০১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ভারত থেকে আমদানি কমায় বেনাপোলে ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি এক হাজার কোটি ছাড়াল আত্রাই নদীতে মিলল দুই তরুণের মরদেহ, রহস্যজনক হত্যার সন্দেহ নদীতে বেড়ে চলেছে অজ্ঞাত মরদেহ নাসিরনগরে সংঘর্ষে সাবেক ইউপি সদস্য নিহত, আহত অন্তত ৩০ ভোলায় ভুল রক্ত দেওয়ার অভিযোগে তরুণীর মৃত্যু ইরানে রক্তাক্ত দমন-পীড়ন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর জবাবের ইঙ্গিত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করলেই যুক্তরাষ্ট্রে পঁচিশ শতাংশ শুল্ক, চূড়ান্ত ঘোষণা ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের এশিয়ায় মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ঘাটতির আশঙ্কা, ইরান সংকটে নতুন উদ্বেগ নির্বাচনের অজুহাতে সব ভোট স্থগিত, ক্ষোভে ফুঁসছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়

‘তাদের কাজ একটাই, অ্যাপস খোলেন, ভাড়া মারেন, আমাদের কমিশন আমাদের দেন’

  • Sarakhon Report
  • ০৫:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪
  • 156

অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে অনেক তরুণ

শাহনেওয়াজ রকি

প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সাইকেল চালিয়ে ঢাকার একটি আবাসিক এলাকায় পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছিলেন সাদ্দাম হোসেন (ছদ্মনাম)। তার সাইকেলে বড় বড় দু’টি ব্যাগ আর কাঁধে আরেকটি ব্যাগে গ্রাহকদের নানারকম পণ্য।

২০২১ সালে কোভিড মহামারির সময় চাকরি চলে গেলে সংসারের খরচ জোগাতে তিনি এই কাজ শুরু করেন। একটি অ্যাপে রাইডার বা ডেলিভারিম্যান হিসেবে নিবন্ধন করে কাজ শুরু করেন তিনি।

প্রতিদিন তাকে গড়ে তিন-চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৩০-৪০টি বাসা, কখনও বা তারও বেশি বাসাবাড়িতে পণ্য ডেলিভারি দিতে হয়। এ জন্য তার একটি সাইকেল কিনতে হয়েছে যেটি দিয়ে তিনি পণ্য ডেলিভারি দেন।

গত এক দশকে বাংলাদেশে এ ধরনের একটি নতুন শ্রমখাত তৈরি হয়েছে। যেখানে অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং, খাবার ও পণ্য ডেলিভারির মতো কাজ করেন কয়েক লাখ লোক।

অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করলেও এসব শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা আছে, এই বিষয়ে জানতে চাইলে অনেকেই তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না, এবং কোন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন তাও জানাতে চান না। তবে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বিবিসির কাছে তুলে ধরেছেন।

পণ্য ডেলিভারি দিতে যাচ্ছেন একজন ডেলিভারিম্যান

অ্যাপভিত্তিক পণ্য ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেন এমন একজন জানান- তাদের এই কাজে অনেক সময় টাকা হারিয়ে যায়, পকেট থেকে মানিব্যাগ পড়ে যায়। তখন নিজের টাকা দিয়ে ওই ক্ষতিপূরণ করতে হয়।

আবার পার্সেল ডেলিভারি দিতে কোন ভবনের ভেতর প্রবেশ করলে, বাইরে রেখে যাওয়া ব্যাগ থেকেও পণ্য চুরি হয়ে যায়। এগুলোর ক্ষতিপূরণও নিজেদের দিতে হয়।

“এগুলো একটা চ্যালেঞ্জ এই কাজের”- বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রাইডার।

তিনি বলেন- “আমার একবার আঠার হাজার টাকার পণ্য হারিয়ে গিয়েছিলো, পরে আমার বেতন থেকে মাসে মাসে সে টাকা কেটে নেওয়া হয়।”

”সাধারণত পণ্য হারিয়ে গেলে কোম্পানিকে জানাতে হয়, কোম্পানি সময় দেয় যে এতদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবেন। অনেক সময় আবার দিনে দিনে পরিশোধ করতে হয়, যেভাবেই হোক দিনে দিনে টাকা এনে দিতে হয়।”

