০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায় বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি বক্স অফিসের নায়ক থেকে তামিল রাজনীতির বিস্ময়, কীভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় বদলে দিলেন তামিলনাড়ুর সমীকরণ ক্রেনশর পথ ও “আন্তঃসংযোগ”-এর জন্ম চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব মধ্যবিত্ত পৃথিবীর শেষ আশ্রয়: বারো বছরের কিশোরীরা কেন এখনও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান

রেকর্ডের আড়ালে আকাশপথের বাস্তবতা: লাভ বাড়লেও চাপ কমেনি

বিশ্বের আকাশপথে ২০২৫ সালকে ইতিহাসের সেরা বছর হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। যাত্রীসংখ্যা, আয় ও মুনাফা—সব দিক থেকেই রেকর্ড ছুঁয়েছে বিমান পরিবহন খাত। কিন্তু এই সাফল্যের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর চাপ, ব্যয়বৃদ্ধি আর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা। সংখ্যার ঝলকানি যত উজ্জ্বলই হোক, বাস্তবতা ততটাই জটিল।

রেকর্ড যাত্রী ও আয়ের বছর

মহামারির পর বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৪৮০ কোটি যাত্রী উড়েছেন, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০০ কোটিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্মিলিত আয় প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আসনভর্তি হারও ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে প্রায় চুরাশি শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৬ সালে আরও বাড়তে পারে।

How loyalty programmes are keeping America's airlines aloft

লাভ বাড়লেও পথ মসৃণ নয়

সবকিছু ঊর্ধ্বমুখী হলেও বাস্তবতা একরকম নয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার এয়ারলাইন্সগুলোকে রাশিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে ঘুরপথে দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইট চালাতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার কারণে কিছু আকাশপথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিকল্পনা ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অচলাবস্থার সময় ফ্লাইট বাতিল ও দেরিতে চলাচল শিল্পকে নতুন ধাক্কা দেয়।

বিমানের সংকটে বাড়ছে ব্যয়

জ্বালানির দাম কিছুটা কমলেও অন্য ব্যয় বেড়েছে দ্রুত। এর বড় কারণ নতুন বিমানের সংকট। মহামারির পর নির্মাতারা উৎপাদন স্বাভাবিক করতে পারেনি। ২০২৫ সালে সরবরাহ হওয়া নতুন বিমানের সংখ্যা আগের রেকর্ডের অনেক নিচে ছিল। ফলে এয়ারলাইন্সগুলোকে পুরোনো বিমানই বেশি দিন চালাতে হচ্ছে।

Inside the airline industry's meltdown | Air transport | The Guardian

পুরোনো বহরের চাপ

পুরোনো বিমানের কারণে জ্বালানি দক্ষতা কমছে, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে এবং পরিবেশগত চাপও বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী বিমানের গড় বয়স এখন প্রায় পনেরো বছর, যা মহামারির আগে ছিল তেরো বছর। এক সময় যেখানে প্রতিবছর জ্বালানি দক্ষতা গড়ে দুই শতাংশ করে বাড়ত, সেখানে ২০২৫ সালে সেই উন্নতি প্রায় থমকে গেছে। হিসাব অনুযায়ী, পুরোনো বহরের বাড়তি জ্বালানি ও মেরামত খরচে শুধু ২০২৫ সালেই শিল্পকে গুনতে হয়েছে বিপুল অর্থ।

রেকর্ডের মধ্যেও ক্ষীণ মুনাফা

সব মিলিয়ে এত আয় আর যাত্রী সত্ত্বেও বিমান শিল্পের নিট মুনাফার হার খুবই সীমিত। গড়ে প্রতিটি যাত্রী থেকে লাভ হয়েছে মাত্র কয়েক ডলার। তাই রেকর্ড বছরের গল্প যতটা আকর্ষণীয় শোনাক, বাস্তবে শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য উদযাপনের সুযোগ এখনও সীমিত। আকাশে উড়ান বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো এখনো রয়ে গেছে।

