১২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর শিল্পের পুরোনো শক্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, ইতালিতে শুরু ‘শিল্প পুনর্জাগরণ’ এআইকে মানুষ যতটা ভাবছে, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও বড় ব্যক্তিত্বের গড়নে জিনের প্রভাব কতটা? ১০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য থেকে মিলল নতুন উত্তর ঘুম আসছে না? বিছানায় পড়ে না থেকে উঠে পড়ুন, বলছেন ঘুম বিশেষজ্ঞরা মিয়ানমারে ১০০ দিনের বেশি কারাভোগের পর মুক্ত অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী বাবাকে হারিয়ে বদলে যাওয়ার লড়াই, অভিবাসী পরিবারের কণ্ঠ হয়ে উঠছেন সালগাদো ভাইয়েরা ঢাকা মেডিকেলে দুই হাজতির মৃত্যু

মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন জয়ারাম রমেশের, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা প্রশ্নের মুখে তুলেছেন কংগ্রেস নেতা জয়ারাম রমেশ। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময়ে ভারতের অবস্থান এবং সরকারের নীরবতা দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জয়ারাম রমেশ বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শুধু আঞ্চলিক শান্তির জন্য নয়, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক রুটের ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

জয়ারাম রমেশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক ব্যবহার পুনরায় নিশ্চিত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি হবে, যা ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা কমলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

লেবাননে অভিযান নিয়ে সমালোচনা

কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা এখনও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি এবং এর পেছনে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেরও প্রভাব রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও দাবি করেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ এ নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Jairam Ramesh criticises Modi for silence on Israel-Lebanon conflict amid  US-Iran talks

মোদিকে সরাসরি আক্রমণ

জয়ারাম রমেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, যখন অনেক দেশ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করছে, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করছেন না।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা

জয়ারাম রমেশের এই মন্তব্যের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়া নীতি নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে আরব দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির জ্বালানি আমদানি, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বড় অংশ এ অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইসরায়েল-লেবানন পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

মোদি নীরবতা নিয়ে জয়ারাম রমেশের প্রশ্ন, লেবানন পরিস্থিতি ও পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা ঘিরে ভারতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের

মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন জয়ারাম রমেশের, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

০৬:১০:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা প্রশ্নের মুখে তুলেছেন কংগ্রেস নেতা জয়ারাম রমেশ। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময়ে ভারতের অবস্থান এবং সরকারের নীরবতা দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জয়ারাম রমেশ বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শুধু আঞ্চলিক শান্তির জন্য নয়, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক রুটের ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

জয়ারাম রমেশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক ব্যবহার পুনরায় নিশ্চিত হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি হবে, যা ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে উত্তেজনা কমলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

লেবাননে অভিযান নিয়ে সমালোচনা

কংগ্রেস নেতা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা এখনও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি এবং এর পেছনে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানেরও প্রভাব রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও অনুপ্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক সমাধানের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও দাবি করেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ এ নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Jairam Ramesh criticises Modi for silence on Israel-Lebanon conflict amid  US-Iran talks

মোদিকে সরাসরি আক্রমণ

জয়ারাম রমেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, যখন অনেক দেশ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করছে, তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করছেন না।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা

জয়ারাম রমেশের এই মন্তব্যের মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়া নীতি নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে আরব দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির জ্বালানি আমদানি, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বড় অংশ এ অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইসরায়েল-লেবানন পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

মোদি নীরবতা নিয়ে জয়ারাম রমেশের প্রশ্ন, লেবানন পরিস্থিতি ও পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা ঘিরে ভারতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।