যশোরে জুলাই আন্দোলনে আহত এক যোদ্ধাকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন এনাম সিদ্দিকি। তিনি ওই গ্রামের মৃত খন্দকার আমিনুল্লাহর ছেলে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার বিবরণ
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো সকালে হাঁটতে বের হলে এনায়েতপুর পীরবাড়ির সামনে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি তার পথরোধ করে। প্রথমে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর ডান বুকে, বাম হাতের ডানা ও কাঁধে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়েন।
চিকিৎসার অবস্থা
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, এনাম সিদ্দিকির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত এনামের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এনাম সিদ্দিকি জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসার অবহেলায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিএনপি খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। সম্প্রতি যশোর-৩ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহের সময়ও তিনি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। হামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাকি ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নিন্দা ও দাবি
যশোর-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের হামলা নিন্দনীয়। ঘটনার পরপরই দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহতের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পুলিশের বক্তব্য
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















