০৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬
অটিজম থেরাপি খাতে বিস্ফোরক প্রবৃদ্ধি, সঙ্গে বাড়ছে বিল জালিয়াতির অভিযোগ ৮৪ বছরেও নতুন বাজি: ক্যাসিনো সাম্রাজ্য গড়তে এমজিএম কিনতে চান ব্যারি ডিলার আইপিএলের উত্থানে বদলে যাচ্ছে ক্রিকেটের মানচিত্র, বাড়ছে ক্লাবভিত্তিক আধিপত্যের প্রশ্ন ভয়ের আসল নাম কি ‘ব্লু রেজিম’? ইউরোজোনের শিল্পখাতে গতি কমেছে, মূল্যস্ফীতির নতুন চাপের শঙ্কা পিএসজির জয়ে উল্লাস থেকে সহিংসতা, ফ্রান্সে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে চাকরি ও রেমিট্যান্সে ধাক্কার আশঙ্কা জনসংখ্যা হ্রাসের সংকট: সভ্যতার ভবিষ্যৎ কি নিঃসঙ্গতার হাতে বন্দী? গাজা যুদ্ধবিরতি এগোবে কি? মিসরে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় হামাস ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বাণিজ্যে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে খলিলুর রহমানের মনোনয়ন: দেশের কি লাভ হবে?

না, দেশের কোন লাভ হবে না এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলার আগে এর প্রেক্ষাপট আলোচনা করি।
আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন এবছর সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং পরবর্তী সভাপতি মনোনয়ন হবে আজ ভোটাভুটির মাধ্যমে। এতে বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সাইপ্রাসের সঙ্গে। বাংলাদেশের প্রার্থী হলো বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিতর্কিত খলিলুর রহমান। ভোটাভুটিতে তিনি হয়তো জিতেও যেতে পারেন।
এ খবরটি আমি যখন প্রথম শুনি তখন একটাই কথা ভাবছিলাম যে এরকম একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে তারেক রহমান কোন উদ্দেশ্যে মনোনয়ন দিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূসের আমলে নিয়োগ পাওয়া খলিল বর্তমান সরকারেও মন্ত্রী হয়েছেন। অনেকের ধারণা তিনি হয়তো অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট এবং সফল। তবে গত দু বছরে তার সফলতা কি সেটা আমরা কেউ জানিনা। খুব জোরেশোরে প্রচার করা হচ্ছে আমেরিকার সঙ্গে দহরম- মহরমের কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাব ভাব দেখে মনে হয় হোয়াইট হাউস বা আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে যারা কাজ করেন তারা খলিলের পরামর্শ ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত নেন না।
তবে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ, পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হয়ে ইউনুস সরকারে তিনি কি সাফল্য অর্জন করেছেন সেটা ঠিক জানিনা। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গত তিন মাসে তার কি অর্জন সেটাও এখনো পরিষ্কার না।
এরকম একজনকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে বাংলাদেশ কি অর্জন করবে সেটাই বড় প্রশ্ন। দীর্ঘদিন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা এবং বড় বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন কাভার করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এতে বাংলাদেশের বিন্দুমাত্র কোন লাভ হবে না। বরং ক্ষতি হবে।
এখানে উল্লেখ করি ১৯৮৬ সালে জেনারেল এরশাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হয়েছিলেন। তখন আমাদের বলা হয়েছিল যে এই পদ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং বিশ্ববাসী আমাদেরকে সম্মান করবে। বাস্তবে কিছুই হয়নি। আমি তার সাক্ষী। তখন এটা নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছিলাম। আপনাদের হয়তো মনে আছে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত হন।
এ প্রসঙ্গে বলে রাখি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি একটা গুরুত্বহীন পদ। প্রতিবছর একজন করে নির্বাচিত হন ভোটাভুটির মাধ্যমে। কিন্তু কেউ জানে না, বা জানার চেষ্টাও করে না যে তিনি কোন দেশের বা তার নাম কি। যেমন বর্তমান সভাপতির নাম কি বা কোন দেশের কেউ কি জানেন? আমি অন্তত জানি না। আর জানার চেষ্টাও করিনি, কারন এটার কোন গুরুত্ব নেই।
এই পদে নির্বাচিত হলে জাতিসংঘ থেকে তার বেতন ভাতা কোনো কিছুই দেয়া হয় না। এটা স্বাগতিক দেশ বহন করে। হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীর ১৯৮৬ সালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি ব্যক্তি হুমায়ুন রশিদ এবং তার সঙ্গে যে সব অফিসাররা সেখানে পোস্টেড থাকে তাদের কিছু আয় উন্নতি হয়। সেই সময় বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকজন অফিসারকে হুমায়ুন রশিদের টেম্পোরারি সেক্রেটারিয়েটে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই গরীব দেশের ট্যাক্সপেয়াররা তার সমস্ত খরচ বহন করে।
তাহলে প্রশ্ন জাগে এ ধরনের পদে আগ্রহের কারণটা কি? স্পষ্টভাবে বলতে চাই দেশের যে এলিট শ্রেণি অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা আছেন তারা সরকার প্রধানকে বুঝান যে এখানে আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জল হবে। আমাদের শাসকদের একটাই কথা বলব দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় তখনই যখন দেশের এবং জনগণের সামগ্রিক উন্নতি হয়। ১৮ কোটির মধ্যে ৪ কোটির উপরে মানুষ যখন দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত সে দেশের ভাবমূর্তির কখনোই উন্নতি হতে পারে না।
আবার আসি খলিল প্রসঙ্গে। ইতিমধ্যে দেখেছেন তাকে এক বছরের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন। মোদ্দা কথা হল তাকে ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতে পারে না এটাই তারেক রহমান সাহেব আমাদেরকে বুঝাতে চাচ্ছেন। একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই এই পৃথিবীতে কেউ indispensible না।

