১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৬ সালে পাকিস্তানের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত

২০২৬ সালে পা রাখতে গিয়ে পাকিস্তান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই নানা জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে একটি বড় স্বস্তির জায়গা হলো, দেশটি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হওয়ার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি আপাতত এড়িয়ে যেতে পেরেছে।

বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থান যতটা ব্যতিক্রমী, তার ভেতরের সংকটগুলোও ততটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন আরও দৃশ্যমান।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি পাকিস্তানকে স্বল্পমেয়াদে টিকে থাকার আস্থা দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, অন্তত নিকট ভবিষ্যতে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে ভেসে থাকতে পারবে।

তবু সামনে রয়েছে চ্যালেঞ্জের পাহাড়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সম্ভাব্য দুর্যোগ, ধারাবাহিকভাবে কম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জঙ্গি হামলার পুনরাবৃত্তি—সব মিলিয়ে বাস্তবতা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

২০২৫ সালে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কত দ্রুত বাড়ছে, তার স্পষ্ট স্মরণ করিয়ে দেয়। পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস—২০২৬ সালে দেশটিতে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এই দুর্যোগগুলো এমন এক সময়ে আরও কঠিন হয়ে উঠছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক শক্তিগুলো বহুপাক্ষিকতা থেকে সরে আসছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তার প্রবাহ কমে গেছে। পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে সংকটের সময় ক্রমেই নিজেদের ওপর নির্ভর করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়তে থাকা সমস্যার মোকাবিলায় প্রয়োজন হবে নতুন চিন্তা, কঠোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং নজিরবিহীন পরিবর্তন।

বর্তমানে পাকিস্তানের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে সামান্যই ছাড়িয়ে যায়। অতীতে অর্থনীতিবিদরা মনে করতেন, স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশটির প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ৬ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন—অর্থাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করাও সহজ নয়; এর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বহু কঠিন সিদ্ধান্ত।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা জোরদার করতে পাকিস্তানকে অন্তত তিনটি বড় ক্ষেত্রে বাধা অতিক্রম করতে হবে।

প্রথমত, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী। গত তিন বছরে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার—যাদের পেছনে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সমর্থন রয়েছে—এই দুই পক্ষের সংঘাত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েন বন্ধ না হলে মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ কমই থাকবে। নতুন বিনিয়োগের জোরালো ঢেউ না এলে পাকিস্তান কম প্রবৃদ্ধির চক্রেই আটকে থাকবে।

দ্বিতীয়ত, দেশের সংকট সমাধানে প্রয়োজন সর্বদলীয় জাতীয় ঐকমত্য। পাকিস্তান একটি বৈচিত্র্যময় দেশ—জাতিগত ও ভাষাগত পার্থক্যে বিভক্ত। এই বৈচিত্র্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাকে আরও জটিল করেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে বছরের পর বছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সরকারের সঙ্গে লড়াই করছে। উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ইমরান খানের অনুগতদের শাসন, যা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রাদেশিক প্রশাসনের দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়েছে।

বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া—এই দুই প্রদেশই আফগানিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন। ফলে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে প্রবেশের ক্ষেত্রে এগুলোকে প্রথম প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করছে। জঙ্গিবাদের ধারাবাহিকতা ও সশস্ত্র হামলার পুনরুত্থান এমন এক চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় কঠোর জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।

তৃতীয়ত, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গতি বাড়াতে হবে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনমান ঘিরে থাকা সমস্যাগুলোতে। প্রায় ২৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষের এই দেশে ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। একই সঙ্গে নিরক্ষরতার হার উদ্বেগজনক—মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই নিরক্ষর। এর মধ্যে নারীদের অবস্থা আরও নাজুক; নারীদের প্রায় অর্ধেকই নিরক্ষর, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এ ছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির কারণে খর্বকায়তায় ভুগছে। অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারণে ব্যর্থতা এবং সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত না হওয়াও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সংস্কার বাস্তবায়নে ঐকমত্য গড়ে তোলাই এখন শাসকগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এসব সংস্কারে ব্যর্থ হলে দারিদ্র্য আরও বাড়বে, আর তার সঙ্গে অপরাধও বৃদ্ধি পাবে—যা ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

গত এক বছরে পাকিস্তানের শাসকেরা উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফর এবং দেশে আন্তর্জাতিক অতিথি গ্রহণে ব্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সশস্ত্র সংঘাতকে ইসলামাবাদে অনেকেই ‘সাফল্য’ হিসেবে দেখেছেন; দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান পাঁচ বা ছয়টি আধুনিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

তবে এসব কূটনৈতিক সফর কিংবা সামরিক সাফল্য পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ খুব একটা বদলাবে না। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই এখন সবচেয়ে জরুরি ও প্রধান অগ্রাধিকার।

