০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়াবহ দাবানলের এক বছর: সংখ্যাগুলোই বলে দেয় কীভাবে মুহূর্তে বিপর্যয় নেমেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা (পর্ব-৮৪) সিইএসে শকজের ‘ওপেনফিট প্রো’: ওপেন-ইয়ার ইয়ারবাড এখন আরও প্রিমিয়াম ফিলিপাইনে সাবেক জেনারেলের গ্রেপ্তারকে আইনের শাসনের উদাহরণ বলল সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান নিন্দা করল মেক্সিকো, ‘পরের টার্গেট’ হওয়া এড়াতে সতর্ক শেইনবাউম প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৩৫১) সাত বিষয়ে ফেল করায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দিল বিএনপি নেতার ছেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় গলা কাটা অবস্থায় স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রমজান বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডাল ও ভোজ্যতেল আমদানির অনুমোদন সরকারের ভেনেজুয়েলার শান্তির নোবেলের বয়ান 

ওজন কমানোর ওষুধে বদলে যাচ্ছে খাবারের সংস্কৃতি, ছোট প্লেটেই বড় লাভ

লন্ডনের এক অভিজাত রেস্তোরাঁতে আগে বড় বড় পরিমাণে পরিবেশন হতো লবস্টার, হাঁসের মাংস আর ক্যাভিয়ারে ঢাকা বার্গার। এখন সেই একই টেবিলে আসছে ছোট প্লেট, নিখুঁত স্বাদ আর বিলাসিতার নতুন ব্যাখ্যা। ওজন কমানোর আধুনিক ইনজেকশনভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারকারী অতিথির সংখ্যা বাড়তেই রেস্তোরাঁ মালিকরা বুঝে গেছেন, পেট ভরানোর যুগ পেরিয়ে গেছে, শুরু হয়েছে সচেতন অল্প খাওয়ার সময়।

খাবারের মেনুতে নীরব বিপ্লব

ওজন কমানোর এই ওষুধ শরীরে তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে, ফলে মানুষ কম খেতে চায়। নিয়মিত অতিথিরা বাইরে খাওয়া কমিয়ে দেওয়ার কথা জানাতেই অনেক রেস্তোরাঁ মেনু বদলাতে শুরু করে। বড় প্লেটের জায়গায় এসেছে সূক্ষ্মভাবে সাজানো ছোট খাবার। স্বাদ আর মানের সঙ্গে আপস না করে পরিমাণ কমিয়ে দেওয়াই এখন নতুন কৌশল।

অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে সাধারণ খাবারঘর

এই পরিবর্তন শুধু দামি রেস্তোরাঁতেই সীমাবদ্ধ নয়। তারকা রেস্তোরাঁগুলো সচেতন অভিজ্ঞতার নামে ছোট পরিমাণের বিশেষ মেনু চালু করেছে। লন্ডন থেকে দুবাই, নিউইয়র্ক থেকে বার্কশায়ার—সবখানেই ছোট খাবারের চল। এমনকি দ্রুত খাবারের দোকানও ছোট বার্গার আর ক্ষুদ্র মিল চালু করছে, যাতে কম খেয়েও অতিথিরা তৃপ্ত থাকে।

ওষুধের জনপ্রিয়তা আর বাজারের অঙ্ক

বিশ্বজুড়ে এই ধরনের ওষুধে ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আটজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক অন্তত একবার এই ওষুধ ব্যবহার করেছেন। ব্রিটেনে ব্যবহারকারীর হার নিরামিষভোজী বা খাদ্য অ্যালার্জি থাকা মানুষের সংখ্যার কাছাকাছি। যাঁরা এই ওষুধ নেন, তাঁদের বড় অংশ মধ্য ও উচ্চ আয়ের, অর্থাৎ নিয়মিত বাইরে খাওয়ার সামর্থ্য যাঁদের আছে।

রেস্তোরাঁ শিল্পের দুশ্চিন্তা নাকি সুযোগ

অনেক ব্যবহারকারী জানাচ্ছেন, তাঁরা বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া রেস্তোরাঁয় যাবেন না। এতে মালিকদের উদ্বেগ বাড়লেও অন্য দিকটি আশাব্যঞ্জক। কম খাবার খেলেও অতিথিরা বিশেষ স্বাদের জন্য বেশি দাম দিতে রাজি। ছোট প্লেটে বড় লাভের এই মনস্তত্ত্ব খুচরা বাজারে বহুদিনের পরিচিত, এখন তা খাবারের টেবিলেও বাস্তব।

