চীন ও জাপানের সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল। চীন সরকার জাপানে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পরই জাপানের শিল্প ও বিনিয়োগ মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই বিধি নিষেধের আওতায় ভবিষ্যতে বিরল খনিজও পড়তে পারে, যা জাপানের উৎপাদন ও রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবিলম্বে জাপানে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য রপ্তানির ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে। বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য এমন পণ্য বা প্রযুক্তি জাপানের যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, যাদের সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাদের কাছে পাঠানো যাবে না। পাশাপাশি এমন কোনো রপ্তানিও বন্ধ থাকবে, যা জাপানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
টোকিওর তীব্র প্রতিবাদ
এই ঘোষণার পর জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টোকিওতে চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। জাপানের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুধু জাপানকে লক্ষ্য করে নেওয়া এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার এই সিদ্ধান্তকে গভীর ভাবে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছে।
শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব
ঘোষণার প্রভাব পড়ে টোকিও শেয়ারবাজারে। জাপান ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে আরও খারাপ হতে পারে—এই আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। প্রধান সূচক দিনের শেষে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে গাড়ি নির্মাতা ও প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারে চাপ দেখা যায়, যা সামগ্রিক বাজার মনোভাবকে দুর্বল করে তোলে।
বিরল খনিজ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যদি বিরল খনিজ এই নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসে, তবে প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে। গাড়ি, ইলেকট্রনিক যন্ত্র, সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে এবং লাভ কমার ঝুঁকি তৈরি হবে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, জাপানের সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মন্তব্য ও তাইওয়ান ইস্যুতে অবস্থান এর প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোরতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ
জাপানের মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে সরকার গভীরভাবে অনুতপ্ত। কোন কোন পণ্য ও খাত সরাসরি প্রভাবিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সরকার পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যালোচনা করছে এবং শিল্পখাতে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