খাবার ডেলিভারি দেওয়া প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা শ্রমিকদেরও অভিজ্ঞতা প্রায় একই রকম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খাবার ডেলিভারিম্যান জানান- অনেক সময় গ্রাহকের কাছে খাবার নিয়ে গেলে- দেরি হয়েছে, খাবার নষ্ট হয়েছে এসব বলে সেটা ফিরিয়ে দেন। এতে তারা কোন ধরনের কমিশন পান না। ফলে শ্রম ও সময় ব্যয় করার পরেও তার কোন আয় হয় না।

তিনি বলেন, “খাবার গ্রাহকের কাছে নিয়ে গেলে তারা যদি সেটা গ্রহণ করে তবেই আমরা ডেলিভারি চার্জটা পাবো। আর গ্রহণ না করলেও আমরাও কোন কমিশন পাবো না, কোম্পানিরও কিছু লস আছে, মানে ওই খাবারটা কোম্পানি ফেরত নেয় আরকি। অনেক সময় খাবার রেস্টুরেন্টে জমা দিই, আবার কিছু ক্ষেত্রে অফিসে জমা দিই।”

মূলত কমিশনের ভিত্তিতে অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করেন এসব শ্রমিকরা।

যদিও পণ্য ডেলিভারিতে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে মাসিক বেতন ও ডেলিভারির পরিমাণের উপর কিছু কমিশন দেয় কিন্তু রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন কোন সুবিধা নেই।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় ডেলিভারিম্যানদের

অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের সুরক্ষা কতটুকু?

কিছু অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান প্রতিটি রাইডের বিপরীতে চালকের কাছ থেকে ১০-১৫% কমিশন কেটে রাখে।

আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ সেবা বিক্রি করে। যেমন কোন একজন চালক- একদিন, তিনদিন বা এক সপ্তাহের একটি রাইড শেয়ারিং প্যাকেজ কিনেন। এখন ওই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যত খুশি রাইড শেয়ার করতে পারেন চালক। এতে তাকে আর বাড়তি কোন কমিশন আর দিতে হয় না।

রাইডার ও ডেলিভারিম্যানরা জানান- সহজ মনে হলেও এই কাজগুলো বেশ ঝুকিপূর্ণ। যেহেতু বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার হার অনেক বেশি। তাই পণ্য ডেলিভারি বা রাইড শেয়ার করতে গেলে অনেক সময় তাদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।

এক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ওসব রাইডার বা ডেলিভারিম্যানদের দায়িত্ব নেয় না বলে জানান।

সাঈদ হোসেন নামে একজন রাইড শেয়ারিং চালক জানান, তিনি পাঁচ বছর ধরে মোটর সাইকেল দিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে রাইড শেয়ার করেন। দুইবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং একবার লম্বা সময় বিশ্রামে থাকতে হয়েছে।

তার অভিযোগ, ”প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছে বিপদের সময় আমাদের পাশে থাকছে না।”

তিনি বলেন, “ওই সময়ে আমাদের কারও কাছ থেকে টাকা ধার করতে হয়, না হয় জমা টাকা খরচ করতে হয়। কোন কোম্পানিতে চাকরি করলে এসব ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের খোঁজ নিতো, আমার সংসার কীভাবে চলছে, আমি কীভাবে চলছি এসব জেনে ফান্ড থেকে হয়তো কিছু টাকা দিতো। এসব ক্ষেত্রে তো আমাদের কোম্পানি এক টাকা দিয়েও সাহায্য করে না।”

এমন কি অ্যাপের ব্যবহার নিয়ে কোন ধরনের প্রশিক্ষণও তাদের দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন সাঈদ হোসেন।

“দুর্ঘটনা ঘটলে এই পদক্ষেপ নিবেন, টাকা কম দিলে এই পদক্ষেপ নিবেন এগুলো তো কোম্পানি আমাদের শেখায় না কখনও। তাদের কাজ একটাই, অ্যাপ্স খোলেন, ভাড়া মারেন, আমাদের কমিশন আমাদের দেন।”

