১১:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
মেট গালা ২০২৬: বাজ লুরম্যানের আফটার-পার্টিতে তারকাদের ঝলক, রাতভর জমকালো উদযাপন ভিনটেজ শিশু পোশাকে ফিরে পাওয়া স্মৃতি: উত্তরাধিকার না পেয়েও গড়ে ওঠা নতুন ঐতিহ্য আইএমএফ এর কাছ থেকে নতুন ঋণ, জনজীবনে চাপ কি আরও বাড়বে স্যামসাংয়ের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক, এআই চিপ চাহিদায় এশিয়ার প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন উত্থান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফরে তিস্তা প্রসঙ্গ, কী আছে মহাপরিকল্পনায় তেলবাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আশায় কমল অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো বিবেচনা করছে ইরান জাপানে মসজিদ নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা, ফুজিসাওয়ায় মুসলিমবিরোধী প্রচারণা নিয়ে উদ্বেগ ইরানের দাবি, মার্কিন হুমকি থামতেই হরমুজে নিরাপদ ট্রানজিট পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার নিয়ে বিজেপিকর্মীদের মিছিল, ভাঙচুর

তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানে বিশ্বব্যাংকের নতুন অর্থায়ন, বাংলাদেশে অনুমোদন ১৫০ কোটি ডলার

বাংলাদেশের তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান, আয় ও সুযোগ বাড়াতে আরও ১৫০ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থায়নের মূল লক্ষ্য স্বল্প আয়ের তরুণ, বিশেষ করে নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা।

আরও বিস্তৃত হবে রেইজ প্রকল্প
বিশ্বব্যাংকের এই অতিরিক্ত অর্থায়ন যাবে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন প্রকল্পে। এর ফলে সারা দেশে আরও প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার তরুণ নতুন করে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ পাবেন। এর আগে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই লাখ ৩৩ হাজার তরুণ উপকৃত হয়েছেন।

দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমন্বিত সহায়তা
প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা দক্ষতা প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধাসহ একটি সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজ পাবেন। এর মাধ্যমে তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বাধা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা
এই প্রকল্পে নারীর ক্ষমতায়নে নতুন উদ্যোগ যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মানসম্মত শিশু যত্নসেবার সুযোগ এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকার ব্যবস্থা, যা জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক গেইল মার্টিন বলেন, একটি ভালো চাকরি একটি মানুষের জীবন, পরিবার ও সমাজ বদলে দিতে পারে। তবে প্রতি বছর শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অনেক তরুণ কাজ খুঁজে পান না। পাশাপাশি দেশে দক্ষতার ঘাটতি ও কর্মসংস্থানের মান নিয়েও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারের তরুণ, বিশেষ করে নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ বাজারভিত্তিক দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও সম্পদের সুযোগ পাবেন, যা তাদের ভালো কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছাবে সহায়তা
এই অর্থায়নের ফলে প্রকল্পের কার্যক্রম শুধু শহরকেন্দ্রিক না থেকে গ্রামাঞ্চলেও বিস্তৃত হবে। এতে দেশের প্রান্তিক তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার আওতায় আসবেন।

শিশু যত্নসেবায় নতুন উদ্যোগ
নারীদের জন্য ঘরে বসে শিশু যত্নসেবার মানসম্মত ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এ জন্য নারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক অনুদান দেওয়া হবে। এতে একদিকে নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে যত্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কর্মসংস্থান সংযোগ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির উদ্যোগ
নারীদের জন্য জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতায়ন জোরদার করা হবে। পাশাপাশি চাকরি মেলার আয়োজন, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং চুক্তি আলোচনায় সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

