১২:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস কোরিয়ার ছোঁয়ায় নতুন স্বাদের ইনারি-সুশি: ভুট্টা, টোফু আর ঝাল মাখনের অনন্য মেলবন্ধন উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সামরিক জোটে বদলে যাচ্ছে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিকের নিরাপত্তা সমীকরণ টানা পঞ্চম মাসে টয়োটার বৈশ্বিক বিক্রি কমল, চাপ বাড়ছে গাড়ি শিল্পে ইরানকে থামাতে পারবে কি চীন? উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কুমামোতো, ফিরছে পরিবহন ও শিল্প কার্যক্রম পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ল অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল বিমসটেককে অগ্রাধিকার দিচ্ছে নেপাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে নতুন উদ্যোগ গাড়িতে ধূমপানের ভুলে বদলে গেল জীবন, পুলিশে জানানো সেই চালককেই এখন ধন্যবাদ সাবেক আসক্তের

যুদ্ধ বাড়ছে, জয় নয়: ড্রোন যুগে কেন অচলাবস্থার ফাঁদে বিশ্ব

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেই যুদ্ধগুলো আগের মতো দ্রুত বিজয় এনে দিতে পারছে না। বরং আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ড্রোন, সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার বিস্তার যুদ্ধক্ষেত্রকে আরও স্বচ্ছ করে তুললেও তা আক্রমণকারীদের জন্য সহজ জয় নিশ্চিত করতে পারছে না। বরং বহু সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় আটকে যাচ্ছে।

ড্রোনের নজরে যুদ্ধক্ষেত্র

ইউক্রেন যুদ্ধ আধুনিক যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। সামনের সারির কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন ড্রোনের স্থায়ী নজরদারি। সৈন্যদের চলাচল, সরঞ্জাম পরিবহন কিংবা অবস্থান পরিবর্তন—সবকিছুই শত্রুপক্ষের চোখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। যুদ্ধক্ষেত্র এমন এক পরিবেশে পরিণত হয়েছে, যেখানে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারে।

ড্রোন শুধু হামলার অস্ত্র নয়, এখন খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহেও ব্যবহৃত হচ্ছে। আহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজেও চালকবিহীন যান ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি যুদ্ধকে যেমন আরও প্রাণঘাতী করেছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে সৈন্যদের জীবনও সহজ করেছে।

প্রযুক্তি বাড়লেও জয় কেন কঠিন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সেন্সর, নির্ভুল অস্ত্র এবং তথ্য আদান-প্রদানের নেটওয়ার্ক মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে এক ধরনের ‘কৌশলগত স্বচ্ছতা’ তৈরি হয়েছে। ফলে বড় আকারের সেনা অগ্রযাত্রা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে। আক্রমণকারী বাহিনী সহজেই শনাক্ত হচ্ছে, আর প্রতিরক্ষাকারীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছে।

এর ফলে যুদ্ধগুলো ধীরে ধীরে ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। কয়েক মিটার এলাকা দখলের জন্যও কখনও কখনও সপ্তাহের পর সপ্তাহ লড়াই করতে হচ্ছে। প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেও দ্রুত বিজয় অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে।

No One Should Think the War Will Be Short | Proceedings - September 2024  Vol. 150/9/1,459

আকাশে আধিপত্যও যথেষ্ট নয়

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে উন্নত বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে। তবু ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আকাশে আধিপত্য থাকলেই যুদ্ধের রাজনৈতিক বা সামরিক লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত হয় না।

একইভাবে ইউক্রেনেও দেখা গেছে, আকাশে শক্তিশালী উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও স্থলযুদ্ধে অগ্রগতি নিশ্চিত করা কঠিন। আধুনিক যুদ্ধ এখন বহুস্তরীয় এবং শুধু একটি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।

পুরোনো অস্ত্র কি অচল?

অনেকে মনে করেন ড্রোনের যুগে ট্যাংকের গুরুত্ব শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাংক, আর্টিলারি ও যুদ্ধবিমান এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বরং সামরিক বাহিনীগুলো এখন সস্তা ড্রোন ও ব্যয়বহুল উন্নত অস্ত্রের সমন্বয়ে নতুন কৌশল গড়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের বাহিনী আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ও চালকবিহীন প্রযুক্তিনির্ভর হবে। তবে মানুষের ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না।

বাড়ছে যুদ্ধের সংখ্যা

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সক্রিয় রাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাতের সংখ্যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, সীমান্ত সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতি সত্ত্বেও এসব সংঘাতের দ্রুত সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যদি তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, তাহলে তা হবে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের যুদ্ধ। সেখানে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সক্ষমতা এবং পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ভুল হিসাব বা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকিও থাকবে অনেক বেশি।