ভবিষ্যৎ ভাবনায় ছোটই বড়

ওজন কমানোর ওষুধের দাম কমলে ব্যবহারকারী আরও বাড়বে। তাই রেস্তোরাঁগুলোর সামনে বার্তা স্পষ্ট—কম পরিমাণ, বেশি মান, আর স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। খাবারের যুগ বদলাচ্ছে, বড় প্লেট নয়, ছোট প্লেটেই এখন ভবিষ্যৎ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়াবহ দাবানলের এক বছর: সংখ্যাগুলোই বলে দেয় কীভাবে মুহূর্তে বিপর্যয় নেমেছিল

ওজন কমানোর ওষুধে বদলে যাচ্ছে খাবারের সংস্কৃতি, ছোট প্লেটেই বড় লাভ

০৬:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

লন্ডনের এক অভিজাত রেস্তোরাঁতে আগে বড় বড় পরিমাণে পরিবেশন হতো লবস্টার, হাঁসের মাংস আর ক্যাভিয়ারে ঢাকা বার্গার। এখন সেই একই টেবিলে আসছে ছোট প্লেট, নিখুঁত স্বাদ আর বিলাসিতার নতুন ব্যাখ্যা। ওজন কমানোর আধুনিক ইনজেকশনভিত্তিক ওষুধ ব্যবহারকারী অতিথির সংখ্যা বাড়তেই রেস্তোরাঁ মালিকরা বুঝে গেছেন, পেট ভরানোর যুগ পেরিয়ে গেছে, শুরু হয়েছে সচেতন অল্প খাওয়ার সময়।

খাবারের মেনুতে নীরব বিপ্লব

ওজন কমানোর এই ওষুধ শরীরে তৃপ্তির অনুভূতি তৈরি করে, ফলে মানুষ কম খেতে চায়। নিয়মিত অতিথিরা বাইরে খাওয়া কমিয়ে দেওয়ার কথা জানাতেই অনেক রেস্তোরাঁ মেনু বদলাতে শুরু করে। বড় প্লেটের জায়গায় এসেছে সূক্ষ্মভাবে সাজানো ছোট খাবার। স্বাদ আর মানের সঙ্গে আপস না করে পরিমাণ কমিয়ে দেওয়াই এখন নতুন কৌশল।

অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে সাধারণ খাবারঘর

এই পরিবর্তন শুধু দামি রেস্তোরাঁতেই সীমাবদ্ধ নয়। তারকা রেস্তোরাঁগুলো সচেতন অভিজ্ঞতার নামে ছোট পরিমাণের বিশেষ মেনু চালু করেছে। লন্ডন থেকে দুবাই, নিউইয়র্ক থেকে বার্কশায়ার—সবখানেই ছোট খাবারের চল। এমনকি দ্রুত খাবারের দোকানও ছোট বার্গার আর ক্ষুদ্র মিল চালু করছে, যাতে কম খেয়েও অতিথিরা তৃপ্ত থাকে।

ওষুধের জনপ্রিয়তা আর বাজারের অঙ্ক

বিশ্বজুড়ে এই ধরনের ওষুধে ব্যয় দ্রুত বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আটজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক অন্তত একবার এই ওষুধ ব্যবহার করেছেন। ব্রিটেনে ব্যবহারকারীর হার নিরামিষভোজী বা খাদ্য অ্যালার্জি থাকা মানুষের সংখ্যার কাছাকাছি। যাঁরা এই ওষুধ নেন, তাঁদের বড় অংশ মধ্য ও উচ্চ আয়ের, অর্থাৎ নিয়মিত বাইরে খাওয়ার সামর্থ্য যাঁদের আছে।

রেস্তোরাঁ শিল্পের দুশ্চিন্তা নাকি সুযোগ

অনেক ব্যবহারকারী জানাচ্ছেন, তাঁরা বিশেষ উপলক্ষ ছাড়া রেস্তোরাঁয় যাবেন না। এতে মালিকদের উদ্বেগ বাড়লেও অন্য দিকটি আশাব্যঞ্জক। কম খাবার খেলেও অতিথিরা বিশেষ স্বাদের জন্য বেশি দাম দিতে রাজি। ছোট প্লেটে বড় লাভের এই মনস্তত্ত্ব খুচরা বাজারে বহুদিনের পরিচিত, এখন তা খাবারের টেবিলেও বাস্তব।

ভবিষ্যৎ ভাবনায় ছোটই বড়

ওজন কমানোর ওষুধের দাম কমলে ব্যবহারকারী আরও বাড়বে। তাই রেস্তোরাঁগুলোর সামনে বার্তা স্পষ্ট—কম পরিমাণ, বেশি মান, আর স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। খাবারের যুগ বদলাচ্ছে, বড় প্লেট নয়, ছোট প্লেটেই এখন ভবিষ্যৎ।