নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ধারাবাহিক স্ট্রেঞ্জার থিংসের শেষ মৌসুমে দর্শক যে ভিজ্যুয়াল ভাষা ও আবহের ভিন্নতা অনুভব করছেন, তার পেছনে রয়েছে বহু পরিচিত ও অল্পচেনা অনুপ্রেরণার জটিল মিশ্রণ। ধারাবাহিকটির নির্মাতা ভাই ম্যাট ডাফার ও রস ডাফার জানিয়েছেন, আশির দশকের কিশোরদের ঘিরে তৈরি এই গল্পের শেষ পর্বগুলোতে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সিনেমা ও ভিডিও গেমের ইতিহাস থেকে নানা রকম ইঙ্গিত ও শৈল্পিক ধারণা ব্যবহার করেছেন, তবে সবকিছু সরাসরি নয়, অনেকটা আড়ালে।
নস্টালজিয়ার ধারাবাহিকতা ও নতুন ছোঁয়া
সিরিজটির শুরু থেকেই সত্তরের ও আশির দশকের জনপ্রিয় সংস্কৃতির স্মৃতি ছিল এর মূল শক্তি। স্টিফেন কিং, স্টিভেন স্পিলবার্গ কিংবা জন কার্পেন্টারের প্রভাব আগের মতোই রয়ে গেছে। তবে শেষ মৌসুমে এসে নির্মাতারা আরও গভীরে গিয়ে কিছু কম পরিচিত ছবি ও ভিজ্যুয়াল কৌশলকে গল্পের সঙ্গে মিশিয়েছেন, যাতে ভয়, উত্তেজনা ও আবেগ একসঙ্গে কাজ করে।

ডিস্টোপিয়ান ক্যামেরা ভাষা
চতুর্থ পর্বে সামরিক শিবিরে বন্দি শিশুদের উদ্ধারের দৃশ্যে ক্যামেরার চলন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এই অংশের অনুপ্রেরণা এসেছে ভবিষ্যৎ ধ্বংসস্তূপের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এক বিখ্যাত চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ট্র্যাকিং শট থেকে। বাস্তবে দৃশ্যটি একটানা শটে ধারণ করা না হলেও ডিজিটাল কৌশলে জোড়া লাগিয়ে সেই অনুভূতি তৈরি করা হয়েছে, যাতে দর্শক চরিত্রদের সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াতে বাধ্য হয়।
দানবের চোখে দেখা আতঙ্ক

এই মৌসুমে উইল চরিত্রটি এমন সব দৃষ্টিভ্রম আক্রান্ত হয়, যেখানে সে দানবের চোখ দিয়েই পৃথিবীকে দেখে। এই দৃষ্টিভঙ্গির অনুপ্রেরণা এসেছে একদিকে আশির দশকের ভৌতিক কমেডি চলচ্চিত্রের দ্রুতগতির ক্যামেরা ব্যবহার থেকে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ অপরাধের ইঙ্গিত দেখাতে ব্যবহৃত ঝাপসা ভিজ্যুয়াল কৌশল থেকে। নির্মাতাদের মতে, আলাদা রঙ বা ফিল্টার ব্যবহার না করে এই পদ্ধতি গল্পকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করেছে।
স্মৃতির ভেতরের জগৎ ও রঙের ব্যবহার
ভিলেন হেনরি ক্রিলের স্মৃতির ভেতর বন্দি শিশুদের দৃশ্যগুলো বাস্তব জগতের থেকে আলাদা বোঝাতে রঙের বিশেষ ব্যবহার করা হয়েছে। শুরুতে অতিরিক্ত রঙিন আবহ ভাবা হলেও তা বাদ দিয়ে ফরাসি নতুন ধারার চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত শান্ত কিন্তু গভীর রঙ বেছে নেওয়া হয়। বনভূমির সবুজে আনা হয়েছে এমন এক বিশেষ আভা, যা স্বপ্ন ও বাস্তবের মাঝামাঝি এক জগত তৈরি করে।

আশির দশকের কৌশল ও ঘরোয়া ফাঁদ
দানব ঠেকাতে কিশোরদের তৈরি ঘরোয়া ফাঁদ দর্শকদের আবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় আশির দশকের ভৌতিক ছবির স্মৃতিতে। নির্মাতাদের মতে, সেই সময়ের চলচ্চিত্রে ঘরে বানানো ফাঁদ সবসময়ই নিখুঁতভাবে কাজ করত, আর সেই সরল কিন্তু সন্তোষজনক ধারণাটিই তারা আবার ফিরিয়ে এনেছেন।
ভিডিও গেমের প্রভাব
শেষ পর্বগুলোতে ইলেভেনের শারীরিক সক্ষমতা ও চলাফেরার ভঙ্গিতে স্পষ্ট ভিডিও গেমের ছাপ রয়েছে। ছাদ থেকে ছাদে লাফানো কিংবা দ্রুতগতির আক্রমণ এসেছে নিনজা ধাঁচের জনপ্রিয় গেম থেকে। নির্মাতারা স্বীকার করেছেন, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ভিডিও গেম তাদের কল্পনার বড় উৎস।
এই শেষ মৌসুমে স্ট্রেঞ্জার থিংস শুধু গল্পের পরিসমাপ্তিই নয়, বরং বহু দশকের ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতির প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্য হয়ে উঠেছে, যেখানে পরিচিত স্মৃতির সঙ্গে অচেনা প্রভাব মিলেমিশে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















