মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা আগামী এক বছরে শ্রমবাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চাকরি নিয়োগে ধীরগতি এবং বিদেশি কর্মীদের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় রেমিট্যান্সনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা স্থগিত করছে, ফলে চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
নিয়োগে ধীরগতি
বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত এক জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশ মনে করেন, আগামী ১২ মাসে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার দুর্বল বা খুবই দুর্বল থাকবে। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়িক আস্থা কমেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা শ্রমবাজারে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব
গালফ অঞ্চলের দেশগুলোতে বেসরকারি খাতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী কাজ করেন। বিভিন্ন দেশে এই খাতে বিদেশি শ্রমিকের অংশ ৭৬ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে চাকরি কমে গেলে বা আয় হ্রাস পেলে রেমিট্যান্স প্রবাহেও সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্থানীয় শ্রমবাজারে অস্থিরতা এবং অর্থ পাঠানোর প্রবাহে বিঘ্ন দেখা দিলে রেমিট্যান্সনির্ভর অর্থনীতিগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। অভিবাসী কর্মীদের উপার্জন কমে গেলে পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিও এর প্রভাব অনুভব করবে।

উপসাগরীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা
তবে সব দেশ একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী উপসাগরীয় অর্থনীতিগুলো এখনো কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। সৌদি আরবে অবকাঠামো, পর্যটন ও জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সাইবার নিরাপত্তা খাতে নিয়োগ কার্যক্রম এখনও সক্রিয়।
তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পুঁজি প্রবাহ, পর্যটন এবং রেমিট্যান্সে পরিবর্তনের প্রভাব থেকে উপসাগরীয় শ্রমবাজারও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।
প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ
অর্থনীতিবিদদের বড় অংশ মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চিত্র আগের তুলনায় দ্রুত খারাপ হয়েছে। যেখানে কয়েক মাস আগেও অঞ্চলটিকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছিল, এখন সেখানে দুর্বল প্রবৃদ্ধির আশঙ্কাই বেশি।
একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন তৈরি হলে আমদানি পণ্যের সরবরাহ কমে যেতে পারে, যার ফলে পণ্যমূল্য দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো কিছুটা ধাক্কা সামাল দিতে পারলেও আমদানিনির্ভর ও সংঘাতপ্রভাবিত অর্থনীতিগুলোকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
























