১০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি জাতিসংঘ অধিবেশনে গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান পাকিস্তানের থার্ড পার্টি অ্যাপ হ্যাক করে বিগকমার্সের ক্রেতাদের তথ্য ফাঁস ইসলামাবাদে পিটিআই নেতাদের বাড়িতে অভিযানের অভিযোগ, এসএসপিকে তলব হাইকোর্টের পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনার ইঙ্গিত, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ‘সোনালি সুযোগ’ বলছে তেহরান সিঁড়ি ভাঙার এই সহজ অভ্যাসই বাড়াতে পারে আয়ু, বলছেন চিকিৎসকেরা বিগ ফার্মার প্রবৃদ্ধির সংকট, সমাধান হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ অধিগ্রহণ ইয়েমেনের হুথিদের চাপে সৌদি আরব: তেলের পথ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি নয়, নিজেকে ভালোবাসার ১০ উপায়

ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে সংঘবদ্ধ হামলা, ছিনতাই ১০ রাউন্ড গুলি

নীলফামারীর ডিমলায় বুড়ি তিস্তা নদী পুনঃখনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় আনসার ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালানো হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে সরকারি ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার সময় ও পটভূমি

ডিমলায় বুড়ি তিস্তা খনন নিয়ে সংঘর্ষ, আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর

বুধবার ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বুড়ি তিস্তা নদীর তীরবর্তী আনসার ক্যাম্প ও খনন প্রকল্প এলাকায় এই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজের প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন সরকারি ছুটির দিনে কাজের প্রস্তুতি নেওয়ায় স্থানীয়দের আপত্তির মুখে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেনি; বরং তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়।

পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাটি হঠাৎ সৃষ্ট কোনো উত্তেজনার ফল নয়। বরং এটি ছিল পরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা। সন্ধ্যার দিকে আলীম নামে এক ব্যক্তি মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই হাজারের বেশি মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায়।

আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর ও লুট

ক্যাম্পে কর্মরত আনসার সদস্য এনামুল হক জানান, হামলাকারীরা সদস্যদের থাকার কক্ষ, অফিস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ক্যাম্পে সংরক্ষিত রেশন, আনসার সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত মালামাল লুট করে নেওয়া হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনতাই করা হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও আহতের সংখ্যা

পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্পে ব্যবহৃত সাতটি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন হামলার শিকার হন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক, আনসার সদস্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন।

No photo description available.

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, হামলা ও ভাঙচুরে আনুমানিক দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি একে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারি জমি উদ্ধারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আনসার সদস্যদের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই বাহিনীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাইকৃত গুলি উদ্ধারে অভিযান চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি

ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে সংঘবদ্ধ হামলা, ছিনতাই ১০ রাউন্ড গুলি

০১:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলায় বুড়ি তিস্তা নদী পুনঃখনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় আনসার ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালানো হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিক হিসাবে সরকারি ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার সময় ও পটভূমি

ডিমলায় বুড়ি তিস্তা খনন নিয়ে সংঘর্ষ, আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর

বুধবার ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বুড়ি তিস্তা নদীর তীরবর্তী আনসার ক্যাম্প ও খনন প্রকল্প এলাকায় এই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজের প্রস্তুতি নিলে স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন সরকারি ছুটির দিনে কাজের প্রস্তুতি নেওয়ায় স্থানীয়দের আপত্তির মুখে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি শান্ত করতে পারেনি; বরং তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়।

পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাটি হঠাৎ সৃষ্ট কোনো উত্তেজনার ফল নয়। বরং এটি ছিল পরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা। সন্ধ্যার দিকে আলীম নামে এক ব্যক্তি মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই হাজারের বেশি মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায়।

আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর ও লুট

ক্যাম্পে কর্মরত আনসার সদস্য এনামুল হক জানান, হামলাকারীরা সদস্যদের থাকার কক্ষ, অফিস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ক্যাম্পে সংরক্ষিত রেশন, আনসার সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত মালামাল লুট করে নেওয়া হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনতাই করা হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।

প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও আহতের সংখ্যা

পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্পে ব্যবহৃত সাতটি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন হামলার শিকার হন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক, আনসার সদস্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন।

No photo description available.

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, হামলা ও ভাঙচুরে আনুমানিক দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি একে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারি জমি উদ্ধারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আনসার সদস্যদের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই বাহিনীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাইকৃত গুলি উদ্ধারে অভিযান চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।