সাঈদ হোসেন, রাইড শেয়ার চালক

কিছু কিছু রাইডারদের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা দিলেও তারা সেগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন এবং কীভাবে এসব সুবিধা নিতে হয় তাও জানে না।

“আমাদের রাইডার অনেকেই অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে, কিন্তু অফিস থেকে কেউ কিছু পেয়েছে এমন আমি দেখিনি। সব দায়ভার, খরচ আমাদেরই বহন করতে হয়। অফিস থেকে বীমা না কী জানি করেছে শুনেছিলাম, কিন্তু কেউ পেয়েছে কিনা আমি জানি না। আমি একবার অ্যাক্সিডেন্ট করেছিলাম, আমি কিছু পাইনি, কারণ আমি বীমাতে অংশগ্রহণ করিনি। অ্যাক্সিডেন্ট করলে তাই আমাদের নিজেদেরই সমস্যা হয়,” তিনি বলেন।

ফ্রিল্যান্সার, পার্টনার, কর্মী নাকি শ্রমিক?

শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন- বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট লেবার স্টাডিজ বা বিলস এসব অ্যাপভিত্তিক শ্রমখাতের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের উপর ছোট আকারে একটি গবেষণা করেছে। এতে অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে চারটি বিষয় উঠে আসে।

১। শ্রমিকদের অসহায়ত্ব

এসব শ্রমিকরা কোন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করলেও তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা থাকে না। ফলে তাদের দাবীদাওয়া অভাব অভিযোগগুলো তুলে ধরতে পারে না। এমনকি অ্যাপভিত্তিক প্লাটফর্মগুলো তাদের শ্রমিক বলেও স্বীকৃতি দেয় না।

২। কাজের চাপ

যেহেতু বেকার জনগোষ্ঠীর একটা অংশ এই খাতে যুক্ত হয়েছে এবং যতক্ষণ কাজ ততক্ষণ আয়, এই নীতিতে কাজ করতে হয়, তাই এই খাতের বেশিরভাগ শ্রমিক অতিরিক্ত কাজ করেন।

৩। ব্যক্তিগত জীবনে বিরূপ প্রভাব

বাড়তি আয়ের জন্য দিনের দীর্ঘ সময় কাজ বাইরে কাজ করতে হয় ফলে পারিবারিক জীবনের উপর প্রভাব পড়ে। এছাড়া দুর্ঘটনার শিকার হলে যেহেতু প্রতিষ্ঠান দায় নেয় না, ফলে আর্থিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৪। সমষ্টিগত দাবী আদায়ের সুযোগ না থাকা

শ্রমিক মালিকের যে সম্পর্ক এইখাতে তা পুরোপুরি অনুপস্থিত। প্রতিষ্ঠানগুলো এসব শ্রমিকদের কর্মী বলে স্বীকার করে না। ফ্রিল্যান্সার হওয়ায় এবং অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত হওয়ায় তারা সমষ্টিগত দাবী আদায়ের কোন সুযোগ পান না।

সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, বিলস

বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদের মতে- বাংলাদেশের কোন আইনেই এই অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের কোন সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। ফলে তাদের একটি অধিকারহীন একটি পরিবেশে কাজ করছে।

সুলতান আহমেদ বলেন, “এখানে কাজ করতে হয় একটা সফটওয়্যারের মাধ্যমে, একটি প্লাটফর্মে তাকে নিবন্ধিত করে। প্লাটফর্মে নিবন্ধিত করার কারণে সে জানে না যে কীভাবে মালিকপক্ষ পর্যন্ত যেতে হয়। সে হয়তো প্লাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারে, কিন্তু জানে না জবাব পাবে কিনা।”

“আরেকটা বিভ্রান্তি হচ্ছে তাকে কখনও বলা হয় পার্টনার, কখনও বলা হয় স্বনিয়োজিত শ্রমিক, বা ফ্রিল্যান্সার। এই ধরনের অনেকগুলো অবস্থার মধ্যে তাদের ফেলে দেওয়া হয়েছে।”

দাবী আদায়ে অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের মামলা

অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উবারের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলো আসলাম নামে এক উবার রাইড শেয়ারিং চালকসহ আরও বেশ কয়েকজন।

২০২১ সালে “Uber BV and others v Aslam and others” নামে দায়েরকৃত ওই মামলায় রায়ে যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত উবার চালকদের প্রতিষ্ঠানটির কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আদেশ দেয়। যাতে কর্মী হিসেবে অ্যাপভিত্তিক চালকরা যাবতীয় সুরক্ষা পায়।

উবারের যুক্তরাজ্য সাইটে গিয়ে দেখা যায়, সে দেশে অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ার চালকরা দুর্ঘটনা, অসুস্থতা ও নবজাতকের জন্য আর্থিক সহায়তা পায়।

যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালতে অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রায়

বাংলাদেশে আইনি সুরক্ষা কতটা?

বাংলাদেশের শ্রম আইনে অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কোন কিছু উল্লেখ নাই। ফলে তারা সকল ধরনের আইনি সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাফরুল হাসান শরিফ বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় ন্যুনতম মজুরি নাই, তার বদলে খাত ভিত্তিক মজুরি রয়েছে। কিন্তু অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোন ধরনের খাত এবং এই খাতের ফ্রিল্যান্সারদের কী ধরনের শ্রমিক হিসেবে উল্ল্যেখ করা হবে তা নিয়ে কোন নীতিমালা নাই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা শ্রমিকদের কোন আইনি সুরক্ষাও নেই।

মি. জাফরুল বলেন, “আমাদের শ্রম আইনে বলা আছে, কোন ধরনের নিয়োগপত্র ছাড়া, কোন ধরনের পরিচয়পত্র ছাড়া আপনি কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন না। এই বিধানগুলো কিন্তু আমাদের আইনে আছে।”

“অ্যাপভিত্তিক যারা সেবা প্রদান করে থাকেন তারা অ্যাপে নিবন্ধন করেন। কিন্তু তাদের কোন নিয়োগপত্র দেয়া হয় না, আইডি কার্ড দেন না। যদি নিয়োগপত্র থাকতো তাহলে অনেক অধিকার আদায়ের সুযোগ থাকতো। যতক্ষণ পর্যন্ত তার নিয়োগপত্র নাই ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা প্রমাণ করতে পারছি না উনি তাদের কর্মচারী।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাফরুল হাসান শরিফ

কী বলছে বাংলাদেশের অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো?

বর্তমানে বাংলাদেশে বিআরটিএ’র তালিকাভুক্ত রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান আছে ১৫টি।

এছাড়া পণ্য ও খাবার ডেলিভারি সেবা দেয় এমন আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে রাইড শেয়ারিং, পণ্য ও খাবার ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই খাতে পাঠাও, উবার, ফুডপান্ডার বেশ বড় একটা অংশ দখলে রয়েছে।

ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানিয়েছে, আপদকালীন সময়ের জন্য তাদের রাইডার বা পার্টনারের জন্য বীমা সুরক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে তারা। এছাড়া তাদের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ ছাড়ে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পান তাদের রাইডাররা।

ফুডপান্ডার ডিরেক্টর অপারেশন্স খন্দকার আন্দালিব হাসান মাসনুন বিবিসিকে বলেন, “ লাইফ ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা আছে আমাদের। যখনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আমাদের এখানে কেউ যুক্ত হন তখন খুবই কম খরচে আপনি একটা লাইফ ইনস্যুরেন্স পেয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে কোন দুর্ঘটনার শিকার হলে ওই ইনস্যুরেন্সটা আপনাকে সুরক্ষা দিবে।”

”ধরুন আপনি কাজ করছেন কিন্তু কোন ইনস্যুরেন্স নাই এবং একটা দুর্ঘটনা হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে আমরা বলি যে- এরিয়া ম্যানেজার বলে আমাদের কিছু কর্মী থাকে বিভিন্ন এলাকায়, আমরা বলি যে এরিয়া ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেন, আমরা নিজেরাও কাছাকাছি থাকলে সাহায্য করার চেষ্টা করি। অথবা আশেপাশের কোন রাইডার থাকলে তাকে বলি যে সাহায্য করতে।”

রাইড শেয়ারিং বা ডেলিভারির সাথে যুক্তদের কী রকম সুরক্ষা দেয় এই বিষয়ে অন্যান্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বাংলাদেশে অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোন খাতে অন্তর্ভূক্ত হবে এ নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

