১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ যথেষ্ট নয়, ভবিষ্যৎ গড়বে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড, রায়কে ‘প্রহসনের বিচার’ বললেন জাসদ সভাপতি বাংলাদেশে আরও ২ সন্দেহজনক হামে মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭১৮ উইম্বলডনে কঠিন লড়াই পেরিয়ে জয়ে শুরু শিয়নতেকের, সেরেনার প্রত্যাবর্তনে দর্শকদের উচ্ছ্বাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চালক নিয়ে স্বয়ংচালিত গাড়ির দৌড়ে নতুন চমক, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে নতুন উদ্যোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় পুলিশিং বদলাতে বড় বাজি, নতুন যুগের স্বপ্ন দেখছে টেজার নির্মাতা ডিজনির নতুন প্রধানের লক্ষ্য দ্রুত সিদ্ধান্ত, ডিজিটাল রূপান্তরে জোর নিসানের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, হাইব্রিড ও নতুন মডেলেই বাজি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে নতুন লড়াই: মহাকাশ নয়, পৃথিবীতেই বড় বাজি সফটব্যাংকের ইইউর নজরে ক্লাউড বাজার, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের ওপর বাড়তে পারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ

দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফোরাম

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফোরাম বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে সাংবিধানিক ও আইনগত স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে—দ্বৈত নাগরিকরা, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সংবিধান, পরবর্তী সংশোধনী এবং বিদ্যমান নাগরিকত্ব আইন মিলিয়ে দেখলে যেসব ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রেখেছেন, তাঁদের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকার কথাই প্রতিফলিত হয়।

নির্বাচনের সময় ও গুরুত্ব
এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের জন্য ডাকভোট ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে আসছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সংবিধানের প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যা
ফোরামের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের নভেম্বরে সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশ ছিল মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিশেষ বাস্তবতায়। সে সময় সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিল বা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছিল, তাদের সংসদে প্রবেশ ঠেকানো।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময় দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের ধারণাই কার্যত ছিল না। পরে বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব নীতিতেও পরিবর্তন আসে। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে জারি করা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অস্থায়ী বিধান থেকেই সেই পরিবর্তনের সূচনা হয়।

নাগরিকত্ব আইনের বিবর্তন
ফোরাম স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭৮ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আদেশে স্পষ্ট করা হয় যে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। একই সঙ্গে সরকারকে আইনসম্মত দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতির ক্ষমতাও দেওয়া হয়।

এই ক্ষমতার আওতায় ২০০৮ সালের একটি প্রজ্ঞাপনে যুক্তরাজ্যকে নির্ধারিত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা আইনসম্মতভাবে দ্বৈত নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রাখতে পারেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী ও নতুন ব্যাখ্যা
২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আরেকটি ধারা যুক্ত হয়। সেখানে পরিষ্কার করা হয়েছে, সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতা কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন কেউ বাস্তবভাবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। অর্থাৎ নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না।

বিরোধী যুক্তির জবাব
কিছু মহলের দাবি, সংসদ সদস্যদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা উচিত নয়। এই যুক্তির জবাবে ফোরাম বলেছে, সংবিধান এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয় না। এমনকি দ্বৈত নাগরিকরাও উচ্চ আদালত বা প্রধান বিচারপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, যেখানে তাঁদের রায় দেশের আইনি কাঠামো গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

ফোরামের অবস্থান
ফোরামের মতে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা কখনোই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি কিংবা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য বদলাননি। তাই তাঁদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেওয়া হলে তা সংবিধানের উদ্দেশ্য, বিদ্যমান আইন এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান
স্মারকলিপিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়—যেসব ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বজায় রেখেছেন, তাঁরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।

ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ যথেষ্ট নয়, ভবিষ্যৎ গড়বে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি

দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফোরাম

১১:৩৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ফোরাম বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে সাংবিধানিক ও আইনগত স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে—দ্বৈত নাগরিকরা, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশিরা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, সংবিধান, পরবর্তী সংশোধনী এবং বিদ্যমান নাগরিকত্ব আইন মিলিয়ে দেখলে যেসব ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রেখেছেন, তাঁদের সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকার কথাই প্রতিফলিত হয়।

নির্বাচনের সময় ও গুরুত্ব
এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের জন্য ডাকভোট ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে আসছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

সংবিধানের প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যা
ফোরামের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের নভেম্বরে সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশ ছিল মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বিশেষ বাস্তবতায়। সে সময় সংবিধানের একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল যারা বাংলাদেশ ত্যাগ করেছিল বা পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছিল, তাদের সংসদে প্রবেশ ঠেকানো।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই সময় দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের ধারণাই কার্যত ছিল না। পরে বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব নীতিতেও পরিবর্তন আসে। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে জারি করা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অস্থায়ী বিধান থেকেই সেই পরিবর্তনের সূচনা হয়।

নাগরিকত্ব আইনের বিবর্তন
ফোরাম স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭৮ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আদেশে স্পষ্ট করা হয় যে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না। একই সঙ্গে সরকারকে আইনসম্মত দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতির ক্ষমতাও দেওয়া হয়।

এই ক্ষমতার আওতায় ২০০৮ সালের একটি প্রজ্ঞাপনে যুক্তরাজ্যকে নির্ধারিত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা আইনসম্মতভাবে দ্বৈত নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ধরে রাখতে পারেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী ও নতুন ব্যাখ্যা
২০১০ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে আরেকটি ধারা যুক্ত হয়। সেখানে পরিষ্কার করা হয়েছে, সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতা কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন কেউ বাস্তবভাবে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। অর্থাৎ নাগরিকত্ব ত্যাগ না করলে সাংবিধানিক অযোগ্যতার প্রশ্ন ওঠে না।

বিরোধী যুক্তির জবাব
কিছু মহলের দাবি, সংসদ সদস্যদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা উচিত নয়। এই যুক্তির জবাবে ফোরাম বলেছে, সংবিধান এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয় না। এমনকি দ্বৈত নাগরিকরাও উচ্চ আদালত বা প্রধান বিচারপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, যেখানে তাঁদের রায় দেশের আইনি কাঠামো গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।

ফোরামের অবস্থান
ফোরামের মতে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশিরা কখনোই বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি কিংবা বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য বদলাননি। তাই তাঁদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেওয়া হলে তা সংবিধানের উদ্দেশ্য, বিদ্যমান আইন এবং গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান
স্মারকলিপিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন একটি স্পষ্ট সাংবিধানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়—যেসব ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বাংলাদেশি নাগরিকত্ব বজায় রেখেছেন, তাঁরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।