১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
‘অনুপস্থিত মানেই নীরবতা নয়, খুব শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরব’: শেখ হাসিনা সংযোগ হারানোর যুগে মানুষ আবার মানুষকে খুঁজছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের শেষ ভরসাও কি ফুরিয়ে এসেছে? মুশফিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পাহাড় হাম চিকিৎসা কেন জরুরি ঘোষণা করা হচ্ছে না র‌্যাবকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা, আসছে নতুন আইন ও নাম পরিবর্তনের ভাবনা ফার্নেস অয়েলের দাম আবার বাড়ল, লিটারপ্রতি এখন ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা ঈদে টানা ৭ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক, বিশেষ এলাকায় সীমিত সেবা চালু মৃগীরোগে অচেতন চালক, সেই সুযোগে ভ্যান চুরি: ঝিনাইদহে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

উড়ে যাওয়া “বিদ্যুৎচালিত” নৌকা: শহুরে পরিবহন বদলে দেবে কি?

শহুরে পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছেঃ স্টকহোমের তুষারমাখা নদীর পানিতে যেসব নৌকা ভেসে চলছে, তাদের গতির মাঝে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি। সাধারণ স্পিডবোটের মতো দেখতে এই নৌকাগুলি যখন খোলা পানিতে পড়ে, সেগুলি একটি অদ্ভুত কায়দায় জল থেকে উঠে যায়। জলপৃষ্ঠ থেকে আধা মিটার উপরে “উড়ে” যাচ্ছে বলে মনে হয়। কারণ হ’ল হাইড্রোফয়েল নামের বিশেষ ডানা পানির নিচে গিয়ে নৌকাটিকে ত্বরান্বিত গতিতে টেনে তুলছে এবং খুব কম ঘর্ষণ শক্তি থাকায় শক্তি ব্যবহারে ৮০ শতাংশ কম লাগে।

হাইড্রোফয়েল কীভাবে কাজ করে?
শান্তির সঙ্গে গতির সমন্বয়

এই নৌকাগুলির নিচে লাল রঙের পাতলা তিনটি ডাঁয়া রয়েছে। এগুলোর নিচে দুটি হাইড্রোফয়েল বা পানির নিচের ডানা স্থাপিত। এগুলো নৌকাকে এমনভাবে তোলার কাজ করে যে পুরো শরীর জল থেকে উঠে যায়। ডানা এবং সেন্সর ভরা আধুনিক প্রযুক্তি ১০০ বার প্রতি সেকেন্ডে পানি এবং ঢেউয়ের তথ্য সংগ্রহ করে নৌকাকে অত্যন্ত স্থির ও মসৃণভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়। ফলে মনে হয় যেন রেলপথে চলছে।

শহুরে নৌযান হিসাবে সুবিধা ও সম্ভাবনা
এই “ফ্লাইং” নৌকাগুলি বেশি শব্দ করে না, দূষণ ছাড়ে না এবং খরচও কম। প্রচলিত নৌকাগুলোর তুলনায় এগুলো দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে কারণ এগুলো পানির ঢেউ সৃষ্টি কম করে এবং দ্রুতগতিতে চলতে পারবে এমন অনুমতি পেতে পারে। সমর্থকদের মতে, জ্যাম হওয়া সড়কগুলোর পরিবর্তে এসব জলপথ ব্যবহৃত হলে শহুরে পরিবহন ব্যবস্থা অনেক দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে।

Flying” electric boats could remake urban transport

বিশ্বব্যাপী পরীক্ষামূলক ব্যবহার আর অগ্রগতি
বিশ্বের বিভিন্ন শহরই এখন এই দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। সুইডেন ভিত্তিক কোম্পানি ক্যান্ডেলা ইতোমধ্যেই শতাধিক লজারি নৌকা অনুপ্রেরণা হিসেবে বানিয়েছে এবং আরো বেশ কিছু ফারি তৈরির অর্ডার পেয়েছে। নৌকা বানানোর প্রতিযোগীরা বিভিন্ন দেশে রয়েছে এবং ছোট যাত্রীবাহী নৌকা থেকে বড় পরিবহনে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব নৌকা শুধু পরিবহন নয়, সামরিক কাজে ব্যবহারও উপযোগী হবে কারণ এগুলো শান্ত ও কম তাপ উৎপন্ন করে।

প্রযুক্তির বিকাশ ও নির্মাণ ব্যয় কমানো
পুরোনো হাইড্রোফয়েলের ধারণা নতুন নয়, ১৯০৪ সাল থেকেই এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল। তবে আধুনিক নকশা সম্পূর্ণ ডুবানো ডানা ব্যবহার করে, যা ঘর্ষণ কমিয়ে স্থিতিশীলতা বাড়ায়। এটি সম্ভব হয়েছে স্মার্টফোন, ড্রোন আর স্বচালিত গাড়ির মতো প্রযুক্তির উন্নতির কারণে। নৌকাগুলি আরো হালকা ও শক্তিশালী করতে বিমানের মতো কার্বন ফাইবার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এখন তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে এবং উৎপাদন সহজ করছে।

ভবিষ্যতের পরিবহন: জলপথে “নীল মহাসড়ক”
বিশ্বের অর্ধেক মানুষ সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে, যেখানে শহরগুলো জ্যামে ভরপুর। এখানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে জলপথ একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বড় বড় ফেরিগুলো যেখানে প্রচুর জ্বালানি ব্যবহার করে, সেখানে এসব যান্ত্রিকভাবে উন্নত ছোট নৌকা কম জ্বালানিতে দ্রুত পরিষেবা দিতে পারবে। সুইডেন, নরওয়ে, সৌদি আরব, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এসব নৌকার চাহিদা জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি আরো বিস্তৃত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘অনুপস্থিত মানেই নীরবতা নয়, খুব শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরব’: শেখ হাসিনা

উড়ে যাওয়া “বিদ্যুৎচালিত” নৌকা: শহুরে পরিবহন বদলে দেবে কি?