India's largest airline is flying high

জনপ্রিয় সংবাদ

সিএনএনের জনক টেড টার্নার আর নেই, ২৪ ঘণ্টার সংবাদযুগের পথিকৃৎকে বিদায়

রেকর্ডের আড়ালে আকাশপথের বাস্তবতা: লাভ বাড়লেও চাপ কমেনি

০৬:৩৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের আকাশপথে ২০২৫ সালকে ইতিহাসের সেরা বছর হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। যাত্রীসংখ্যা, আয় ও মুনাফা—সব দিক থেকেই রেকর্ড ছুঁয়েছে বিমান পরিবহন খাত। কিন্তু এই সাফল্যের ভেতরে লুকিয়ে আছে গভীর চাপ, ব্যয়বৃদ্ধি আর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা। সংখ্যার ঝলকানি যত উজ্জ্বলই হোক, বাস্তবতা ততটাই জটিল।

রেকর্ড যাত্রী ও আয়ের বছর

মহামারির পর বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৪৮০ কোটি যাত্রী উড়েছেন, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০০ কোটিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্মিলিত আয় প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আসনভর্তি হারও ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে প্রায় চুরাশি শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৬ সালে আরও বাড়তে পারে।

How loyalty programmes are keeping America's airlines aloft

লাভ বাড়লেও পথ মসৃণ নয়

সবকিছু ঊর্ধ্বমুখী হলেও বাস্তবতা একরকম নয়। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার এয়ারলাইন্সগুলোকে রাশিয়ার আকাশসীমা এড়িয়ে ঘুরপথে দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইট চালাতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার কারণে কিছু আকাশপথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিকল্পনা ভেঙে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি অচলাবস্থার সময় ফ্লাইট বাতিল ও দেরিতে চলাচল শিল্পকে নতুন ধাক্কা দেয়।

বিমানের সংকটে বাড়ছে ব্যয়

জ্বালানির দাম কিছুটা কমলেও অন্য ব্যয় বেড়েছে দ্রুত। এর বড় কারণ নতুন বিমানের সংকট। মহামারির পর নির্মাতারা উৎপাদন স্বাভাবিক করতে পারেনি। ২০২৫ সালে সরবরাহ হওয়া নতুন বিমানের সংখ্যা আগের রেকর্ডের অনেক নিচে ছিল। ফলে এয়ারলাইন্সগুলোকে পুরোনো বিমানই বেশি দিন চালাতে হচ্ছে।

Inside the airline industry's meltdown | Air transport | The Guardian

পুরোনো বহরের চাপ

পুরোনো বিমানের কারণে জ্বালানি দক্ষতা কমছে, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে এবং পরিবেশগত চাপও বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী বিমানের গড় বয়স এখন প্রায় পনেরো বছর, যা মহামারির আগে ছিল তেরো বছর। এক সময় যেখানে প্রতিবছর জ্বালানি দক্ষতা গড়ে দুই শতাংশ করে বাড়ত, সেখানে ২০২৫ সালে সেই উন্নতি প্রায় থমকে গেছে। হিসাব অনুযায়ী, পুরোনো বহরের বাড়তি জ্বালানি ও মেরামত খরচে শুধু ২০২৫ সালেই শিল্পকে গুনতে হয়েছে বিপুল অর্থ।

রেকর্ডের মধ্যেও ক্ষীণ মুনাফা

সব মিলিয়ে এত আয় আর যাত্রী সত্ত্বেও বিমান শিল্পের নিট মুনাফার হার খুবই সীমিত। গড়ে প্রতিটি যাত্রী থেকে লাভ হয়েছে মাত্র কয়েক ডলার। তাই রেকর্ড বছরের গল্প যতটা আকর্ষণীয় শোনাক, বাস্তবে শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য উদযাপনের সুযোগ এখনও সীমিত। আকাশে উড়ান বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো এখনো রয়ে গেছে।

India's largest airline is flying high