আইনজীবি এবং গবেষকরা বলছেন, এর ফলে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকরা নূন্যতম মজুরিসহ অন্যান্য যে সুরক্ষা পেয়ে থাকেন, অ্যপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা অনেক শ্রমিক সে সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।

বিবিসি নিউজ বাংলা

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত থেকে আমদানি কমায় বেনাপোলে ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি এক হাজার কোটি ছাড়াল

‘তাদের কাজ একটাই, অ্যাপস খোলেন, ভাড়া মারেন, আমাদের কমিশন আমাদের দেন’

০৫:৩৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ মে ২০২৪

শাহনেওয়াজ রকি

প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সাইকেল চালিয়ে ঢাকার একটি আবাসিক এলাকায় পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছিলেন সাদ্দাম হোসেন (ছদ্মনাম)। তার সাইকেলে বড় বড় দু’টি ব্যাগ আর কাঁধে আরেকটি ব্যাগে গ্রাহকদের নানারকম পণ্য।

২০২১ সালে কোভিড মহামারির সময় চাকরি চলে গেলে সংসারের খরচ জোগাতে তিনি এই কাজ শুরু করেন। একটি অ্যাপে রাইডার বা ডেলিভারিম্যান হিসেবে নিবন্ধন করে কাজ শুরু করেন তিনি।

প্রতিদিন তাকে গড়ে তিন-চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৩০-৪০টি বাসা, কখনও বা তারও বেশি বাসাবাড়িতে পণ্য ডেলিভারি দিতে হয়। এ জন্য তার একটি সাইকেল কিনতে হয়েছে যেটি দিয়ে তিনি পণ্য ডেলিভারি দেন।

গত এক দশকে বাংলাদেশে এ ধরনের একটি নতুন শ্রমখাত তৈরি হয়েছে। যেখানে অ্যাপভিত্তিক বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং, খাবার ও পণ্য ডেলিভারির মতো কাজ করেন কয়েক লাখ লোক।

অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করলেও এসব শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা আছে, এই বিষয়ে জানতে চাইলে অনেকেই তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না, এবং কোন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন তাও জানাতে চান না। তবে তাদের অভিজ্ঞতার কথা বিবিসির কাছে তুলে ধরেছেন।

পণ্য ডেলিভারি দিতে যাচ্ছেন একজন ডেলিভারিম্যান

অ্যাপভিত্তিক পণ্য ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেন এমন একজন জানান- তাদের এই কাজে অনেক সময় টাকা হারিয়ে যায়, পকেট থেকে মানিব্যাগ পড়ে যায়। তখন নিজের টাকা দিয়ে ওই ক্ষতিপূরণ করতে হয়।

আবার পার্সেল ডেলিভারি দিতে কোন ভবনের ভেতর প্রবেশ করলে, বাইরে রেখে যাওয়া ব্যাগ থেকেও পণ্য চুরি হয়ে যায়। এগুলোর ক্ষতিপূরণও নিজেদের দিতে হয়।

“এগুলো একটা চ্যালেঞ্জ এই কাজের”- বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রাইডার।

তিনি বলেন- “আমার একবার আঠার হাজার টাকার পণ্য হারিয়ে গিয়েছিলো, পরে আমার বেতন থেকে মাসে মাসে সে টাকা কেটে নেওয়া হয়।”

”সাধারণত পণ্য হারিয়ে গেলে কোম্পানিকে জানাতে হয়, কোম্পানি সময় দেয় যে এতদিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ করবেন। অনেক সময় আবার দিনে দিনে পরিশোধ করতে হয়, যেভাবেই হোক দিনে দিনে টাকা এনে দিতে হয়।”

খাবার ডেলিভারি দেওয়া প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা শ্রমিকদেরও অভিজ্ঞতা প্রায় একই রকম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খাবার ডেলিভারিম্যান জানান- অনেক সময় গ্রাহকের কাছে খাবার নিয়ে গেলে- দেরি হয়েছে, খাবার নষ্ট হয়েছে এসব বলে সেটা ফিরিয়ে দেন। এতে তারা কোন ধরনের কমিশন পান না। ফলে শ্রম ও সময় ব্যয় করার পরেও তার কোন আয় হয় না।

