০৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
এআই কি সত্যিই কাজ সহজ করছে, নাকি বাড়াচ্ছে মানসিক অবসাদ? উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে ট্রাক-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪ কাজী সালাউদ্দিন আবারও সাফ সভাপতি নির্বাচিত মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে ‘বোমাসদৃশ’ বস্তু, পরীক্ষা শেষে মিলল জর্দার কৌটা; আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান স্কুলে ফেরার ঘণ্টা বাজছে, কিন্তু এবার ছুটি শেষ হোক—মন চাইছে না নিরাপত্তারক্ষীর সংকট, সমাধানে রোবট কুকুর ও ড্রোনের দিকে ঝুঁকছে প্রতিষ্ঠানগুলো গাজা নিয়ে নতুন রোডম্যাপ চুক্তি ফিফার পিছু হটা: বিশ্বকাপ কি শুধু একটি টুর্নামেন্ট, নাকি বৈশ্বিক ফুটবলের যৌথ সম্পদ? গাজায় শান্তির নতুন জানালা, নাকি আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি? নিখোঁজ মানুষের দেশে রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি

কাঁপছে গোমতী সেতু, যান চলাচল সাময়িক বন্ধ

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির গোমতী নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুতে ভারী যান চলাচলের সময় অস্বাভাবিক কাঁপুনি অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালক ও স্থানীয়রা। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় সেতুটির ওপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সেতু কাঁপুনির কারণ কী
সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেতু কাঁপছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিশেষজ্ঞ একটি দল সেতু পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে সেতুর গার্ডার ও অ্যাবাটমেন্টের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব ত্রুটির কারণেই ভারী যান চলাচলের সময় সেতুতে কম্পন তৈরি হচ্ছে।

সেতুর অবস্থা ও ইতিহাস
সওজ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোমতী ও মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি ১৯৯৫ সালে চালু হয়। দুই লেনের সেতুটিতে মোট ১৭টি স্প্যান রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেতুর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া সেতুর পিলারের ওপর থাকা জয়েন্ট স্প্রিং ও প্লাস্টিকের কিছু অংশ দুর্বৃত্তরা চুরি করে নেওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

ভারী যান চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি
স্থানীয়দের মতে, ভারী ট্রাক, বাস ও কাভার্ডভ্যান চলাচলের সময় দাউদকান্দি অংশে সেতুটি স্পষ্টভাবে কেঁপে ওঠে। হঠাৎ ব্রেক বা ওভারটেকের সময় যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।

চালক ও যাত্রীদের উদ্বেগ
পরিবহন ব্যবসায়ী সাকু তালুকদার বলেন, সেতু থেকে গাড়ি নামার সময় কাঁপুনি স্পষ্ট বোঝা যায়। এতে চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
যাত্রী এসএম মিজান জানান, সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলার সময় কেঁপে ওঠে, যা যাত্রীদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করছে।
ঢাকা–চাঁদপুর রুটের বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রী নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় কাঁপুনি অনুভূত হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
চট্টগ্রামগামী ট্রাকচালক বাবুল মিয়া জানান, মালবোঝাই গাড়ি নিয়ে সেতু থেকে নামার সময় হঠাৎ কেঁপে ওঠে, এতে চালকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

প্রশাসন ও সওজের বক্তব্য
দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার ও পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম বলেন, সেতুর পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, সেতুর গার্ডার ও অ্যাবাটমেন্টের সংযোগস্থলে যন্ত্রাংশের ত্রুটি ধরা পড়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকি এড়াতে সেতুটির ওপর দিয়ে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে নতুন সেতু দিয়ে দুই লেনে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল ত্রুটি শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই কি সত্যিই কাজ সহজ করছে, নাকি বাড়াচ্ছে মানসিক অবসাদ? উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা

কাঁপছে গোমতী সেতু, যান চলাচল সাময়িক বন্ধ

০৮:৩২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির গোমতী নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুতে ভারী যান চলাচলের সময় অস্বাভাবিক কাঁপুনি অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালক ও স্থানীয়রা। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় সেতুটির ওপর দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সেতু কাঁপুনির কারণ কী
সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেতু কাঁপছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিশেষজ্ঞ একটি দল সেতু পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে সেতুর গার্ডার ও অ্যাবাটমেন্টের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি পাওয়া গেছে। এসব ত্রুটির কারণেই ভারী যান চলাচলের সময় সেতুতে কম্পন তৈরি হচ্ছে।

সেতুর অবস্থা ও ইতিহাস
সওজ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গোমতী ও মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি ১৯৯৫ সালে চালু হয়। দুই লেনের সেতুটিতে মোট ১৭টি স্প্যান রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে। দীর্ঘদিন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেতুর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া সেতুর পিলারের ওপর থাকা জয়েন্ট স্প্রিং ও প্লাস্টিকের কিছু অংশ দুর্বৃত্তরা চুরি করে নেওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

ভারী যান চলাচলে বাড়ছে ঝুঁকি
স্থানীয়দের মতে, ভারী ট্রাক, বাস ও কাভার্ডভ্যান চলাচলের সময় দাউদকান্দি অংশে সেতুটি স্পষ্টভাবে কেঁপে ওঠে। হঠাৎ ব্রেক বা ওভারটেকের সময় যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।

চালক ও যাত্রীদের উদ্বেগ
পরিবহন ব্যবসায়ী সাকু তালুকদার বলেন, সেতু থেকে গাড়ি নামার সময় কাঁপুনি স্পষ্ট বোঝা যায়। এতে চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
যাত্রী এসএম মিজান জানান, সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলার সময় কেঁপে ওঠে, যা যাত্রীদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করছে।
ঢাকা–চাঁদপুর রুটের বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রী নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় কাঁপুনি অনুভূত হয়, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
চট্টগ্রামগামী ট্রাকচালক বাবুল মিয়া জানান, মালবোঝাই গাড়ি নিয়ে সেতু থেকে নামার সময় হঠাৎ কেঁপে ওঠে, এতে চালকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

প্রশাসন ও সওজের বক্তব্য
দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার ও পৌর প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম বলেন, সেতুর পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা অবগত এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, সেতুর গার্ডার ও অ্যাবাটমেন্টের সংযোগস্থলে যন্ত্রাংশের ত্রুটি ধরা পড়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকি এড়াতে সেতুটির ওপর দিয়ে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে নতুন সেতু দিয়ে দুই লেনে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল ত্রুটি শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে।