০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
নগরের কফিকাপ আর মধ্যবিত্তের স্বপ্ন: ভোগবাদী অর্থনীতির নতুন প্রতীক নিঃশব্দ যন্ত্রণার ভেতর ফ্যাশনের ঝলক, অ্যাঞ্জেলিনা জোলির নতুন ছবি ‘ক্যুচার’ কেন আলোচনায় অর্থোপেডিক সার্জনদের ৫ অভ্যাস: বয়স বাড়লেও কীভাবে থাকবেন শক্তিশালী ও সচল নতুন বিতর্কে রাবি রাকসু নেতা: জাহানারা ইমামকে কটাক্ষ, পদ স্থগিতের দাবি ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান, কম্পন অনুভূত দিল্লি-কাশ্মীর-পাকিস্তানেও নতুন রহস্যময় পোস্টে মাহফুজ আলমের সতর্কবার্তা: ‘আমি প্রথম বলির পাঁঠা হতে পারি, কিন্তু শেষ নই’ নানা অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টি, ভূমিকম্পের পর জাপানে দুই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাড়ল ভূমিধসের শঙ্কা নদীতে সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার গুজব, তথ্য ভিত্তিহীন বলছে পুলিশ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড: ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা গণনা, ছাড়িয়ে গেল আগের সব হিসাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র, ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগে উপসাগরীয় অঞ্চল

ভারতের উন্নয়নের গল্পে যে প্রশ্নগুলো অনুত্তরিতই থেকে গেল

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দীর্ঘ পথচলার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এক বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছেন দেবেশ কাপুর ও অরবিন্দ সুব্রামানিয়ান। তাঁদের লেখা ‘এ সিক্সথ অব হিউম্যানিটি’ বইটি ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী উন্নয়নের ইতিহাস নতুন করে বিশ্লেষণের দাবি করে। তবে বইটির এই উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টার মধ্যেই রয়ে গেছে বড় কিছু ফাঁক, যা ভারতের প্রকৃত বৃদ্ধির গল্প বোঝার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলছে।

বইয়ের কেন্দ্রীয় দাবি ও প্রবৃদ্ধির বিতর্ক
বইটির মূল আলোচনায় রয়েছে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কাঠামোগত রূপান্তর। লেখকেরা দাবি করেছেন, সমাজতান্ত্রিক সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল দুর্বল এবং উদারনৈতিক পর্বে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত পরিবর্তন ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু এই বিশ্লেষণে ভারতের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়েছে। নেহরু আমলে ভারতের মাথাপিছু আয় যে গতিতে বেড়েছিল, তা ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ সময়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি। এমনকি সে সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি চীনের চেয়েও এগিয়ে ছিল, যা বইটির বক্তব্যের সঙ্গে খাপ খায় না।

Image

রাষ্ট্র, বাজার ও শিল্পায়নের প্রশ্ন
লেখকেরা রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, পরিকল্পিত অর্থনীতি বেসরকারি খাতকে দমিয়ে রেখেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পঞ্চাশ থেকে চৌষট্টি সালের মধ্যে বেসরকারি করপোরেট বিনিয়োগ সরকারি খাতের তুলনায় দ্রুত বেড়েছিল। রাষ্ট্রের বড় পরিসরের বিনিয়োগই আসলে বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছিল। একই সঙ্গে শিল্প খাতের অংশও বেড়েছে পরিকল্পনার লক্ষ্য অনুযায়ী, যা পরবর্তী উদারনৈতিক সংস্কারের পর আর তেমন বাড়েনি।

মোদি আমলের মূল্যায়নে নীরবতা
বইটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো সাম্প্রতিক সময়ের অর্থনৈতিক নীতির যথাযথ মূল্যায়নের অভাব। দুই হাজার চৌদ্দ সালের পর গৃহীত নীতির ফলে ভারতের প্রবৃদ্ধি আদৌ বেড়েছে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তথ্যের সাধারণ বিশ্লেষণেই দেখা যায়, দুই হাজার সতেরো সালের পর অর্থনীতি শ্লথ হয়েছে এবং নোট বাতিলের প্রভাব ও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় বইটির সামগ্রিক যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Image

গল্পের ভেতরে তথ্যের বিচ্ছিন্নতা
ভারতের রাজনীতি ও অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিত্র বইটি তুলে ধরলেও তথ্য ও বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। বিচ্ছিন্ন তথ্যের সমাহার একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কাহিনি তৈরি করতে পারে না। ফলে ভারতের উন্নয়নের দীর্ঘ যাত্রাপথ বোঝাতে বইটি আংশিক সত্য তুলে ধরেছেন সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি থেকেই গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নগরের কফিকাপ আর মধ্যবিত্তের স্বপ্ন: ভোগবাদী অর্থনীতির নতুন প্রতীক

ভারতের উন্নয়নের গল্পে যে প্রশ্নগুলো অনুত্তরিতই থেকে গেল

০২:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দীর্ঘ পথচলার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এক বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছেন দেবেশ কাপুর ও অরবিন্দ সুব্রামানিয়ান। তাঁদের লেখা ‘এ সিক্সথ অব হিউম্যানিটি’ বইটি ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী উন্নয়নের ইতিহাস নতুন করে বিশ্লেষণের দাবি করে। তবে বইটির এই উচ্চাভিলাষী প্রচেষ্টার মধ্যেই রয়ে গেছে বড় কিছু ফাঁক, যা ভারতের প্রকৃত বৃদ্ধির গল্প বোঝার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলছে।

বইয়ের কেন্দ্রীয় দাবি ও প্রবৃদ্ধির বিতর্ক
বইটির মূল আলোচনায় রয়েছে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কাঠামোগত রূপান্তর। লেখকেরা দাবি করেছেন, সমাজতান্ত্রিক সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল দুর্বল এবং উদারনৈতিক পর্বে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হলেও কাঙ্ক্ষিত কাঠামোগত পরিবর্তন ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু এই বিশ্লেষণে ভারতের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়েছে। নেহরু আমলে ভারতের মাথাপিছু আয় যে গতিতে বেড়েছিল, তা ঔপনিবেশিক শাসনের শেষ সময়ের তুলনায় বহু গুণ বেশি। এমনকি সে সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি চীনের চেয়েও এগিয়ে ছিল, যা বইটির বক্তব্যের সঙ্গে খাপ খায় না।

Image

রাষ্ট্র, বাজার ও শিল্পায়নের প্রশ্ন
লেখকেরা রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, পরিকল্পিত অর্থনীতি বেসরকারি খাতকে দমিয়ে রেখেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, পঞ্চাশ থেকে চৌষট্টি সালের মধ্যে বেসরকারি করপোরেট বিনিয়োগ সরকারি খাতের তুলনায় দ্রুত বেড়েছিল। রাষ্ট্রের বড় পরিসরের বিনিয়োগই আসলে বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হয়েছিল। একই সঙ্গে শিল্প খাতের অংশও বেড়েছে পরিকল্পনার লক্ষ্য অনুযায়ী, যা পরবর্তী উদারনৈতিক সংস্কারের পর আর তেমন বাড়েনি।

মোদি আমলের মূল্যায়নে নীরবতা
বইটির সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো সাম্প্রতিক সময়ের অর্থনৈতিক নীতির যথাযথ মূল্যায়নের অভাব। দুই হাজার চৌদ্দ সালের পর গৃহীত নীতির ফলে ভারতের প্রবৃদ্ধি আদৌ বেড়েছে কি না, সে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তথ্যের সাধারণ বিশ্লেষণেই দেখা যায়, দুই হাজার সতেরো সালের পর অর্থনীতি শ্লথ হয়েছে এবং নোট বাতিলের প্রভাব ও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় বইটির সামগ্রিক যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

Image

গল্পের ভেতরে তথ্যের বিচ্ছিন্নতা
ভারতের রাজনীতি ও অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ চিত্র বইটি তুলে ধরলেও তথ্য ও বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। বিচ্ছিন্ন তথ্যের সমাহার একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন কাহিনি তৈরি করতে পারে না। ফলে ভারতের উন্নয়নের দীর্ঘ যাত্রাপথ বোঝাতে বইটি আংশিক সত্য তুলে ধরেছেন সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি থেকেই গেছে।