সুন্দরবনের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার সারকির খালের কাছে বৈরাগী বাড়ি এলাকায় হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আটকা পড়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার দুপুরে সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের মানববসতি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে এক জেলে প্রথম বাঘটিকে ফাঁদের ভেতরে আটকে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের জানান।
খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলেন। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দীপান চন্দ্র দাস জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান
রোববার দুপুর থেকে বাঘটিকে মুক্ত করতে পূর্ণমাত্রার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, উদ্ধার কাজে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষায়িত একটি দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং প্রয়োজনে ট্রাংকুলাইজার গান ব্যবহার করা হবে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার শেষে যদি বাঘটি অসুস্থ বা আহত অবস্থায় পাওয়া যায়, তবে তাকে লোহার খাঁচায় করে খুলনা বা ঢাকার বন বিভাগের উদ্ধার কেন্দ্রে পাঠানো হবে। আর যদি বাঘটি সুস্থ থাকে, তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে আবার সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
ওয়াইল্ড টিমের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শনিবার থেকে ফাঁদে আটকে থাকার কারণে এবং চলমান শীতের মধ্যে বাঘটি মারাত্মক কষ্টে রয়েছে। তার মতে, উদ্ধার আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। সুন্দরবনে স্থায়ী ভেটেরিনারি সার্জনের অভাবে রোববার দুপুরের আগে উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
তিনি সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় বিভাগেই স্থায়ী পশুচিকিৎসক নিয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তার ভাষায়, বন্যপ্রাণী জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন বিভাগ এখনও পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়। ফাঁদে আটকে থেকে বাঘটি আহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং উদ্ধার-পরবর্তী যথাযথ চিকিৎসা প্রয়োজন হবে।
নিরাপত্তা ও পাহারা
শনিবার রাত থেকেই বন বিভাগের সদস্যদের পাশাপাশি গ্রাম টাইগার রেসপন্স টিমের সদস্যরা এলাকাটি পাহারা দিচ্ছেন, যাতে উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
বাঘের সংখ্যা ও প্রেক্ষাপট
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৫টি। এর আগে ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ১১৪ এবং ২০১৫ সালে ছিল ১০৬।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















