের মধ্য দিয়ে চীনা সভ্যতার আলাদা আকর্ষণ বিশ্বদর্শকের সামনে এসেছে।

বিশ্বমঞ্চে চীনা অ্যানিমেশনের প্রভাব
চলতি বছরে জুটোপিয়া টু চীনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র হয়েছে। এই ছবির বৈশ্বিক আয়ের প্রায় অর্ধেক এসেছে চীনা বাজার থেকে, যা উত্তর আমেরিকার বাজার কে ছাড়িয়ে গেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে চীনের সাংস্কৃতিক বাজারের উন্মুক্ততা। দেশীয় অ্যানিমেশনের উত্থানের পাশাপাশি বিদেশি চলচ্চিত্রের স্থিতিশীল উপস্থিতি চীন ও বিশ্বের মধ্যে সাংস্কৃতিক সংলাপের নতুন পথ খুলে দিয়েছে।

পরিপক্ব দর্শক মানসিকতা ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাস
আগে দেশীয় ও বিদেশি চলচ্চিত্র নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এখন সেই আলোচনা অনেকটাই স্তিমিত। দর্শকরা একই হলে একদিকে নে ঝার জেদে আবেগাপ্লুত হচ্ছেন, অন্যদিকে জুটোপিয়ার চরিত্রদের সংলাপে হাসছেন। এই স্বাভাবিক গ্রহণযোগ্যতা সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের বড় প্রমাণ। উন্মুক্ত বাজারে অন্য সংস্কৃতিকে গ্রহণ করার পাশাপাশি নিজের সংস্কৃতিকে বিশ্বমুখী করে তোলার ক্ষমতাই চীনের নতুন শক্তি।

উন্নয়নের নতুন প্রতীক
পঁচিশ বিলিয়ন ইউয়ান আয়ের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে প্রযুক্তির ডানা, চীনা সংস্কৃতির ফল এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সেতু। অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের এই উত্থান চীনের উন্নয়নগত গতি ও নরম শক্তির নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।