মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক গোষ্ঠী মাগা শিবির আপাতত তাদের দীর্ঘদিনের একাকিত্ববাদী অবস্থান পাশে সরিয়ে রেখে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে দ্রুত ও ব্যথাহীন সাফল্য হিসেবে দেখছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও আইনপ্রয়োগকারী অভিযানের পর ট্রাম্পপন্থীদের বড় অংশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে, যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, এই ভূমিকা দীর্ঘায়িত হলে সমর্থন দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে ।
সমর্থনের পেছনের যুক্তি
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থকেরা মনে করছেন, মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়া মানেই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নয়। আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো দীর্ঘ সংঘাতের পুনরাবৃত্তি হবে না—এমন বিশ্বাস থেকেই আপাতত তারা ঘটনাটিকে স্বাগত জানাচ্ছে। ট্রাম্প নিজেও ভেনেজুয়েলায় সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধান ও তেলসম্পদ ব্যবহারের কথা বললেও, সমর্থকেরা এটিকে দ্রুত ফল পাওয়ার কৌশল হিসেবেই দেখছেন।
ভেতর থেকেই আপত্তির সুর
তবে সব কণ্ঠ একরকম নয়। রিপাবলিকান শিবিরের কিছু পরিচিত মুখ এই অভিযানকে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আমেরিকা ফার্স্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের মতে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ব্যয়বহুল বিদেশি জটিলতায় টেনে নিতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি
ডেমোক্র্যাট শিবির এই পদক্ষেপকে অবিবেচক ও আইনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে সমালোচনা করছে। তাঁদের আশঙ্কা, এটি যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইতিহাস বলছে সামরিক সাফল্য সাধারণত স্বল্পমেয়াদি জনপ্রিয়তা বাড়ালেও অর্থনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনে।

সামনে কঠিন পরীক্ষা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা ইস্যুই হতে পারে ট্রাম্প ও মাগা আন্দোলনের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। অভিযান দ্রুত শেষ হলে এটি সমর্থকদের স্মৃতি থেকে মুছে যেতে পারে। কিন্তু যদি মার্কিন সেনা মোতায়েন বা দীর্ঘ উপস্থিতি প্রয়োজন হয়, তাহলে সমর্থকদের ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে। এই মুহূর্তে ট্রাম্প যেভাবে ঘটনাকে আমেরিকার স্বার্থে উপস্থাপন করছেন, সেটিই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সমর্থনের দিক নির্ধারণ করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