আমার আশঙ্কা হচ্ছে বিদেশি সংবাদ মাধ্যম যদি খলিলুর রহমান সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয় তখন তার বহুল আলোচিত পরকীয়ার সম্পর্ক এবং পরিণতিতে একটা চাঞ্চল্যকর খুন-আত্মহত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসতে পারে। সেটা কি দেশ বা বর্তমান সরকারের জন্য ভালো হবে? আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টা ভেবে দেখবেন।

(আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট থেকে নিয়ে হবহু ছেপে দেওয়া হলো)

জনপ্রিয় সংবাদ

অটিজম থেরাপি খাতে বিস্ফোরক প্রবৃদ্ধি, সঙ্গে বাড়ছে বিল জালিয়াতির অভিযোগ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে খলিলুর রহমানের মনোনয়ন: দেশের কি লাভ হবে?

০৭:২১:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
না, দেশের কোন লাভ হবে না এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলার আগে এর প্রেক্ষাপট আলোচনা করি।
আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন এবছর সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং পরবর্তী সভাপতি মনোনয়ন হবে আজ ভোটাভুটির মাধ্যমে। এতে বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সাইপ্রাসের সঙ্গে। বাংলাদেশের প্রার্থী হলো বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিতর্কিত খলিলুর রহমান। ভোটাভুটিতে তিনি হয়তো জিতেও যেতে পারেন।
এ খবরটি আমি যখন প্রথম শুনি তখন একটাই কথা ভাবছিলাম যে এরকম একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে তারেক রহমান কোন উদ্দেশ্যে মনোনয়ন দিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূসের আমলে নিয়োগ পাওয়া খলিল বর্তমান সরকারেও মন্ত্রী হয়েছেন। অনেকের ধারণা তিনি হয়তো অত্যন্ত এফিশিয়েন্ট এবং সফল। তবে গত দু বছরে তার সফলতা কি সেটা আমরা কেউ জানিনা। খুব জোরেশোরে প্রচার করা হচ্ছে আমেরিকার সঙ্গে দহরম- মহরমের কারণে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাব ভাব দেখে মনে হয় হোয়াইট হাউস বা আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে যারা কাজ করেন তারা খলিলের পরামর্শ ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত নেন না।
তবে রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ, পরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হয়ে ইউনুস সরকারে তিনি কি সাফল্য অর্জন করেছেন সেটা ঠিক জানিনা। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে গত তিন মাসে তার কি অর্জন সেটাও এখনো পরিষ্কার না।
এরকম একজনকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে বাংলাদেশ কি অর্জন করবে সেটাই বড় প্রশ্ন। দীর্ঘদিন সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা এবং বড় বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন কাভার করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এতে বাংলাদেশের বিন্দুমাত্র কোন লাভ হবে না। বরং ক্ষতি হবে।
