০১:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম জলবায়ু ঝুঁকির প্রমাণ আছে, এবার নেপালের দরকার কার্যকর পদক্ষেপ জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্টে উগ্র ডানপন্থীদের বড় জয়, চাপে মূলধারার রাজনীতি নেপালের ‘জেন জি’ আন্দোলনের এক বছর, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে না: কার্কি ‘ক্লিন ব্রেক’ থেকে অন্তহীন যুদ্ধ: প্রতিরোধমূলক যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে নিরাপত্তা নীতি চার প্রদেশ নিয়েই অখণ্ড থাকবে পাকিস্তান, নতুন প্রদেশের প্রস্তাব নাকচ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর নিউইয়র্কে বসছে ভোগ বিজনেসের বৈশ্বিক সম্মেলন, টিকিট বিক্রি শুরু ‘ক্লিন গার্ল’ যুগের বিদায়, বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৭-এ আসছে নতুন ফ্যাশন ধারা দামি গয়না খোঁজার নতুন ঠিকানা কি টিকটক? বদলে যাওয়া শরীরের জন্য বিলাসবহুল ফ্যাশন, নতুন বাজার তৈরি করছে ওয়েলডান

সাদা পেটের বকের আবাসে জলবিদ্যুৎ ছাড়পত্র, অরুণাচলে কালাই–দুই নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

অরুণাচল প্রদেশের লোহিত নদী প্রস্তাবিত কালাই–দুই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক আবার তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্যানেল এক হাজার দুইশ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করেছে। কিন্তু প্রকল্প এলাকা বিরল সাদা পেটের বকের গুরুত্বপূর্ণ আবাস হওয়ায় পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উন্নয়নের পরিকল্পনা আর প্রকৃতির প্রশ্ন
কালাই–দুই প্রকল্পটি অঞ্জাও জেলায় লোহিত নদীর ওপর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন সাদা পেটের বকের স্বাভাবিক আবাস হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসবে। এর ফলে পাখিটির প্রজনন ক্ষেত্র, খাদ্যসংস্থান এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের অবস্থান
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্যানেল তাদের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ছাড়পত্রের পক্ষে মত দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর নজরদারি ও প্রশমন ব্যবস্থা মানা হলে পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে পরিবেশ আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, কাগজে-কলমে শর্ত আর মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মধ্যে প্রায়ই বড় ফারাক থেকে যায়।

স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ
প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, বাঁধ নির্মাণ হলে কৃষি জমি, নদী নির্ভর জীবিকা ও বসতভিটা ক্ষতির মুখে পড়বে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরামর্শ ও স্পষ্ট পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়া এত বড় প্রকল্পে এগোনো ন্যায়সঙ্গত নয়। অনেকেই চাইছেন, স্থানীয় মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক।

সংরক্ষণ বনাম উন্নয়নের টানাপোড়েন
কালাই–দুই প্রকল্প আবারও উত্তর–পূর্বাঞ্চলে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের দ্বন্দ্ব সামনে এনেছে। একদিকে বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা, অন্যদিকে বিরল প্রজাতি ও ভঙ্গুর প্রতিবেশ রক্ষার দায়িত্ব—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা হবে, সেই প্রশ্নই এখন কেন্দ্রে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুন ও সাময়িকভাবে বন্ধ কিছু কার্যক্রম

সাদা পেটের বকের আবাসে জলবিদ্যুৎ ছাড়পত্র, অরুণাচলে কালাই–দুই নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ

০৪:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

অরুণাচল প্রদেশের লোহিত নদী প্রস্তাবিত কালাই–দুই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক আবার তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্যানেল এক হাজার দুইশ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পে পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার সুপারিশ করেছে। কিন্তু প্রকল্প এলাকা বিরল সাদা পেটের বকের গুরুত্বপূর্ণ আবাস হওয়ায় পরিবেশবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উন্নয়নের পরিকল্পনা আর প্রকৃতির প্রশ্ন
কালাই–দুই প্রকল্পটি অঞ্জাও জেলায় লোহিত নদীর ওপর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই অঞ্চলটি বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন সাদা পেটের বকের স্বাভাবিক আবাস হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসবে। এর ফলে পাখিটির প্রজনন ক্ষেত্র, খাদ্যসংস্থান এবং সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের অবস্থান
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্যানেল তাদের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে ছাড়পত্রের পক্ষে মত দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর নজরদারি ও প্রশমন ব্যবস্থা মানা হলে পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে পরিবেশ আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, কাগজে-কলমে শর্ত আর মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মধ্যে প্রায়ই বড় ফারাক থেকে যায়।

স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ
প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, বাঁধ নির্মাণ হলে কৃষি জমি, নদী নির্ভর জীবিকা ও বসতভিটা ক্ষতির মুখে পড়বে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরামর্শ ও স্পষ্ট পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়া এত বড় প্রকল্পে এগোনো ন্যায়সঙ্গত নয়। অনেকেই চাইছেন, স্থানীয় মতামতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক।

সংরক্ষণ বনাম উন্নয়নের টানাপোড়েন
কালাই–দুই প্রকল্প আবারও উত্তর–পূর্বাঞ্চলে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের দ্বন্দ্ব সামনে এনেছে। একদিকে বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা, অন্যদিকে বিরল প্রজাতি ও ভঙ্গুর প্রতিবেশ রক্ষার দায়িত্ব—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা হবে, সেই প্রশ্নই এখন কেন্দ্রে।