০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
জকসুতে ভিপি-জিএসসহ ২১ পদের ১৬টিতে জয় পেল শিবির সমর্থিত প্যানেল গভর্নরস বল ২০২৬: লর্ড, স্ট্রে কিডস ও এ$এপি রকি হেডলাইনার চীনের নতুন রপ্তানি কড়াকড়িতে চাপে জাপানের শিল্পখাত, বিরল খনিজ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা সিইএস ২০২৬: ‘এআই’ দিয়ে নতুন গ্যাজেট চক্রের ইঙ্গিত বিশ্বাসঘাতকতার অন্ধকার অধ্যায়: সিআইএর ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষতিকর গুপ্তচর অ্যালড্রিচ এমসের মৃত্যু এনভিডিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গিগা ফ্যাক্টরি, দুই হাজার ছাব্বিশ পর্যন্ত চাহিদা বাড়বে বলে জানাল লেনোভো অজুহাত মানে না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষক, ফিটনেস রেজল্যুশন টিকিয়ে রাখার নতুন যুদ্ধ ইয়িদান পুরস্কারপ্রাপ্তদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে বদলাচ্ছে আধুনিক শিক্ষা ও দক্ষতার ধারণা এক হাতে শক্তি আর বিস্ফোরণ ক্ষমতার চর্চা, সিঙ্গেল আর্ম হ্যাং ক্লিনে বদলান শরীরের ছন্দ ইউরোপজুড়ে তুষার ও বরফের তাণ্ডব, বাতিল শত শত ফ্লাইট, সড়কে প্রাণহানি

ক্যাপিটল হিলে মাত্র চতুর্থ দিন: জানুয়ারি ৬-এর ভেতরের গল্প নতুন করে মনে করাল ‘দ্য আটলান্টিক’

ভেতরে ছিল অজানা আতঙ্কের নিয়ম

জানুয়ারি ৬-এর বার্ষিকীতে ‘দ্য আটলান্টিক’-এ প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লেখা দিনটিকে নতুন করে দেখায়—একজন নবীন সহকারী কর্মীর চোখ দিয়ে। লেখক বলছেন, তিনি তখন আইন স্কুল শেষ করে সদ্য ক্যাপিটল হিলে কাজ শুরু করেছেন। প্রথম চাকরির স্বাভাবিক টেনশন ছিল, কোথায় কী আছে সেটাও ঠিকমতো জানা হয়নি। কিন্তু খুব দ্রুত সেই পরিচিত অফিস-বাস্তবতা বদলে যায়; কর্মক্ষেত্রই হয়ে ওঠে আশ্রয়কেন্দ্র, আর “আপডেটের অপেক্ষা” মানে হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক মাধ্যম থেকে তথ্য খুঁজে নেওয়া।

লেখাটির কেন্দ্রীয় অনুভূতি—ভেতরে থেকেও কতটা অপ্রস্তুত মানুষজন ছিল। জরুরি সতর্কবার্তা আসে, ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথমে বোমা বা সন্দেহজনক প্যাকেজের ভয় ছিল, পরে বোঝা যায় ভিড় ক্যাপিটল ভেঙে ঢুকেছে। এই আতঙ্কের ধরনটা আলাদা: ভবনে ঢুকেছে কি না জানা নেই, টার্গেট হওয়া যাবে কি না নিশ্চিত নয়, আর পরিস্থিতি বদলাতে থাকায় কোন নির্দেশ মানতে হবে সেটাও স্পষ্ট নয়।

January 6: The day that still divides America, three years on

ছোট ছোট সিদ্ধান্তও এখানে বড় অর্থ পায়। লেখক বলেন, প্রাইড ফ্ল্যাগ ও ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ফ্ল্যাগ নামিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে লক্ষ্য করা না যায়। তারপর দরজা আটকাতে ভারী সোফা টেনে দেওয়া হয়। অফিসে জড়ো হন বিভিন্ন স্টাফ ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা—চিপস, চকোলেট হাতে কেউ কেউ কথা বলার চেষ্টা করেন, যেন স্ক্রিনের ভেতরের ভয়াবহ দৃশ্য আর দরজার বাইরের নীরবতা ঢেকে রাখা যায়। লেখাটি বোঝায়, ভয় সবসময় চিৎকার করে আসে না; কখনও তা আসে জোর করে শান্ত থাকার ভঙ্গিতে, অস্বস্তিকর রসিকতায়, বা প্রতিটি কড়াকড়ি শব্দে চমকে ওঠার মধ্য দিয়ে।

ঘটনা যে শুধু ভাঙচুরে শেষ হয়নি, লেখাটি সেটাও দেখায়। ক্যাপিটল কমপ্লেক্স পরিষ্কার হওয়ার পরও অনিশ্চয়তা কাটেনি। লেখক বলেন, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া বসের সঙ্গে যোগাযোগ একসময় বন্ধ হয়ে যায়—এটি ভেতরের মানুষদের জন্য নতুন এক আতঙ্ক। পরে তিনি বেঁচে আছেন নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্তটি আসে তীব্র স্বস্তি হিসেবে। রাতও দীর্ঘ হয়—কংগ্রেস ফের অধিবেশনে বসে, যেন নিয়মতান্ত্রিকতা ভয়াবহতার ওপরও টিকে থাকার বার্তা দেয়।