০৪:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শহুরে পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছেঃ স্টকহোমের তুষারমাখা নদীর পানিতে যেসব নৌকা ভেসে চলছে, তাদের গতির মাঝে লুকিয়ে আছে এক অসাধারণ বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি। সাধারণ স্পিডবোটের মতো দেখতে এই নৌকাগুলি যখন খোলা পানিতে পড়ে, সেগুলি একটি অদ্ভুত কায়দায় জল থেকে উঠে যায়। জলপৃষ্ঠ থেকে আধা মিটার উপরে “উড়ে” যাচ্ছে বলে মনে হয়। কারণ হ’ল হাইড্রোফয়েল নামের বিশেষ ডানা পানির নিচে গিয়ে নৌকাটিকে ত্বরান্বিত গতিতে টেনে তুলছে এবং খুব কম ঘর্ষণ শক্তি থাকায় শক্তি ব্যবহারে ৮০ শতাংশ কম লাগে।

হাইড্রোফয়েল কীভাবে কাজ করে?
শান্তির সঙ্গে গতির সমন্বয়

এই নৌকাগুলির নিচে লাল রঙের পাতলা তিনটি ডাঁয়া রয়েছে। এগুলোর নিচে দুটি হাইড্রোফয়েল বা পানির নিচের ডানা স্থাপিত। এগুলো নৌকাকে এমনভাবে তোলার কাজ করে যে পুরো শরীর জল থেকে উঠে যায়। ডানা এবং সেন্সর ভরা আধুনিক প্রযুক্তি ১০০ বার প্রতি সেকেন্ডে পানি এবং ঢেউয়ের তথ্য সংগ্রহ করে নৌকাকে অত্যন্ত স্থির ও মসৃণভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়। ফলে মনে হয় যেন রেলপথে চলছে।

শহুরে নৌযান হিসাবে সুবিধা ও সম্ভাবনা
এই “ফ্লাইং” নৌকাগুলি বেশি শব্দ করে না, দূষণ ছাড়ে না এবং খরচও কম। প্রচলিত নৌকাগুলোর তুলনায় এগুলো দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে কারণ এগুলো পানির ঢেউ সৃষ্টি কম করে এবং দ্রুতগতিতে চলতে পারবে এমন অনুমতি পেতে পারে। সমর্থকদের মতে, জ্যাম হওয়া সড়কগুলোর পরিবর্তে এসব জলপথ ব্যবহৃত হলে শহুরে পরিবহন ব্যবস্থা অনেক দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে।

Flying” electric boats could remake urban transport

বিশ্বব্যাপী পরীক্ষামূলক ব্যবহার আর অগ্রগতি
বিশ্বের বিভিন্ন শহরই এখন এই দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। সুইডেন ভিত্তিক কোম্পানি ক্যান্ডেলা ইতোমধ্যেই শতাধিক লজারি নৌকা অনুপ্রেরণা হিসেবে বানিয়েছে এবং আরো বেশ কিছু ফারি তৈরির অর্ডার পেয়েছে। নৌকা বানানোর প্রতিযোগীরা বিভিন্ন দেশে রয়েছে এবং ছোট যাত্রীবাহী নৌকা থেকে বড় পরিবহনে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এসব নৌকা শুধু পরিবহন নয়, সামরিক কাজে ব্যবহারও উপযোগী হবে কারণ এগুলো শান্ত ও কম তাপ উৎপন্ন করে।

প্রযুক্তির বিকাশ ও নির্মাণ ব্যয় কমানো
পুরোনো হাইড্রোফয়েলের ধারণা নতুন নয়, ১৯০৪ সাল থেকেই এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল। তবে আধুনিক নকশা সম্পূর্ণ ডুবানো ডানা ব্যবহার করে, যা ঘর্ষণ কমিয়ে স্থিতিশীলতা বাড়ায়। এটি সম্ভব হয়েছে স্মার্টফোন, ড্রোন আর স্বচালিত গাড়ির মতো প্রযুক্তির উন্নতির কারণে। নৌকাগুলি আরো হালকা ও শক্তিশালী করতে বিমানের মতো কার্বন ফাইবার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এখন তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে এবং উৎপাদন সহজ করছে।

ভবিষ্যতের পরিবহন: জলপথে “নীল মহাসড়ক”
বিশ্বের অর্ধেক মানুষ সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে, যেখানে শহরগুলো জ্যামে ভরপুর। এখানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে জলপথ একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বড় বড় ফেরিগুলো যেখানে প্রচুর জ্বালানি ব্যবহার করে, সেখানে এসব যান্ত্রিকভাবে উন্নত ছোট নৌকা কম জ্বালানিতে দ্রুত পরিষেবা দিতে পারবে। সুইডেন, নরওয়ে, সৌদি আরব, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে এসব নৌকার চাহিদা জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি আরো বিস্তৃত হতে পারে।