এখানে উল্লেখ করি ১৯৮৬ সালে জেনারেল এরশাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হয়েছিলেন। তখন আমাদের বলা হয়েছিল যে এই পদ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং বিশ্ববাসী আমাদেরকে সম্মান করবে। বাস্তবে কিছুই হয়নি। আমি তার সাক্ষী। তখন এটা নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছিলাম। আপনাদের হয়তো মনে আছে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত হন।
এ প্রসঙ্গে বলে রাখি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি একটা গুরুত্বহীন পদ। প্রতিবছর একজন করে নির্বাচিত হন ভোটাভুটির মাধ্যমে। কিন্তু কেউ জানে না, বা জানার চেষ্টাও করে না যে তিনি কোন দেশের বা তার নাম কি। যেমন বর্তমান সভাপতির নাম কি বা কোন দেশের কেউ কি জানেন? আমি অন্তত জানি না। আর জানার চেষ্টাও করিনি, কারন এটার কোন গুরুত্ব নেই।
এই পদে নির্বাচিত হলে জাতিসংঘ থেকে তার বেতন ভাতা কোনো কিছুই দেয়া হয় না। এটা স্বাগতিক দেশ বহন করে। হুমায়ূন রশিদ চৌধুরীর ১৯৮৬ সালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি ব্যক্তি হুমায়ুন রশিদ এবং তার সঙ্গে যে সব অফিসাররা সেখানে পোস্টেড থাকে তাদের কিছু আয় উন্নতি হয়। সেই সময় বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকজন অফিসারকে হুমায়ুন রশিদের টেম্পোরারি সেক্রেটারিয়েটে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই গরীব দেশের ট্যাক্সপেয়াররা তার সমস্ত খরচ বহন করে।
তাহলে প্রশ্ন জাগে এ ধরনের পদে আগ্রহের কারণটা কি? স্পষ্টভাবে বলতে চাই দেশের যে এলিট শ্রেণি অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা আছেন তারা সরকার প্রধানকে বুঝান যে এখানে আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জল হবে। আমাদের শাসকদের একটাই কথা বলব দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয় তখনই যখন দেশের এবং জনগণের সামগ্রিক উন্নতি হয়। ১৮ কোটির মধ্যে ৪ কোটির উপরে মানুষ যখন দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত সে দেশের ভাবমূর্তির কখনোই উন্নতি হতে পারে না।
আবার আসি খলিল প্রসঙ্গে। ইতিমধ্যে দেখেছেন তাকে এক বছরের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবেন। মোদ্দা কথা হল তাকে ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতে পারে না এটাই তারেক রহমান সাহেব আমাদেরকে বুঝাতে চাচ্ছেন। একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই এই পৃথিবীতে কেউ indispensible না।

আমার আশঙ্কা হচ্ছে বিদেশি সংবাদ মাধ্যম যদি খলিলুর রহমান সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয় তখন তার বহুল আলোচিত পরকীয়ার সম্পর্ক এবং পরিণতিতে একটা চাঞ্চল্যকর খুন-আত্মহত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসতে পারে। সেটা কি দেশ বা বর্তমান সরকারের জন্য ভালো হবে? আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টা ভেবে দেখবেন।

(আন্তর্জাতিকখ্যাতি সম্পন্ন সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদের ফেসবুক পোষ্ট থেকে নিয়ে হবহু ছেপে দেওয়া হলো)