তিনি বলেন, “খাবার গ্রাহকের কাছে নিয়ে গেলে তারা যদি সেটা গ্রহণ করে তবেই আমরা ডেলিভারি চার্জটা পাবো। আর গ্রহণ না করলেও আমরাও কোন কমিশন পাবো না, কোম্পানিরও কিছু লস আছে, মানে ওই খাবারটা কোম্পানি ফেরত নেয় আরকি। অনেক সময় খাবার রেস্টুরেন্টে জমা দিই, আবার কিছু ক্ষেত্রে অফিসে জমা দিই।”

মূলত কমিশনের ভিত্তিতে অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করেন এসব শ্রমিকরা।

যদিও পণ্য ডেলিভারিতে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে মাসিক বেতন ও ডেলিভারির পরিমাণের উপর কিছু কমিশন দেয় কিন্তু রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন কোন সুবিধা নেই।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় ডেলিভারিম্যানদের

অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের সুরক্ষা কতটুকু?

কিছু অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান প্রতিটি রাইডের বিপরীতে চালকের কাছ থেকে ১০-১৫% কমিশন কেটে রাখে।

আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান প্যাকেজ সেবা বিক্রি করে। যেমন কোন একজন চালক- একদিন, তিনদিন বা এক সপ্তাহের একটি রাইড শেয়ারিং প্যাকেজ কিনেন। এখন ওই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যত খুশি রাইড শেয়ার করতে পারেন চালক। এতে তাকে আর বাড়তি কোন কমিশন আর দিতে হয় না।

রাইডার ও ডেলিভারিম্যানরা জানান- সহজ মনে হলেও এই কাজগুলো বেশ ঝুকিপূর্ণ। যেহেতু বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনার হার অনেক বেশি। তাই পণ্য ডেলিভারি বা রাইড শেয়ার করতে গেলে অনেক সময় তাদের দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।

এক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান ওসব রাইডার বা ডেলিভারিম্যানদের দায়িত্ব নেয় না বলে জানান।

সাঈদ হোসেন নামে একজন রাইড শেয়ারিং চালক জানান, তিনি পাঁচ বছর ধরে মোটর সাইকেল দিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে রাইড শেয়ার করেন। দুইবার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন এবং একবার লম্বা সময় বিশ্রামে থাকতে হয়েছে।

তার অভিযোগ, ”প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছে বিপদের সময় আমাদের পাশে থাকছে না।”

তিনি বলেন, “ওই সময়ে আমাদের কারও কাছ থেকে টাকা ধার করতে হয়, না হয় জমা টাকা খরচ করতে হয়। কোন কোম্পানিতে চাকরি করলে এসব ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের খোঁজ নিতো, আমার সংসার কীভাবে চলছে, আমি কীভাবে চলছি এসব জেনে ফান্ড থেকে হয়তো কিছু টাকা দিতো। এসব ক্ষেত্রে তো আমাদের কোম্পানি এক টাকা দিয়েও সাহায্য করে না।”

এমন কি অ্যাপের ব্যবহার নিয়ে কোন ধরনের প্রশিক্ষণও তাদের দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন সাঈদ হোসেন।

“দুর্ঘটনা ঘটলে এই পদক্ষেপ নিবেন, টাকা কম দিলে এই পদক্ষেপ নিবেন এগুলো তো কোম্পানি আমাদের শেখায় না কখনও। তাদের কাজ একটাই, অ্যাপ্স খোলেন, ভাড়া মারেন, আমাদের কমিশন আমাদের দেন।”

সাঈদ হোসেন, রাইড শেয়ার চালক

কিছু কিছু রাইডারদের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা দিলেও তারা সেগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন এবং কীভাবে এসব সুবিধা নিতে হয় তাও জানে না।

“আমাদের রাইডার অনেকেই অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে, কিন্তু অফিস থেকে কেউ কিছু পেয়েছে এমন আমি দেখিনি। সব দায়ভার, খরচ আমাদেরই বহন করতে হয়। অফিস থেকে বীমা না কী জানি করেছে শুনেছিলাম, কিন্তু কেউ পেয়েছে কিনা আমি জানি না। আমি একবার অ্যাক্সিডেন্ট করেছিলাম, আমি কিছু পাইনি, কারণ আমি বীমাতে অংশগ্রহণ করিনি। অ্যাক্সিডেন্ট করলে তাই আমাদের নিজেদেরই সমস্যা হয়,” তিনি বলেন।

ফ্রিল্যান্সার, পার্টনার, কর্মী নাকি শ্রমিক?

শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন- বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট লেবার স্টাডিজ বা বিলস এসব অ্যাপভিত্তিক শ্রমখাতের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের উপর ছোট আকারে একটি গবেষণা করেছে। এতে অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে চারটি বিষয় উঠে আসে।

১। শ্রমিকদের অসহায়ত্ব

এসব শ্রমিকরা কোন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করলেও তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা থাকে না। ফলে তাদের দাবীদাওয়া অভাব অভিযোগগুলো তুলে ধরতে পারে না। এমনকি অ্যাপভিত্তিক প্লাটফর্মগুলো তাদের শ্রমিক বলেও স্বীকৃতি দেয় না।

২। কাজের চাপ

যেহেতু বেকার জনগোষ্ঠীর একটা অংশ এই খাতে যুক্ত হয়েছে এবং যতক্ষণ কাজ ততক্ষণ আয়, এই নীতিতে কাজ করতে হয়, তাই এই খাতের বেশিরভাগ শ্রমিক অতিরিক্ত কাজ করেন।

৩। ব্যক্তিগত জীবনে বিরূপ প্রভাব

বাড়তি আয়ের জন্য দিনের দীর্ঘ সময় কাজ বাইরে কাজ করতে হয় ফলে পারিবারিক জীবনের উপর প্রভাব পড়ে। এছাড়া দুর্ঘটনার শিকার হলে যেহেতু প্রতিষ্ঠান দায় নেয় না, ফলে আর্থিকভাবেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৪। সমষ্টিগত দাবী আদায়ের সুযোগ না থাকা

শ্রমিক মালিকের যে সম্পর্ক এইখাতে তা পুরোপুরি অনুপস্থিত। প্রতিষ্ঠানগুলো এসব শ্রমিকদের কর্মী বলে স্বীকার করে না। ফ্রিল্যান্সার হওয়ায় এবং অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত হওয়ায় তারা সমষ্টিগত দাবী আদায়ের কোন সুযোগ পান না।

সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, বিলস

বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদের মতে- বাংলাদেশের কোন আইনেই এই অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের কোন সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। ফলে তাদের একটি অধিকারহীন একটি পরিবেশে কাজ করছে।

সুলতান আহমেদ বলেন, “এখানে কাজ করতে হয় একটা সফটওয়্যারের মাধ্যমে, একটি প্লাটফর্মে তাকে নিবন্ধিত করে। প্লাটফর্মে নিবন্ধিত করার কারণে সে জানে না যে কীভাবে মালিকপক্ষ পর্যন্ত যেতে হয়। সে হয়তো প্লাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারে, কিন্তু জানে না জবাব পাবে কিনা।”

“আরেকটা বিভ্রান্তি হচ্ছে তাকে কখনও বলা হয় পার্টনার, কখনও বলা হয় স্বনিয়োজিত শ্রমিক, বা ফ্রিল্যান্সার। এই ধরনের অনেকগুলো অবস্থার মধ্যে তাদের ফেলে দেওয়া হয়েছে।”

দাবী আদায়ে অ্যাপভিত্তিক শ্রমিকদের মামলা

অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উবারের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলো আসলাম নামে এক উবার রাইড শেয়ারিং চালকসহ আরও বেশ কয়েকজন।

২০২১ সালে “Uber BV and others v Aslam and others” নামে দায়েরকৃত ওই মামলায় রায়ে যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালত উবার চালকদের প্রতিষ্ঠানটির কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আদেশ দেয়। যাতে কর্মী হিসেবে অ্যাপভিত্তিক চালকরা যাবতীয় সুরক্ষা পায়।

উবারের যুক্তরাজ্য সাইটে গিয়ে দেখা যায়, সে দেশে অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ার চালকরা দুর্ঘটনা, অসুস্থতা ও নবজাতকের জন্য আর্থিক সহায়তা পায়।

যুক্তরাজ্যের উচ্চ আদালতে অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রায়

বাংলাদেশে আইনি সুরক্ষা কতটা?

