এডেন
ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবার সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েনের সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হুতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা দক্ষিণ ইয়েমেনের জন্য এডেন বিমানবন্দরই আন্তর্জাতিক যোগাযোগের প্রধান ভরসা। হঠাৎ ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রীদের ভিড় জমে, অনিশ্চয়তায় পড়েন চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণকারীরা।
হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা জানান, কোনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় তারা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। কায়রোতে চিকিৎসার জন্য যাওয়া এক যাত্রী বলেন, অসুস্থ মানুষ ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দিনভর বিভ্রান্তির মধ্যেই পরে ইয়েমেনি সূত্রে জানানো হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়া অন্য গন্তব্যে এডেন থেকে ফ্লাইট পুনরায় চালু হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
ফ্লাইট বন্ধের পেছনে কার সিদ্ধান্ত—তা নিয়ে একাধিক দাবি সামনে এসেছে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব আকাশ অবরোধের মতো ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সব ফ্লাইটকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য সৌদি ভূখণ্ড দিয়ে যেতে বলেছে। পরে দাবি করা হয়, এই সীমাবদ্ধতা মূলত এডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার ফ্লাইটের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
অন্যদিকে সৌদি সূত্র এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারই উত্তেজনা কমাতে এডেন–আমিরাত রুটে শর্ত আরোপ করেছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রিত পরিবহন মন্ত্রণালয় ওই শর্ত মানতে না পেরে পুরো বিমান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেয়। তবে পরিবহন মন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর বন্ধের কোনো নির্দেশ মন্ত্রী দেননি।

রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা
এই অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল ঘিরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গভীর মতবিরোধ। আমিরাত-সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় ট্রানজিশনাল কাউন্সিল সম্প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেয়। সৌদি আরব এ পদক্ষেপকে হুমকি হিসেবে দেখছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সৌদি আরব তাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে লাল রেখা ঘোষণা করেছে, আর আমিরাত ইয়েমেন থেকে অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই দক্ষিণ ইয়েমেনের একটি বন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার ঘটনাও ঘটে, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। এডেন বিমানবন্দরের ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই বড় দ্বন্দ্বেরই একটি দৃশ্যমান ফল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















