০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে কীভাবে ভাবা উচিত আলিসা লিউ ও আইলিন গু: দুই দেশের আয়নায় প্রতিচ্ছবি মানুষ ৪০ হাজার বছর আগে লিখতে শিখেছিলো কেন পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অনেকেই সারাক্ষণ ক্লান্ত বোধ করেন গুচির দেহমোহে বাজি, নব্বই দশকের ঝলক ফেরাতে ডেমনার সাহসী প্রদর্শনী জাপানের ধনীদের দিকে ঝুঁকছে কেকেআর ও ব্ল্যাকস্টোন, মার্কিন বেসরকারি সম্পদ বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই নতুন কৌশল মুন দুবাই কি সত্যিই বাস্তব হচ্ছে? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন প্রতিষ্ঠাতারা সাউথ চায়না সি আচরণবিধি ২০২৬-এর মধ্যে সম্ভব নয়: বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা আগের ধস কাটিয়ে শুরুতেই ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই ও সিএসই সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রেস ক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, আটক ২

ইউরোপ যুদ্ধের জন্য কতটা প্রস্তুত, কঠিন প্রশ্নে অস্বস্তিতে পশ্চিমা সমাজ

ইউরোপে আবারও ফিরে এসেছে যুদ্ধের আশঙ্কা। তবে এই আশঙ্কার মুখে পশ্চিম ইউরোপের সমাজগুলো মানসিক ও বাস্তব প্রস্তুতিতে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। সামরিক নেতারা বারবার সতর্ক করলেও সাধারণ মানুষের কাছে যুদ্ধ এখনো দূরের পর্দার খবর হিসেবেই রয়ে গেছে। অথচ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ এখন শান্তি আর যুদ্ধের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত সময় পার করছে।

ফ্রান্সে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ফাবিয়ান মাঁদোঁ সম্প্রতি বলেছেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে দেশের মানুষকে সন্তান হারানোর বাস্তবতাও মেনে নিতে হতে পারে। এই মন্তব্যে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় তৈরি হয়। অনেক রাজনীতিক একে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার ভাষা বলেও আক্রমণ করেন। কিন্তু ইউরোপের নিরাপত্তা কর্তারা বলছেন, যুদ্ধের দায় শুধু সেনাবাহিনীর নয়, পুরো সমাজকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।

Europe is preparing for possible war with Russia, without the US - ABC News

রাশিয়ার কাছাকাছি থাকা বাল্টিক অঞ্চল, পোল্যান্ড ও নর্ডিক দেশগুলোর কাছে যুদ্ধ প্রস্তুতি নতুন কিছু নয়। সেখানে সামরিক সেবা ও নাগরিক প্রস্তুতি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। বিপরীতে প্যারিস, রোম বা মাদ্রিদের মতো শহরে এই হুমকি এখনো দূরের বলে মনে হয়। ফলে সতর্কবার্তাগুলো অনেক সময় ভয় দেখানো হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে ধীরে ধীরে অবস্থান বদলাচ্ছে। জার্মানি নতুন নিয়োগ মডেল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছর থেকে আঠারো বছর বয়সীদের সামরিক সেবার আগ্রহ যাচাই করা হবে, পরে শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য রিজার্ভ বাহিনীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে। ফ্রান্সও তরুণদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। পোল্যান্ডে সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের ভাবনা চলছে।

এই উদ্যোগগুলোর পেছনে বড় অনুপ্রেরণা নর্ডিক দেশগুলো। ফিনল্যান্ড ও নরওয়েতে বহু বছর ধরে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা রয়েছে। সুইডেন আবার নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও যুদ্ধ প্রস্তুতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে ঘরে কী কী মজুত রাখতে হবে, আশ্রয়কেন্দ্র কোথায়—এসব জানিয়ে সরকার বই বিতরণ করেছে এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষায় বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়েছে।

The Nordics are gearing up: What should we be aware of when it comes to military  service? | NordForsk

