০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
ধর্মের আসল পরীক্ষা ঈশ্বরের শক্তির নয়, মানুষের বিবেকের আমেরিকার নতুন কৌশল, আসিয়ানের কঠিন ভারসাম্য সাগরে ৩৬ দিন ধরে ভেসে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করল বাংলাদেশি জেলেরা মারধরের পর ছাত্রলীগ পরিচয়ে কারাগারে, যা ঘটেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হবিগঞ্জে এনসিপি-ছাত্রদল সংঘর্ষ, ব্যাংকে অবরুদ্ধ পাটওয়ারী ও সারজিস সন্তানহীন হয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহর, কমছে শিশুর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটে বিধিনিষেধ, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাইল ট্রাম্প প্রশাসন হংকংয়ের সাবেক বিরোধী নেতা উ চি-ওয়াইকে যুক্তরাজ্যে ছয় মাস থাকার অনুমতি ২১ বছর বয়সেই সাহিত্যজগতে ঝড় তুলেছিলেন ব্রেট ইস্টন এলিস, ‘লেস দ্যান জিরো’ নিয়ে মুখ খুললেন ত্বকের যত্নে নতুন চমক, একসঙ্গে আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা দেবে টোনার প্যাড

শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি, ৬৩ শতাংশ সংবাদ নেতিবাচক: গবেষণা

বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ধর্ষণ, হত্যা ও নানামুখী নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে থাকায় শিশুরা গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—এমন চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

গবেষণার পটভূমি

স্টেট অব চাইল্ড রাইটস–২০২৫ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়। গণমাধ্যম বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদনে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত শিশু বিষয়ক সংবাদ পর্যালোচনা করা হয়েছে।

ভয়াবহ পরিসংখ্যান

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু সংশ্লিষ্ট মোট ১ হাজার ৮৬৭টি নেতিবাচক সংবাদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ১৭০টি ঘটনায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার তথ্য রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান শিশুদের যৌন নিরাপত্তা ও জীবন সুরক্ষার ওপর গুরুতর হুমকির দিকটি স্পষ্ট করে।

দেশে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে | দৈনিক আলোকিত সকাল

আয়োজন ও অংশগ্রহণ

সচেতন সংঘের উদ্যোগে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাকটিভিস্টস নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সহায়তায় এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সচেতন সংঘের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা পারভীন। আলোচনা পরিচালনা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

রাজনৈতিক অঙ্গীকারের আহ্বান

গবেষণার মূল তথ্য উপস্থাপন করে স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাকটিভিস্টস নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল বলেন, শিশু অধিকার সুরক্ষায় দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে শিশু অধিকার নিশ্চিত করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিশুদের রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে কঠোর আইন, দ্রুত বিচার এবং ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।

BD Today | শিশু একাডেমি এখন যাবে কোথায়

শিশুদের ওপর অস্থির সময়ের প্রভাব

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম বলেন, দেশ একটি অস্থির সময় পার করছে, যার প্রভাব শিশুদের ওপরও পড়ছে। পরিবারভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা পরিবারের সদস্যদের দ্বারাই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা তাদের সার্বিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন এবং এ ক্ষেত্রে শিশু একাডেমির সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, সংবাদভিত্তিক এই বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে ২০২৫ সালে শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার মুখোমুখি হয়েছে। কিছু ইতিবাচক সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ থাকলেও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, বিশেষ করে যৌন নির্যাতন ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, এখনও গভীর উদ্বেগের কারণ। তিনি দ্রুত ও কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ, পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আরও শিশু-বান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্মের আসল পরীক্ষা ঈশ্বরের শক্তির নয়, মানুষের বিবেকের

শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি, ৬৩ শতাংশ সংবাদ নেতিবাচক: গবেষণা

০৮:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। ধর্ষণ, হত্যা ও নানামুখী নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে থাকায় শিশুরা গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—এমন চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

গবেষণার পটভূমি

স্টেট অব চাইল্ড রাইটস–২০২৫ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়। গণমাধ্যম বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদনে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত শিশু বিষয়ক সংবাদ পর্যালোচনা করা হয়েছে।

ভয়াবহ পরিসংখ্যান

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু সংশ্লিষ্ট মোট ১ হাজার ৮৬৭টি নেতিবাচক সংবাদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ১৭০টি ঘটনায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার তথ্য রয়েছে। এসব পরিসংখ্যান শিশুদের যৌন নিরাপত্তা ও জীবন সুরক্ষার ওপর গুরুতর হুমকির দিকটি স্পষ্ট করে।

দেশে শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে | দৈনিক আলোকিত সকাল

আয়োজন ও অংশগ্রহণ

সচেতন সংঘের উদ্যোগে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাকটিভিস্টস নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সহায়তায় এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সচেতন সংঘের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা পারভীন। আলোচনা পরিচালনা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

রাজনৈতিক অঙ্গীকারের আহ্বান

গবেষণার মূল তথ্য উপস্থাপন করে স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাকটিভিস্টস নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল বলেন, শিশু অধিকার সুরক্ষায় দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে শিশু অধিকার নিশ্চিত করার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে শিশুদের রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে কঠোর আইন, দ্রুত বিচার এবং ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।

BD Today | শিশু একাডেমি এখন যাবে কোথায়

শিশুদের ওপর অস্থির সময়ের প্রভাব

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম বলেন, দেশ একটি অস্থির সময় পার করছে, যার প্রভাব শিশুদের ওপরও পড়ছে। পরিবারভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা পরিবারের সদস্যদের দ্বারাই নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা তাদের সার্বিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন এবং এ ক্ষেত্রে শিশু একাডেমির সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজন

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, সংবাদভিত্তিক এই বিশ্লেষণ স্পষ্টভাবে দেখায় যে ২০২৫ সালে শিশুরা চরম নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার মুখোমুখি হয়েছে। কিছু ইতিবাচক সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ থাকলেও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, বিশেষ করে যৌন নির্যাতন ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, এখনও গভীর উদ্বেগের কারণ। তিনি দ্রুত ও কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ, পরিবার ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আরও শিশু-বান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেন।