মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর টানা চার দিনে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ১৮২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যমুখী ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার পৃথক বিবৃতিতে দুই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও আকাশসীমা বন্ধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে বাংলাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়।
ঢাকায় ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চার দিনে মোট ১৪৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
শনিবার ২৩টি, রোববার ৪০টি এবং সোমবার ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়। মঙ্গলবার নির্ধারিত আরও ৩৮টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানানো হয়েছে।
বাতিল ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে— কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার ও ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি করে ফ্লাইট; কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি; জাজিরা এয়ারওয়েজের চারটি; এয়ার অ্যারাবিয়ার ১২টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের চারটি ফ্লাইট।
চট্টগ্রামে ৩৫ ফ্লাইট বাতিল
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একই সময়ে মোট ৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নির্ধারিত সাতটি ফ্লাইট বাতিলের কথা জানানো হয়।

এর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার চারটি ফ্লাইট।
তবে মঙ্গলবার সকালে মাসকাট থেকে সালামএয়ারের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণ করে এবং পরে যাত্রী নিয়ে মাসকাটে ফিরে যায়। একইভাবে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে নেমে পরে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
যাত্রীদের অনিশ্চয়তা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আরও ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভ্রমণ পরিকল্পনা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