পশ্চিম ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে চিত্র ভিন্ন। ইতালি ও স্পেনে এখনো বাধ্যতামূলক সেবার আলোচনা নেই। ব্রিটেন তরুণদের জন্য স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচির কথা বললে ব্যাপক সামাজিক প্রস্তুতির কথা তুলছে না। ফলে নর্ডিক ও পূর্ব ইউরোপের সঙ্গে পশ্চিম ইউরোপের ফাঁরাক স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, পোল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি বেশি মনে করলেও ইতালিতে এই আশঙ্কা তুলনামূলক কম। তবে প্রায় সব দেশেই মানুষ একমত যে তাদের রাষ্ট্র যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। এই উপলব্ধিই এখন ইউরোপের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে কীভাবে ভাবা উচিত

ইউরোপ যুদ্ধের জন্য কতটা প্রস্তুত, কঠিন প্রশ্নে অস্বস্তিতে পশ্চিমা সমাজ

০৬:১৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ইউরোপে আবারও ফিরে এসেছে যুদ্ধের আশঙ্কা। তবে এই আশঙ্কার মুখে পশ্চিম ইউরোপের সমাজগুলো মানসিক ও বাস্তব প্রস্তুতিতে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। সামরিক নেতারা বারবার সতর্ক করলেও সাধারণ মানুষের কাছে যুদ্ধ এখনো দূরের পর্দার খবর হিসেবেই রয়ে গেছে। অথচ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ এখন শান্তি আর যুদ্ধের মাঝামাঝি এক অনিশ্চিত সময় পার করছে।

ফ্রান্সে সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল ফাবিয়ান মাঁদোঁ সম্প্রতি বলেছেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে দেশের মানুষকে সন্তান হারানোর বাস্তবতাও মেনে নিতে হতে পারে। এই মন্তব্যে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় তৈরি হয়। অনেক রাজনীতিক একে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার ভাষা বলেও আক্রমণ করেন। কিন্তু ইউরোপের নিরাপত্তা কর্তারা বলছেন, যুদ্ধের দায় শুধু সেনাবাহিনীর নয়, পুরো সমাজকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।

Europe is preparing for possible war with Russia, without the US - ABC News

রাশিয়ার কাছাকাছি থাকা বাল্টিক অঞ্চল, পোল্যান্ড ও নর্ডিক দেশগুলোর কাছে যুদ্ধ প্রস্তুতি নতুন কিছু নয়। সেখানে সামরিক সেবা ও নাগরিক প্রস্তুতি দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। বিপরীতে প্যারিস, রোম বা মাদ্রিদের মতো শহরে এই হুমকি এখনো দূরের বলে মনে হয়। ফলে সতর্কবার্তাগুলো অনেক সময় ভয় দেখানো হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তবে ধীরে ধীরে অবস্থান বদলাচ্ছে। জার্মানি নতুন নিয়োগ মডেল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছর থেকে আঠারো বছর বয়সীদের সামরিক সেবার আগ্রহ যাচাই করা হবে, পরে শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য রিজার্ভ বাহিনীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে। ফ্রান্সও তরুণদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। পোল্যান্ডে সব প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের ভাবনা চলছে।

এই উদ্যোগগুলোর পেছনে বড় অনুপ্রেরণা নর্ডিক দেশগুলো। ফিনল্যান্ড ও নরওয়েতে বহু বছর ধরে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা রয়েছে। সুইডেন আবার নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনেও যুদ্ধ প্রস্তুতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। সেখানে ঘরে কী কী মজুত রাখতে হবে, আশ্রয়কেন্দ্র কোথায়—এসব জানিয়ে সরকার বই বিতরণ করেছে এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষায় বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়েছে।

The Nordics are gearing up: What should we be aware of when it comes to military  service? | NordForsk

পশ্চিম ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে চিত্র ভিন্ন। ইতালি ও স্পেনে এখনো বাধ্যতামূলক সেবার আলোচনা নেই। ব্রিটেন তরুণদের জন্য স্বেচ্ছামূলক কর্মসূচির কথা বললে ব্যাপক সামাজিক প্রস্তুতির কথা তুলছে না। ফলে নর্ডিক ও পূর্ব ইউরোপের সঙ্গে পশ্চিম ইউরোপের ফাঁরাক স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, পোল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি বেশি মনে করলেও ইতালিতে এই আশঙ্কা তুলনামূলক কম। তবে প্রায় সব দেশেই মানুষ একমত যে তাদের রাষ্ট্র যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। এই উপলব্ধিই এখন ইউরোপের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে