১৪ বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিন। রোববার শুরু হওয়া এই সফরে তিনি বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাঁচ দিনের এই সফরকে ইউরোপের সঙ্গে বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপের ভেতরে আলাদা যোগাযোগের কৌশল
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে শুল্ক ও মানবাধিকার ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যেই চীন পৃথক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে চাইছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং স্পেনের রাজা ফেলিপে ষষ্ঠ আলাদাভাবে চীন সফর করেন। আইরিশ প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
)
বেইজিং ও সাংহাই এ বৈঠকের সূচি
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে মার্টিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং–এর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি–এর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হবে। বেইজিংয়ের পাশাপাশি সাংহাই সফরের কর্মসূচি রয়েছে। চীন জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি চীন–ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী তারা।
শুল্ক বিরোধ ও পাল্টা তদন্ত
গত ডিসেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা দুধ ও চিজসহ দুগ্ধজাত পণ্যে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করে চীন। এর আগে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের শুল্কের জবাবে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডির ও শূকরের মাংস আমদানির বিষয়ে তদন্ত শুরু করে বেইজিং। এই প্রেক্ষাপটে মার্টিনের সফর অর্থনৈতিক আলোচনায় নতুন গতি আনতে পারে।
পূর্ব এশিয়ায় বাড়তি কূটনৈতিক তৎপরতা
রোববার থেকেই আলাদাভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং চার দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন। এই সময়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার দ্বিতীয় বৈঠক হবে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে। সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন তাইওয়ান ইস্যুতে চীন ও জাপানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত সপ্তাহে তাইওয়ানের চারপাশে বড় আকারের সামরিক মহড়াও চালায় চীন। সফরের আগে লি জে মিয়ং জানিয়েছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে তার দেশ বরাবর এক চীন নীতি কে সম্মান করে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