স্মৃতি, ব্যাখ্যা, আর পরের বছরের দেশ

লেখাটি কেবল ‘সেদিন কী হয়েছিল’ নয়, ‘তারপর কী হলো’—সেটিও প্রশ্ন করে। লেখক মনে করিয়ে দেন, একটি সময় মনে হয়েছিল দেশ বুঝি সেই সহিংস রাজনীতিকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। কিছু প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞা দেয়, কিছু প্রভাবশালী রিপাবলিকান প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। কিন্তু লেখকের ভাষ্যে সেই জানালা দ্রুত সংকুচিত হয়—রাজনৈতিক সুবিধার হিসাব বদলায়, দায়বদ্ধতা নিয়ে তর্ক দলীয় সংঘাতে পরিণত হয়।

January 6 U.S. Capitol Attack | Background, Events, Criminal Charges, & Facts | Britannica

এটি ট্রমার লেখাও। লেখক অনিদ্রা, শেল-শক, দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তির কথা বলেন। তাঁর মতে, জানুয়ারি ৬-এর স্মৃতি ‘স্থির’ হয়নি; বরং এটি নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে—কখনও নিন্দা, কখনও ছোট করে দেখা। নীতিপত্রের মতো উপদেশ নয়; এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যা দেখায় প্রতিষ্ঠানগুলো আসলে মানুষের ভেতর দিয়ে চলে, আর মানুষ সেই অভিজ্ঞতা অনেক দূর পর্যন্ত বহন করে।

সংবাদ পাঠকের দিক থেকেও লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেয়। বার্ষিকী মানেই এখন শুধু টাইমলাইন নয়; অনেক পাঠক চান ভেতরের টেক্সচার—কীভাবে ঘর বন্ধ করা হয়েছিল, কেমন ছিল নীরবতা, কীভাবে তথ্যের ঘাটতি ছিল। সেই টেক্সচার দিয়েই লেখাটি অতীত ও বর্তমানকে জোড়া লাগায়—রাজনৈতিক সহিংসতা যে আস্থা ও প্রত্যাশাকে দীর্ঘদিন বদলে দেয়।

শেষ পর্যন্ত এটি সাংস্কৃতিক প্রভাবের কথাও বলে। যখন কর্মক্ষেত্রই বিপদ অঞ্চলে পরিণত হয়, নাগরিক রীতিনীতি আর ব্যক্তিগত টিকে থাকার সীমারেখা ভেঙে যায়। লেখাটি সেই ভাঙনকে দৈনন্দিন খুঁটিনাটির ভেতর দিয়ে দেখায়, আর মনে করিয়ে দেয়—দিনটির অর্থ নিয়ে তর্ক চললেও, ভেতরে থাকা মানুষের শরীর ও স্মৃতিতে এর ছাপ রয়ে গেছে।

Inside the Jan 6 U.S. Capitol attack - May 4, 2023 | Reuters

জনপ্রিয় সংবাদ

জকসুতে ভিপি-জিএসসহ ২১ পদের ১৬টিতে জয় পেল শিবির সমর্থিত প্যানেল

ক্যাপিটল হিলে মাত্র চতুর্থ দিন: জানুয়ারি ৬-এর ভেতরের গল্প নতুন করে মনে করাল ‘দ্য আটলান্টিক’

১০:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভেতরে ছিল অজানা আতঙ্কের নিয়ম

জানুয়ারি ৬-এর বার্ষিকীতে ‘দ্য আটলান্টিক’-এ প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লেখা দিনটিকে নতুন করে দেখায়—একজন নবীন সহকারী কর্মীর চোখ দিয়ে। লেখক বলছেন, তিনি তখন আইন স্কুল শেষ করে সদ্য ক্যাপিটল হিলে কাজ শুরু করেছেন। প্রথম চাকরির স্বাভাবিক টেনশন ছিল, কোথায় কী আছে সেটাও ঠিকমতো জানা হয়নি। কিন্তু খুব দ্রুত সেই পরিচিত অফিস-বাস্তবতা বদলে যায়; কর্মক্ষেত্রই হয়ে ওঠে আশ্রয়কেন্দ্র, আর “আপডেটের অপেক্ষা” মানে হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক মাধ্যম থেকে তথ্য খুঁজে নেওয়া।

লেখাটির কেন্দ্রীয় অনুভূতি—ভেতরে থেকেও কতটা অপ্রস্তুত মানুষজন ছিল। জরুরি সতর্কবার্তা আসে, ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথমে বোমা বা সন্দেহজনক প্যাকেজের ভয় ছিল, পরে বোঝা যায় ভিড় ক্যাপিটল ভেঙে ঢুকেছে। এই আতঙ্কের ধরনটা আলাদা: ভবনে ঢুকেছে কি না জানা নেই, টার্গেট হওয়া যাবে কি না নিশ্চিত নয়, আর পরিস্থিতি বদলাতে থাকায় কোন নির্দেশ মানতে হবে সেটাও স্পষ্ট নয়।

