ইউরোপে আবারও ফিরে এসেছে যুদ্ধের আশঙ্কা। তবে এই আশঙ্কার মুখে পশ্চিম ইউরোপের সমাজগুলো মানসিক ও বাস্তব প্রস্তুতিতে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। সামরিক নেতারা বারবার সতর্ক করলেও সাধারণ মানুষের কাছে যুদ্ধ এখনো দূরের পর্দার খবর হিসেবেই রয়ে গেছে। অথচ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ এখন শান্তি আর যুদ্ধের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত সময় পার করছে।
ফ্রান্সে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ফাবিয়ান মাঁদোঁ সম্প্রতি বলেছেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে দেশের মানুষকে সন্তান হারানোর বাস্তবতাও মেনে নিতে হতে পারে। এই মন্তব্যে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় তৈরি হয়। অনেক রাজনীতিক একে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার ভাষা বলেও আক্রমণ করেন। কিন্তু ইউরোপের নিরাপত্তা কর্তারা বলছেন, যুদ্ধের দায় শুধু সেনাবাহিনীর নয়, পুরো সমাজকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
রাশিয়ার কাছাকাছি থাকা বাল্টিক অঞ্চল, পোল্যান্ড ও নর্ডিক দেশগুলোর কাছে যুদ্ধ প্রস্তুতি নতুন কিছু নয়। সেখানে সামরিক সেবা ও নাগরিক প্রস্তুতি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। বিপরীতে প্যারিস, রোম বা মাদ্রিদের মতো শহরে এই হুমকি এখনো দূরের বলে মনে হয়। ফলে সতর্কবার্তাগুলো অনেক সময় ভয় দেখানো হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তবে ধীরে ধীরে অবস্থান বদলাচ্ছে। জার্মানি নতুন নিয়োগ মডেল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছর থেকে আঠারো বছর বয়সীদের সামরিক সেবার আগ্রহ যাচাই করা হবে, পরে শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য রিজার্ভ বাহিনীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে। ফ্রান্সও তরুণদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। পোল্যান্ডে সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের ভাবনা চলছে।
এই উদ্যোগগুলোর পেছনে বড় অনুপ্রেরণা নর্ডিক দেশগুলো। ফিনল্যান্ড ও নরওয়েতে বহু বছর ধরে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা রয়েছে। সুইডেন আবার নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও যুদ্ধ প্রস্তুতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে ঘরে কী কী মজুত রাখতে হবে, আশ্রয়কেন্দ্র কোথায়—এসব জানিয়ে সরকার বই বিতরণ করেছে এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষায় বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়েছে।

পশ্চিম ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে চিত্র ভিন্ন। ইতালি ও স্পেনে এখনো বাধ্যতামূলক সেবার আলোচনা নেই। ব্রিটেন তরুণদের জন্য স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচির কথা বললে ব্যাপক সামাজিক প্রস্তুতির কথা তুলছে না। ফলে নর্ডিক ও পূর্ব ইউরোপের সঙ্গে পশ্চিম ইউরোপের ফাঁরাক স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, পোল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি বেশি মনে করলেও ইতালিতে এই আশঙ্কা তুলনামূলক কম। তবে প্রায় সব দেশেই মানুষ একমত যে তাদের রাষ্ট্র যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। এই উপলব্ধিই এখন ইউরোপের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















