০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ৪৫ ডিগ্রি তাপেও থামে না জীবন, দিল্লির শ্রমজীবী মানুষের কাছে বেঁচে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ ভাইরাল নাচে নতুন প্রাণ পাচ্ছে গান, বদলে যাচ্ছে পপসংস্কৃতির চিত্র পেন্টাগনের গোপন ইউএফও নথি প্রকাশ, রহস্য আরও ঘনীভূত চালের দামের রকেট গতি, বাংলাদেশি টাকায় ১১৬ টাকা কেজি দরে ৫ লাখ টন চাল রপ্তানি করছে ইন্দোনেশিয়া দিল্লির সাকেত মেট্রো স্টেশনের কাছে বহুতল ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়ার আশঙ্কা টয়োটার বড় সিদ্ধান্ত: স্থগিত হচ্ছে পরবর্তী প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বিতর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ স্থগিত মোদির মিতব্যয়ী বার্তা নিয়ে অসন্তোষ, চাপে ভারতের মধ্যবিত্ত ও করদাতা শ্রেণি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শক্তিশালী হচ্ছে কর্তৃত্ববাদী শাসন, নেতৃত্বে নতুন মুখের উত্থান

মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের চিঠি দেখেননি ইউনূস, জানালেন প্রেস সচিব

মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের পাঠানো চিঠি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার তিনি বলেন, চিঠিটি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা অবগত নন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না—এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

সরকারের অবস্থান স্পষ্ট
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই বলে পুনর্ব্যক্ত করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নিবন্ধন বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এই বাস্তবতায় আইনগতভাবেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

নিবন্ধন স্থগিতের আইনি প্রেক্ষাপট
শফিকুল আলম জানান, নিবন্ধন স্থগিত থাকায় নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা আবারও তুলে ধরেন।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের চিঠি প্রসঙ্গ
সম্প্রতি পাঁচজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রেস সচিব বলেন, তিনি চিঠিটি দেখেননি এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।

চিঠিতে কী বলা হয়েছে
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির র‍্যাঙ্কিং সদস্য গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া উপকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা এবং র‍্যাঙ্কিং সদস্য সিডনি কামলাজার-ডোভসহ কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। তাঁরা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রয়েছে এমন একটি নির্বাচনে সরকার বেছে নেওয়ার, যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও মানবাধিকার প্রসঙ্গ
চিঠিতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েও মন্তব্য করা হয়। বলা হয়, জাতীয় সংকটের সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিতর্কিত প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করলে অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত অপরাধের দায় ব্যক্তির ওপর আরোপের নীতিকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থগিত করা এসব নীতির সঙ্গে অসঙ্গত বলেও চিঠিতে মন্তব্য করা হয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের কয়লাখনি বিস্ফোরণ: প্রযুক্তির অগ্রগতির আড়ালে রয়ে গেছে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ জীবন

মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের চিঠি দেখেননি ইউনূস, জানালেন প্রেস সচিব

০৭:২২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যের পাঠানো চিঠি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার তিনি বলেন, চিঠিটি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা অবগত নন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে না—এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

সরকারের অবস্থান স্পষ্ট
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই বলে পুনর্ব্যক্ত করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নিবন্ধন বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এই বাস্তবতায় আইনগতভাবেই দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

নিবন্ধন স্থগিতের আইনি প্রেক্ষাপট
শফিকুল আলম জানান, নিবন্ধন স্থগিত থাকায় নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। পররাষ্ট্র সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই অবস্থানের কথা আবারও তুলে ধরেন।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের চিঠি প্রসঙ্গ
সম্প্রতি পাঁচজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রেস সচিব বলেন, তিনি চিঠিটি দেখেননি এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।

চিঠিতে কী বলা হয়েছে
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির র‍্যাঙ্কিং সদস্য গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া উপকমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা এবং র‍্যাঙ্কিং সদস্য সিডনি কামলাজার-ডোভসহ কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। তাঁরা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণের অধিকার রয়েছে এমন একটি নির্বাচনে সরকার বেছে নেওয়ার, যেখানে সব রাজনৈতিক দল অংশ নিতে পারে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও মানবাধিকার প্রসঙ্গ
চিঠিতে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েও মন্তব্য করা হয়। বলা হয়, জাতীয় সংকটের সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করা বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিতর্কিত প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করলে অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত অপরাধের দায় ব্যক্তির ওপর আরোপের নীতিকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কোনো একটি রাজনৈতিক দলের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থগিত করা এসব নীতির সঙ্গে অসঙ্গত বলেও চিঠিতে মন্তব্য করা হয়।