ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের শাসক নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে গ্রেপ্তার হলেও দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্র এখনো পুরোপুরি বদলায়নি। সরকার ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে তার ঘনিষ্ঠ মিত্ররাই বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন, ফলে তেলসমৃদ্ধ এই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর কার হাতে ক্ষমতা
মাদুরো গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সহসভাপতি ডেলসি রদ্রিগেজ শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী মাদুরোর অনুপস্থিতিতে তারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ার কথা। কিন্তু শিগগিরই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ডেলসি রদ্রিগেজ তার ভাই জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজকে সঙ্গে নিয়ে ঘোষণা দেন, মাদুরোই এখনো দেশের একমাত্র প্রেসিডেন্ট। এই যৌথ উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, ক্ষমতার শীর্ষ বৃত্ত আপাতত ঐক্যবদ্ধ।
বিরোধীদের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে কাজের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তার বক্তব্য, দেশের ভেতরে মাচাদোর যথেষ্ট সমর্থন নেই। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন, সরকার অবশ্য ভিন্ন ফল দাবি করে।
বেসামরিক ও সামরিক ভারসাম্য
দীর্ঘ সময় ধরে ভেনেজুয়েলায় প্রকৃত ক্ষমতা একটি সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত। বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক ও সামরিক শক্তির সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপরই এই কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। বেসামরিক অংশে রদ্রিগেজ ভাইবোন এবং সামরিক অংশে কাবেলো ও পাদ্রিনো লোপেজ প্রভাবশালী। এই জটিল নেটওয়ার্ক ভাঙা কেবল একজন নেতাকে সরালেই সম্ভব নয়।
কাবেলোর ভূমিকা ও নিরাপত্তা বাহিনী
বিশেষ নজর এখন দিয়োসদাদো কাবেলোর দিকে। সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থায় তার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এসব সংস্থার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও এসেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কাবেলো প্রকাশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে সক্রিয় থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
জেনারেলদের নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অর্থনীতি
ভেনেজুয়েলায় জেনারেল ও অ্যাডমিরালের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা খাদ্য সরবরাহ, কাঁচামাল ও রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ন্ত্রণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী স্মাগলিং রুট ও অবৈধ বাণিজ্য থেকেও তারা লাভবান হন। এসব সুবিধার বিনিময়ে শাসকগোষ্ঠীর প্রতি তাদের আনুগত্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ কোন পথে
মাদুরো গ্রেপ্তারের পর কিছু কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেলেও, কাবেলোর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। ফলে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কাঠামো ভাঙবে নাকি আগের মতোই টিকে থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















