১২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর শিল্পের পুরোনো শক্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, ইতালিতে শুরু ‘শিল্প পুনর্জাগরণ’ এআইকে মানুষ যতটা ভাবছে, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও বড় ব্যক্তিত্বের গড়নে জিনের প্রভাব কতটা? ১০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য থেকে মিলল নতুন উত্তর ঘুম আসছে না? বিছানায় পড়ে না থেকে উঠে পড়ুন, বলছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমারে ১০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্ত অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী বাবাকে হারিয়ে বদলে যাওয়ার লড়াই, অভিবাসী পরিবারের কণ্ঠ হয়ে উঠছেন সালগাদো ভাইয়েরা ঢাকা মেডিকেলে দুই হাজতির মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বাণিজ্যে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় নতুন এক অর্থনৈতিক উদ্যোগকে ঘিরে ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো রপ্তানি খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে কয়লা, পাম তেল ও নিকেলজাত পণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যের বাণিজ্যে সরকারের সরাসরি ভূমিকা বাড়বে।

সম্প্রতি সংসদে অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সম্পদ থেকে প্রাপ্য রাজস্ব পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশে সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে কম দামে পণ্য বিক্রি করে কর ফাঁকির সুযোগ নিয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে।

নতুন রাষ্ট্রীয় সংস্থার দায়িত্ব

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একটি নতুন রাষ্ট্রীয় সংস্থা গঠন করেছে। সংস্থাটির কাজ হবে দেশের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের একক ক্রেতা হিসেবে কাজ করা এবং পরে আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো বিক্রি করা। সরকারের মতে, এর মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত করা যাবে এবং কর আদায় বাড়বে।

একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা আয়ের শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে জমা রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য জাতীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবসায়িক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি ব্যবস্থার মধ্যে নতুন একটি সরকারি স্তর যুক্ত হলে প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে। এতে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব, অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা এবং বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আরও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে। এসব চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনও পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এই অনিশ্চয়তার প্রভাব ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারে দেখা গেছে। প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, নতুন ব্যবস্থার কারণে কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে।

Indonesia's erratic president grabs the country's commodity exports

সরকারের আশ্বাস

উদ্বেগ প্রশমনে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান চুক্তিগুলোর প্রতি সম্মান দেখানো হবে এবং বাজারের প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তার ইঙ্গিতও দেখা গেছে। বিশেষ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

প্রবোও সুবিয়ান্তোর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির প্রবণতা আগেও দেখা গেছে। বনভূমি ব্যবস্থাপনা, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ওপর আর্থিক দায়বদ্ধতা আরোপের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উদ্যোগ শুধু একটি প্রশাসনিক সংস্কার নয়; এটি রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাতের সম্পর্কের ধরনেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব বৃদ্ধি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হলেও বাস্তবে এই নীতি অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে নীতিগত স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, নাকি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দুর্বল করবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে কয়লা, পাম তেল ও নিকেল রপ্তানিতে নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে রাজস্ব বাড়বে নাকি ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়বে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের

ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বাণিজ্যে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

০৮:১৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় নতুন এক অর্থনৈতিক উদ্যোগকে ঘিরে ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো রপ্তানি খাতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে কয়লা, পাম তেল ও নিকেলজাত পণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্যের বাণিজ্যে সরকারের সরাসরি ভূমিকা বাড়বে।

সম্প্রতি সংসদে অর্থনৈতিক নীতিবিষয়ক এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সম্পদ থেকে প্রাপ্য রাজস্ব পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশে সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে কম দামে পণ্য বিক্রি করে কর ফাঁকির সুযোগ নিয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে।

নতুন রাষ্ট্রীয় সংস্থার দায়িত্ব

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার একটি নতুন রাষ্ট্রীয় সংস্থা গঠন করেছে। সংস্থাটির কাজ হবে দেশের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের একক ক্রেতা হিসেবে কাজ করা এবং পরে আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো বিক্রি করা। সরকারের মতে, এর মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত করা যাবে এবং কর আদায় বাড়বে।

একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা আয়ের শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকে জমা রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য জাতীয় মুদ্রার ওপর চাপ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে ব্যবসায়িক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি ব্যবস্থার মধ্যে নতুন একটি সরকারি স্তর যুক্ত হলে প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে। এতে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব, অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা এবং বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আরও বড় প্রশ্ন হচ্ছে, বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে। এসব চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনও পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এই অনিশ্চয়তার প্রভাব ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারে দেখা গেছে। প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, নতুন ব্যবস্থার কারণে কোম্পানিগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে।

Indonesia's erratic president grabs the country's commodity exports

সরকারের আশ্বাস

উদ্বেগ প্রশমনে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান চুক্তিগুলোর প্রতি সম্মান দেখানো হবে এবং বাজারের প্রতিক্রিয়াও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তার ইঙ্গিতও দেখা গেছে। বিশেষ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

প্রবোও সুবিয়ান্তোর শাসনামলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির প্রবণতা আগেও দেখা গেছে। বনভূমি ব্যবস্থাপনা, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ওপর আর্থিক দায়বদ্ধতা আরোপের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উদ্যোগ শুধু একটি প্রশাসনিক সংস্কার নয়; এটি রাষ্ট্র ও বেসরকারি খাতের সম্পর্কের ধরনেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব বৃদ্ধি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হলেও বাস্তবে এই নীতি অর্থনীতিতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে নীতিগত স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, নাকি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দুর্বল করবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়ে কয়লা, পাম তেল ও নিকেল রপ্তানিতে নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে রাজস্ব বাড়বে নাকি ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা বাড়বে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।