January 6: The day that still divides America, three years on

ছোট ছোট সিদ্ধান্তও এখানে বড় অর্থ পায়। লেখক বলেন, প্রাইড ফ্ল্যাগ ও ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ফ্ল্যাগ নামিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে লক্ষ্য করা না যায়। তারপর দরজা আটকাতে ভারী সোফা টেনে দেওয়া হয়। অফিসে জড়ো হন বিভিন্ন স্টাফ ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা—চিপস, চকোলেট হাতে কেউ কেউ কথা বলার চেষ্টা করেন, যেন স্ক্রিনের ভেতরের ভয়াবহ দৃশ্য আর দরজার বাইরের নীরবতা ঢেকে রাখা যায়। লেখাটি বোঝায়, ভয় সবসময় চিৎকার করে আসে না; কখনও তা আসে জোর করে শান্ত থাকার ভঙ্গিতে, অস্বস্তিকর রসিকতায়, বা প্রতিটি কড়াকড়ি শব্দে চমকে ওঠার মধ্য দিয়ে।

ঘটনা যে শুধু ভাঙচুরে শেষ হয়নি, লেখাটি সেটাও দেখায়। ক্যাপিটল কমপ্লেক্স পরিষ্কার হওয়ার পরও অনিশ্চয়তা কাটেনি। লেখক বলেন, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া বসের সঙ্গে যোগাযোগ একসময় বন্ধ হয়ে যায়—এটি ভেতরের মানুষদের জন্য নতুন এক আতঙ্ক। পরে তিনি বেঁচে আছেন নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্তটি আসে তীব্র স্বস্তি হিসেবে। রাতও দীর্ঘ হয়—কংগ্রেস ফের অধিবেশনে বসে, যেন নিয়মতান্ত্রিকতা ভয়াবহতার ওপরও টিকে থাকার বার্তা দেয়।

স্মৃতি, ব্যাখ্যা, আর পরের বছরের দেশ

লেখাটি কেবল ‘সেদিন কী হয়েছিল’ নয়, ‘তারপর কী হলো’—সেটিও প্রশ্ন করে। লেখক মনে করিয়ে দেন, একটি সময় মনে হয়েছিল দেশ বুঝি সেই সহিংস রাজনীতিকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। কিছু প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞা দেয়, কিছু প্রভাবশালী রিপাবলিকান প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। কিন্তু লেখকের ভাষ্যে সেই জানালা দ্রুত সংকুচিত হয়—রাজনৈতিক সুবিধার হিসাব বদলায়, দায়বদ্ধতা নিয়ে তর্ক দলীয় সংঘাতে পরিণত হয়।

January 6 U.S. Capitol Attack | Background, Events, Criminal Charges, & Facts | Britannica

এটি ট্রমার লেখাও। লেখক অনিদ্রা, শেল-শক, দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তির কথা বলেন। তাঁর মতে, জানুয়ারি ৬-এর স্মৃতি ‘স্থির’ হয়নি; বরং এটি নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে—কখনও নিন্দা, কখনও ছোট করে দেখা। নীতিপত্রের মতো উপদেশ নয়; এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যা দেখায় প্রতিষ্ঠানগুলো আসলে মানুষের ভেতর দিয়ে চলে, আর মানুষ সেই অভিজ্ঞতা অনেক দূর পর্যন্ত বহন করে।

সংবাদ পাঠকের দিক থেকেও লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেয়। বার্ষিকী মানেই এখন শুধু টাইমলাইন নয়; অনেক পাঠক চান ভেতরের টেক্সচার—কীভাবে ঘর বন্ধ করা হয়েছিল, কেমন ছিল নীরবতা, কীভাবে তথ্যের ঘাটতি ছিল। সেই টেক্সচার দিয়েই লেখাটি অতীত ও বর্তমানকে জোড়া লাগায়—রাজনৈতিক সহিংসতা যে আস্থা ও প্রত্যাশাকে দীর্ঘদিন বদলে দেয়।

শেষ পর্যন্ত এটি সাংস্কৃতিক প্রভাবের কথাও বলে। যখন কর্মক্ষেত্রই বিপদ অঞ্চলে পরিণত হয়, নাগরিক রীতিনীতি আর ব্যক্তিগত টিকে থাকার সীমারেখা ভেঙে যায়। লেখাটি সেই ভাঙনকে দৈনন্দিন খুঁটিনাটির ভেতর দিয়ে দেখায়, আর মনে করিয়ে দেয়—দিনটির অর্থ নিয়ে তর্ক চললেও, ভেতরে থাকা মানুষের শরীর ও স্মৃতিতে এর ছাপ রয়ে গেছে।

Inside the Jan 6 U.S. Capitol attack - May 4, 2023 | Reuters