প্রকল্পের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্পের দলনেতা আনিকা রহমান বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে, যা রেইজ প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন অর্থায়নের ফলে সফল উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত করা, ক্ষুদ্র ঋণের সুযোগ বাড়ানো এবং মানসম্মত শিশু যত্নসেবার মতো নতুন সমাধান যুক্ত করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ শেষ করা শিক্ষানবিশদের ৮০ শতাংশের বেশি তিন মাসের মধ্যে চাকরি পেয়েছেন। পাশাপাশি তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আয় ও ব্যবসা পরিচালনায় ইতিবাচক উন্নতির কথা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে রেইজ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ৩৫০ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেট গালা ২০২৬: বাজ লুরম্যানের আফটার-পার্টিতে তারকাদের ঝলক, রাতভর জমকালো উদযাপন

তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানে বিশ্বব্যাংকের নতুন অর্থায়ন, বাংলাদেশে অনুমোদন ১৫০ কোটি ডলার

০৮:০০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান, আয় ও সুযোগ বাড়াতে আরও ১৫০ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থায়নের মূল লক্ষ্য স্বল্প আয়ের তরুণ, বিশেষ করে নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা।

আরও বিস্তৃত হবে রেইজ প্রকল্প
বিশ্বব্যাংকের এই অতিরিক্ত অর্থায়ন যাবে অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন প্রকল্পে। এর ফলে সারা দেশে আরও প্রায় এক লাখ ৭৬ হাজার তরুণ নতুন করে কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ পাবেন। এর আগে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই লাখ ৩৩ হাজার তরুণ উপকৃত হয়েছেন।

দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সমন্বিত সহায়তা
প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা দক্ষতা প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ঋণ সুবিধাসহ একটি সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজ পাবেন। এর মাধ্যমে তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কর্মসংস্থান এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বাধা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা
এই প্রকল্পে নারীর ক্ষমতায়নে নতুন উদ্যোগ যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মানসম্মত শিশু যত্নসেবার সুযোগ এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকার ব্যবস্থা, যা জলবায়ুজনিত ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

বিশ্বব্যাংকের মন্তব্য
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক গেইল মার্টিন বলেন, একটি ভালো চাকরি একটি মানুষের জীবন, পরিবার ও সমাজ বদলে দিতে পারে। তবে প্রতি বছর শ্রমবাজারে প্রবেশ করা অনেক তরুণ কাজ খুঁজে পান না। পাশাপাশি দেশে দক্ষতার ঘাটতি ও কর্মসংস্থানের মান নিয়েও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারের তরুণ, বিশেষ করে নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ বাজারভিত্তিক দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও সম্পদের সুযোগ পাবেন, যা তাদের ভালো কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছাবে সহায়তা
এই অর্থায়নের ফলে প্রকল্পের কার্যক্রম শুধু শহরকেন্দ্রিক না থেকে গ্রামাঞ্চলেও বিস্তৃত হবে। এতে দেশের প্রান্তিক তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার আওতায় আসবেন।

শিশু যত্নসেবায় নতুন উদ্যোগ
নারীদের জন্য ঘরে বসে শিশু যত্নসেবার মানসম্মত ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এ জন্য নারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক অনুদান দেওয়া হবে। এতে একদিকে নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়বে, অন্যদিকে যত্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কর্মসংস্থান সংযোগ ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির উদ্যোগ
নারীদের জন্য জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতায়ন জোরদার করা হবে। পাশাপাশি চাকরি মেলার আয়োজন, নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং চুক্তি আলোচনায় সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সংযোগ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

প্রকল্পের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্পের দলনেতা আনিকা রহমান বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে, যা রেইজ প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন অর্থায়নের ফলে সফল উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত করা, ক্ষুদ্র ঋণের সুযোগ বাড়ানো এবং মানসম্মত শিশু যত্নসেবার মতো নতুন সমাধান যুক্ত করা সম্ভব হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ শেষ করা শিক্ষানবিশদের ৮০ শতাংশের বেশি তিন মাসের মধ্যে চাকরি পেয়েছেন। পাশাপাশি তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আয় ও ব্যবসা পরিচালনায় ইতিবাচক উন্নতির কথা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে রেইজ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াল ৩৫০ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।