বাংলাদেশের শ্রম আইনে অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কোন কিছু উল্লেখ নাই। ফলে তারা সকল ধরনের আইনি সুরক্ষার বাইরে রয়ে গেছেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাফরুল হাসান শরিফ বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় ন্যুনতম মজুরি নাই, তার বদলে খাত ভিত্তিক মজুরি রয়েছে। কিন্তু অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোন ধরনের খাত এবং এই খাতের ফ্রিল্যান্সারদের কী ধরনের শ্রমিক হিসেবে উল্ল্যেখ করা হবে তা নিয়ে কোন নীতিমালা নাই। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা শ্রমিকদের কোন আইনি সুরক্ষাও নেই।

মি. জাফরুল বলেন, “আমাদের শ্রম আইনে বলা আছে, কোন ধরনের নিয়োগপত্র ছাড়া, কোন ধরনের পরিচয়পত্র ছাড়া আপনি কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন না। এই বিধানগুলো কিন্তু আমাদের আইনে আছে।”

“অ্যাপভিত্তিক যারা সেবা প্রদান করে থাকেন তারা অ্যাপে নিবন্ধন করেন। কিন্তু তাদের কোন নিয়োগপত্র দেয়া হয় না, আইডি কার্ড দেন না। যদি নিয়োগপত্র থাকতো তাহলে অনেক অধিকার আদায়ের সুযোগ থাকতো। যতক্ষণ পর্যন্ত তার নিয়োগপত্র নাই ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা প্রমাণ করতে পারছি না উনি তাদের কর্মচারী।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জাফরুল হাসান শরিফ

কী বলছে বাংলাদেশের অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো?

বর্তমানে বাংলাদেশে বিআরটিএ’র তালিকাভুক্ত রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান আছে ১৫টি।

এছাড়া পণ্য ও খাবার ডেলিভারি সেবা দেয় এমন আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে রাইড শেয়ারিং, পণ্য ও খাবার ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই খাতে পাঠাও, উবার, ফুডপান্ডার বেশ বড় একটা অংশ দখলে রয়েছে।

ফুডপান্ডা কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানিয়েছে, আপদকালীন সময়ের জন্য তাদের রাইডার বা পার্টনারের জন্য বীমা সুরক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে তারা। এছাড়া তাদের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষ ছাড়ে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ পান তাদের রাইডাররা।

ফুডপান্ডার ডিরেক্টর অপারেশন্স খন্দকার আন্দালিব হাসান মাসনুন বিবিসিকে বলেন, “ লাইফ ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থা আছে আমাদের। যখনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আমাদের এখানে কেউ যুক্ত হন তখন খুবই কম খরচে আপনি একটা লাইফ ইনস্যুরেন্স পেয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে কোন দুর্ঘটনার শিকার হলে ওই ইনস্যুরেন্সটা আপনাকে সুরক্ষা দিবে।”

”ধরুন আপনি কাজ করছেন কিন্তু কোন ইনস্যুরেন্স নাই এবং একটা দুর্ঘটনা হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে আমরা বলি যে- এরিয়া ম্যানেজার বলে আমাদের কিছু কর্মী থাকে বিভিন্ন এলাকায়, আমরা বলি যে এরিয়া ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করেন, আমরা নিজেরাও কাছাকাছি থাকলে সাহায্য করার চেষ্টা করি। অথবা আশেপাশের কোন রাইডার থাকলে তাকে বলি যে সাহায্য করতে।”

রাইড শেয়ারিং বা ডেলিভারির সাথে যুক্তদের কী রকম সুরক্ষা দেয় এই বিষয়ে অন্যান্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বাংলাদেশে অ্যাপভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোন খাতে অন্তর্ভূক্ত হবে এ নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

আইনজীবি এবং গবেষকরা বলছেন, এর ফলে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকরা নূন্যতম মজুরিসহ অন্যান্য যে সুরক্ষা পেয়ে থাকেন, অ্যপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা অনেক শ্রমিক সে সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে।

বিবিসি নিউজ বাংলা