প্রযুক্তি যুদ্ধকে বদলে দিয়েছে, কিন্তু যুদ্ধের মৌলিক বাস্তবতা বদলায়নি। দ্রুত বিজয়ের আশা নিয়ে শুরু হওয়া অনেক সংঘাত শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অচলাবস্থা, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে গড়াচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের জন্য এটাই এখন সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

জীবাণু অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়, নতুন হুমকি বায়োসন্ত্রাস

যুদ্ধ বাড়ছে, জয় নয়: ড্রোন যুগে কেন অচলাবস্থার ফাঁদে বিশ্ব

১১:২২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেই যুদ্ধগুলো আগের মতো দ্রুত বিজয় এনে দিতে পারছে না। বরং আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ড্রোন, সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার বিস্তার যুদ্ধক্ষেত্রকে আরও স্বচ্ছ করে তুললেও তা আক্রমণকারীদের জন্য সহজ জয় নিশ্চিত করতে পারছে না। বরং বহু সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় আটকে যাচ্ছে।

ড্রোনের নজরে যুদ্ধক্ষেত্র

ইউক্রেন যুদ্ধ আধুনিক যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। সামনের সারির কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন ড্রোনের স্থায়ী নজরদারি। সৈন্যদের চলাচল, সরঞ্জাম পরিবহন কিংবা অবস্থান পরিবর্তন—সবকিছুই শত্রুপক্ষের চোখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে। যুদ্ধক্ষেত্র এমন এক পরিবেশে পরিণত হয়েছে, যেখানে সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হতে পারে।

ড্রোন শুধু হামলার অস্ত্র নয়, এখন খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহেও ব্যবহৃত হচ্ছে। আহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজেও চালকবিহীন যান ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে প্রযুক্তি যুদ্ধকে যেমন আরও প্রাণঘাতী করেছে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে সৈন্যদের জীবনও সহজ করেছে।

প্রযুক্তি বাড়লেও জয় কেন কঠিন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সেন্সর, নির্ভুল অস্ত্র এবং তথ্য আদান-প্রদানের নেটওয়ার্ক মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে এক ধরনের ‘কৌশলগত স্বচ্ছতা’ তৈরি হয়েছে। ফলে বড় আকারের সেনা অগ্রযাত্রা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে। আক্রমণকারী বাহিনী সহজেই শনাক্ত হচ্ছে, আর প্রতিরক্ষাকারীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারছে।

এর ফলে যুদ্ধগুলো ধীরে ধীরে ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। কয়েক মিটার এলাকা দখলের জন্যও কখনও কখনও সপ্তাহের পর সপ্তাহ লড়াই করতে হচ্ছে। প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব থাকলেও দ্রুত বিজয় অর্জন কঠিন হয়ে পড়েছে।

No One Should Think the War Will Be Short | Proceedings - September 2024  Vol. 150/9/1,459

আকাশে আধিপত্যও যথেষ্ট নয়

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে উন্নত বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপক ব্যবহার দেখা গেছে। তবু ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, আকাশে আধিপত্য থাকলেই যুদ্ধের রাজনৈতিক বা সামরিক লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত হয় না।

একইভাবে ইউক্রেনেও দেখা গেছে, আকাশে শক্তিশালী উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও স্থলযুদ্ধে অগ্রগতি নিশ্চিত করা কঠিন। আধুনিক যুদ্ধ এখন বহুস্তরীয় এবং শুধু একটি প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।

পুরোনো অস্ত্র কি অচল?

অনেকে মনে করেন ড্রোনের যুগে ট্যাংকের গুরুত্ব শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাংক, আর্টিলারি ও যুদ্ধবিমান এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বরং সামরিক বাহিনীগুলো এখন সস্তা ড্রোন ও ব্যয়বহুল উন্নত অস্ত্রের সমন্বয়ে নতুন কৌশল গড়ে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের বাহিনী আরও বেশি স্বয়ংক্রিয় ও চালকবিহীন প্রযুক্তিনির্ভর হবে। তবে মানুষের ভূমিকা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না।

বাড়ছে যুদ্ধের সংখ্যা

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সক্রিয় রাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাতের সংখ্যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ, সীমান্ত সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতি সত্ত্বেও এসব সংঘাতের দ্রুত সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যদি তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, তাহলে তা হবে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের যুদ্ধ। সেখানে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সক্ষমতা এবং পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ভুল হিসাব বা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকিও থাকবে অনেক বেশি।

প্রযুক্তি যুদ্ধকে বদলে দিয়েছে, কিন্তু যুদ্ধের মৌলিক বাস্তবতা বদলায়নি। দ্রুত বিজয়ের আশা নিয়ে শুরু হওয়া অনেক সংঘাত শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অচলাবস্থা, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে গড়াচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের জন্য এটাই এখন সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।