লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা প্রশ্নের মুখে তুলেছেন কংগ্রেস নেতা জয়ারাম রমেশ। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময়ে ভারতের অবস্থান এবং সরকারের নীরবতা দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জয়ারাম রমেশ বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শুধু আঞ্চলিক শান্তির জন্য নয়, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক রুটের ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব
জয়ারাম রমেশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক ব্যবহার পুনরায় নিশ্চিত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি হবে, যা ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা কমলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
লেবাননে অভিযান নিয়ে সমালোচনা
কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা এখনও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি এবং এর পেছনে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেরও প্রভাব রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ এ নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোদিকে সরাসরি আক্রমণ
জয়ারাম রমেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, যখন অনেক দেশ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করছে, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করছেন না।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা
জয়ারাম রমেশের এই মন্তব্যের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়া নীতি নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে আরব দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির জ্বালানি আমদানি, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বড় অংশ এ অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইসরায়েল-লেবানন পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
মোদি নীরবতা নিয়ে জয়ারাম রমেশের প্রশ্ন, লেবানন পরিস্থিতি ও পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা ঘিরে ভারতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