২০২৬ সালে পাকিস্তানের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত

০৮:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

২০২৬ সালে পা রাখতে গিয়ে পাকিস্তান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই নানা জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে একটি বড় স্বস্তির জায়গা হলো, দেশটি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে খেলাপি হওয়ার সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি আপাতত এড়িয়ে যেতে পেরেছে।

বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের অবস্থান যতটা ব্যতিক্রমী, তার ভেতরের সংকটগুলোও ততটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ ফাটল এখন আরও দৃশ্যমান।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি পাকিস্তানকে স্বল্পমেয়াদে টিকে থাকার আস্থা দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, অন্তত নিকট ভবিষ্যতে দেশটি অর্থনৈতিকভাবে ভেসে থাকতে পারবে।

তবু সামনে রয়েছে চ্যালেঞ্জের পাহাড়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সম্ভাব্য দুর্যোগ, ধারাবাহিকভাবে কম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জঙ্গি হামলার পুনরাবৃত্তি—সব মিলিয়ে বাস্তবতা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

২০২৫ সালে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কত দ্রুত বাড়ছে, তার স্পষ্ট স্মরণ করিয়ে দেয়। পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের পূর্বাভাস—২০২৬ সালে দেশটিতে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এই দুর্যোগগুলো এমন এক সময়ে আরও কঠিন হয়ে উঠছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক শক্তিগুলো বহুপাক্ষিকতা থেকে সরে আসছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তার প্রবাহ কমে গেছে। পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে সংকটের সময় ক্রমেই নিজেদের ওপর নির্ভর করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়তে থাকা সমস্যার মোকাবিলায় প্রয়োজন হবে নতুন চিন্তা, কঠোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং নজিরবিহীন পরিবর্তন।

বর্তমানে পাকিস্তানের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে সামান্যই ছাড়িয়ে যায়। অতীতে অর্থনীতিবিদরা মনে করতেন, স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশটির প্রবৃদ্ধি ৫ থেকে ৬ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন—অর্থাৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করাও সহজ নয়; এর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বহু কঠিন সিদ্ধান্ত।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা জোরদার করতে পাকিস্তানকে অন্তত তিনটি বড় ক্ষেত্রে বাধা অতিক্রম করতে হবে।

প্রথমত, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী। গত তিন বছরে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার—যাদের পেছনে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সমর্থন রয়েছে—এই দুই পক্ষের সংঘাত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েন বন্ধ না হলে মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ কমই থাকবে। নতুন বিনিয়োগের জোরালো ঢেউ না এলে পাকিস্তান কম প্রবৃদ্ধির চক্রেই আটকে থাকবে।

দ্বিতীয়ত, দেশের সংকট সমাধানে প্রয়োজন সর্বদলীয় জাতীয় ঐকমত্য। পাকিস্তান একটি বৈচিত্র্যময় দেশ—জাতিগত ও ভাষাগত পার্থক্যে বিভক্ত। এই বৈচিত্র্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলাকে আরও জটিল করেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে বছরের পর বছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সরকারের সঙ্গে লড়াই করছে। উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ইমরান খানের অনুগতদের শাসন, যা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রাদেশিক প্রশাসনের দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়েছে।

বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া—এই দুই প্রদেশই আফগানিস্তানের সীমান্তসংলগ্ন। ফলে সন্ত্রাসীরা পাকিস্তানে প্রবেশের ক্ষেত্রে এগুলোকে প্রথম প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করছে। জঙ্গিবাদের ধারাবাহিকতা ও সশস্ত্র হামলার পুনরুত্থান এমন এক চ্যালেঞ্জ, যা মোকাবিলায় কঠোর জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য।

তৃতীয়ত, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গতি বাড়াতে হবে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনমান ঘিরে থাকা সমস্যাগুলোতে। প্রায় ২৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষের এই দেশে ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। একই সঙ্গে নিরক্ষরতার হার উদ্বেগজনক—মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই নিরক্ষর। এর মধ্যে নারীদের অবস্থা আরও নাজুক; নারীদের প্রায় অর্ধেকই নিরক্ষর, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

এ ছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির কারণে খর্বকায়তায় ভুগছে। অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারণে ব্যর্থতা এবং সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত না হওয়াও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সংস্কার বাস্তবায়নে ঐকমত্য গড়ে তোলাই এখন শাসকগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এসব সংস্কারে ব্যর্থ হলে দারিদ্র্য আরও বাড়বে, আর তার সঙ্গে অপরাধও বৃদ্ধি পাবে—যা ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

গত এক বছরে পাকিস্তানের শাসকেরা উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফর এবং দেশে আন্তর্জাতিক অতিথি গ্রহণে ব্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সশস্ত্র সংঘাতকে ইসলামাবাদে অনেকেই ‘সাফল্য’ হিসেবে দেখেছেন; দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান পাঁচ বা ছয়টি আধুনিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।

তবে এসব কূটনৈতিক সফর কিংবা সামরিক সাফল্য পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ গতিপথ খুব একটা বদলাবে না। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই এখন সবচেয়ে জরুরি ও প্রধান অগ্রাধিকার।