ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেও তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পথ এখনো খোলা আছে। ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে দেশটির শাসনব্যবস্থার জন্য এটিকে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিক্ষোভে রক্তপাত ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েক শত মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই বিক্ষোভকারী। গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপসহ একাধিক বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণাও আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
![]()
তেহরানের বার্তা, যোগাযোগ চলছে
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যদিও প্রকাশ্য হুমকির সঙ্গে সেগুলো সাংঘর্ষিক। তেহরান দাবি করছে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং সহিংসতার জন্য তারা বিদেশি হস্তক্ষেপকে দায়ী করছে।
অভ্যন্তরীণ চাপ ও ক্ষোভের বিস্তার
মূলত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শাসক গোষ্ঠীর পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিনের ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সরব। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট সীমিত করা হলেও বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি ও বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পথ ও ঝুঁকি
ওয়াশিংটনে শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকে কূটনীতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সাইবার হামলা কিংবা সামরিক আঘাতের মতো বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে সামরিক স্থাপনায় আঘাতের ঝুঁকি বড়, কারণ অনেক স্থাপনা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, কূটনীতিই তাদের প্রথম পছন্দ, তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলালে সিদ্ধান্ত দ্রুত আসতে পারে।
আঞ্চলিক প্রভাব ও তেলের বাজার
ইরানের অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রি প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও মিত্রগোষ্ঠীগুলোর দুর্বলতায় ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব আগের চেয়ে কমলেও যেকোনো সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















