১০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাণিজ্যের নতুন পথ, জলবায়ুর পুরোনো বিপদ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসায় নতুন বাস্তবতা: আর্থিক সক্ষমতার পরীক্ষায় অনিশ্চিত গ্রিন কার্ড পাকিস্তানে পেট্রোল ভর্তুকিতে ৩০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন পটিয়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব, দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা তৃতীয় দেশে নির্বাসন: পানামায় পাঠানো ইরানি খ্রিষ্টানের অনিশ্চিত জীবন জার্মানিতে ডানপন্থার উত্থানের জ্বালানি: হারিয়ে যাওয়া গৌরবের নস্টালজিয়া জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোয় তাইয়েবকে হুমকির অভিযোগ, তদন্তের দাবি এডিপি বাস্তবায়নে পাঁচ বছরের সর্বনিম্ন হার, দুই মাসে অগ্রগতি মাত্র ১.৮৫ শতাংশ ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ১,৬৫৫

তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানে বিশ্বব্যাংকের নতুন অর্থায়ন, বাংলাদেশে অনুমোদন ১৫০ কোটি ডলার

বাংলাদেশের তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান, আয় ও সুযোগ বাড়াতে আরও ১৫০ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থায়নের মূল লক্ষ্য স্বল্প আয়ের তরুণ, বিশেষ করে নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা।

আরও বিস্তৃত হবে রেইজ প্রকল্প
বিশ্বব্যাংকের এই অতিরিক্ত অর্থায়ন যাবে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন প্রকল্পে। এর ফলে সারা দেশে আরও প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার তরুণ নতুন করে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ পাবেন। এর আগে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই লাখ ৩৩ হাজার তরুণ উপকৃত হয়েছেন।

দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমন্বিত সহায়তা
প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা দক্ষতা প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধাসহ একটি সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজ পাবেন। এর মাধ্যমে তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বাধা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা
এই প্রকল্পে নারীর ক্ষমতায়নে নতুন উদ্যোগ যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মানসম্মত শিশু যত্নসেবার সুযোগ এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকার ব্যবস্থা, যা জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক গেইল মার্টিন বলেন, একটি ভালো চাকরি একটি মানুষের জীবন, পরিবার ও সমাজ বদলে দিতে পারে। তবে প্রতি বছর শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অনেক তরুণ কাজ খুঁজে পান না। পাশাপাশি দেশে দক্ষতার ঘাটতি ও কর্মসংস্থানের মান নিয়েও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারের তরুণ, বিশেষ করে নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ বাজারভিত্তিক দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও সম্পদের সুযোগ পাবেন, যা তাদের ভালো কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছাবে সহায়তা
এই অর্থায়নের ফলে প্রকল্পের কার্যক্রম শুধু শহরকেন্দ্রিক না থেকে গ্রামাঞ্চলেও বিস্তৃত হবে। এতে দেশের প্রান্তিক তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার আওতায় আসবেন।

শিশু যত্নসেবায় নতুন উদ্যোগ
নারীদের জন্য ঘরে বসে শিশু যত্নসেবার মানসম্মত ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এ জন্য নারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক অনুদান দেওয়া হবে। এতে একদিকে নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে যত্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কর্মসংস্থান সংযোগ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির উদ্যোগ
নারীদের জন্য জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতায়ন জোরদার করা হবে। পাশাপাশি চাকরি মেলার আয়োজন, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং চুক্তি আলোচনায় সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

প্রকল্পের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্পের দলনেতা আনিকা রহমান বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে, যা রেইজ প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন অর্থায়নের ফলে সফল উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত করা, ক্ষুদ্র ঋণের সুযোগ বাড়ানো এবং মানসম্মত শিশু যত্নসেবার মতো নতুন সমাধান যুক্ত করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ শেষ করা শিক্ষানবিশদের ৮০ শতাংশের বেশি তিন মাসের মধ্যে চাকরি পেয়েছেন। পাশাপাশি তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আয় ও ব্যবসা পরিচালনায় ইতিবাচক উন্নতির কথা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে রেইজ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ৩৫০ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাণিজ্যের নতুন পথ, জলবায়ুর পুরোনো বিপদ

তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানে বিশ্বব্যাংকের নতুন অর্থায়ন, বাংলাদেশে অনুমোদন ১৫০ কোটি ডলার

০৮:০০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান, আয় ও সুযোগ বাড়াতে আরও ১৫০ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থায়নের মূল লক্ষ্য স্বল্প আয়ের তরুণ, বিশেষ করে নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা।

আরও বিস্তৃত হবে রেইজ প্রকল্প
বিশ্বব্যাংকের এই অতিরিক্ত অর্থায়ন যাবে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন প্রকল্পে। এর ফলে সারা দেশে আরও প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার তরুণ নতুন করে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ পাবেন। এর আগে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই লাখ ৩৩ হাজার তরুণ উপকৃত হয়েছেন।

দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমন্বিত সহায়তা
প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা দক্ষতা প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধাসহ একটি সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজ পাবেন। এর মাধ্যমে তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বাধা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা
এই প্রকল্পে নারীর ক্ষমতায়নে নতুন উদ্যোগ যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মানসম্মত শিশু যত্নসেবার সুযোগ এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকার ব্যবস্থা, যা জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক গেইল মার্টিন বলেন, একটি ভালো চাকরি একটি মানুষের জীবন, পরিবার ও সমাজ বদলে দিতে পারে। তবে প্রতি বছর শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অনেক তরুণ কাজ খুঁজে পান না। পাশাপাশি দেশে দক্ষতার ঘাটতি ও কর্মসংস্থানের মান নিয়েও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারের তরুণ, বিশেষ করে নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ বাজারভিত্তিক দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও সম্পদের সুযোগ পাবেন, যা তাদের ভালো কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছাবে সহায়তা
এই অর্থায়নের ফলে প্রকল্পের কার্যক্রম শুধু শহরকেন্দ্রিক না থেকে গ্রামাঞ্চলেও বিস্তৃত হবে। এতে দেশের প্রান্তিক তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার আওতায় আসবেন।

শিশু যত্নসেবায় নতুন উদ্যোগ
নারীদের জন্য ঘরে বসে শিশু যত্নসেবার মানসম্মত ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এ জন্য নারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক অনুদান দেওয়া হবে। এতে একদিকে নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে যত্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কর্মসংস্থান সংযোগ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির উদ্যোগ
নারীদের জন্য জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতায়ন জোরদার করা হবে। পাশাপাশি চাকরি মেলার আয়োজন, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং চুক্তি আলোচনায় সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

প্রকল্পের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্পের দলনেতা আনিকা রহমান বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে, যা রেইজ প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন অর্থায়নের ফলে সফল উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত করা, ক্ষুদ্র ঋণের সুযোগ বাড়ানো এবং মানসম্মত শিশু যত্নসেবার মতো নতুন সমাধান যুক্ত করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ শেষ করা শিক্ষানবিশদের ৮০ শতাংশের বেশি তিন মাসের মধ্যে চাকরি পেয়েছেন। পাশাপাশি তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আয় ও ব্যবসা পরিচালনায় ইতিবাচক উন্নতির কথা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে রেইজ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ৩৫০ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।