যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো ভবনে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দুই শতাব্দীর গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় ব্রিটিশ আমল থেকে সংরক্ষিত দলিলপত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
রাতের অগ্নিকাণ্ড
বৃহস্পতিবার রাত প্রায় নয়টার দিকে পুরোনো ভবনে আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই ভলিউম বই, বালাম রেজিস্টার, সূচিপত্রসহ বহু মূল্যবান নথি আগুনে পুড়ে যায়। দমকল বাহিনী পৌঁছানোর আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

দমকলের অভিযান
যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, খবর পেয়ে দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ভবনের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে কেউ ছিল না। তালা ভেঙে প্রবেশ করে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
নথির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
কর্তৃপক্ষ জানায়, পুরোনো নথি সংরক্ষিত দুটি কক্ষ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। যেসব নথি আগুনে নষ্ট হয়নি, সেগুলোর বড় অংশ আগুন নেভাতে ব্যবহৃত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

দুই শতকের দলিল ধ্বংস
যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক কর্মকর্তা শামসুজ্জামান মিলন জানান, ওই ভবনে ১৭৪১ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশপাশের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংরক্ষিত ছিল। ভবনটি খুব কমই খোলা হতো। অধিকাংশ নথি পুরোপুরি পুড়ে গেছে, আর বাকিগুলো পানিতে নষ্ট হয়েছে।
রহস্য ও সন্দেহ
যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, আগুন লাগার সময় রাতের পাহারাদার হীরা সেখানে ছিলেন না। স্থানীয় দোকানিরা জানান, ভবনে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না, ফলে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা নেই। তাদের ধারণা, আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হতে পারে।

তদন্ত শুরু
কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















