ক্রিপটিক ক্রসওয়ার্ড সমাধান করা এক ধরনের সীমিত পরিসরের শিল্প, যেখানে ঢোকা সহজ নয়। এমনকি অনলাইনেও হাতে গোনা কয়েকটি জায়গা আছে, যেখানে নতুনরা শুরু করার সহায়তা পেতে পারেন।
এই ঘাটতির কারণেই বিবেক সিং ২০১৩ সালে তাঁর শখের সংগঠন এক্সট্রা-সি গড়ে তোলেন এবং চালু করেন সংগঠনের প্রধান আয়োজন ইন্ডিয়ান ক্রসওয়ার্ড লিগ। উল্লেখ্য, বিবেক সিং একজন আইএএস কর্মকর্তা এবং বর্তমানে বিহারের রিয়েল এস্টেট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রধান।
নতুনদের পাশাপাশি ক্রিপটিক সূত্রপ্রেমীদের জন্য তিনি ফ্রিল্যান্স উৎসাহীদের যুক্ত করে প্রতিদিন একটি করে সূত্রভিত্তিক প্রতিযোগিতা চালু করেছেন। স্কুল ও কলেজ পর্যায়েও বার্ষিক প্রতিযোগিতা রয়েছে। তবে মূল আয়োজনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভীষণ গম্ভীর। এখানে কেবল অভিজ্ঞ সমাধানকারীরাই সুযোগ পান।
এ বছর প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ ৩০ জন ধাঁধা সমাধানকারীর একজন আমি ছিলাম। ২১ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরুতে ২৬ জন প্রতিযোগী জড়ো হলে শুরুতে আড্ডা-আলাপেই সময় কাটছিল, কিন্তু লিখিত প্রাথমিক পর্ব শুরু হতেই বোঝা গেল, এটি মোটেই হালকা কোনো চ্যালেঞ্জ নয়।
শেষ পর্যন্ত ছয়জন ফাইনালে ওঠেন। চেন্নাইয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানী রামকি কৃষ্ণন, যিনি অষ্টমবারের মতো শিরোপা জেতেন; গত বছরের বিজয়ী বেঙ্গালুরুর পণ্য ব্যবস্থাপক শাশ্বত সালগাঁওকার; চেন্নাইয়ের ডেটা বিজ্ঞানী আশীর্বাদ বিশ্বনাথন; বিনিয়োগ ব্যাংকার বেঙ্কটরাঘবন সহস্রনামন; ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট সোহিল ভগত; এবং প্রি-ক্যাট প্রশিক্ষক হোসে এ।
তবে তার আগে ফিরে দেখা যাক প্রতিযোগিতার শুরুটা।

সূত্র অনুসন্ধান
সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা ১০টি রবিবার অনলাইনে প্রাথমিক পর্ব হয়। এতে অংশ নেন প্রায় ৮০০ জন। সেখান থেকে সেরা ৩০ জন উঠে আসেন প্রাথমিক লিখিত পর্বে।
এই পর্ব এতটাই কঠিন ছিল যে, উত্তীর্ণরাও নিশ্চিত ছিলেন না, তাঁরা যথেষ্ট ভালো করতে পেরেছেন কি না।
দুটি অত্যন্ত কঠিন গ্রিড তৈরি করেছিলেন চেন্নাইয়ের অবসরপ্রাপ্ত আর্থিক কর্মকর্তা ভলচন্দ্র পাসুপাথি এবং পুনের আর্থিক কর্মকর্তা এস শ্রীনিবাসন। নির্ধারিত সময়ে কেউই গ্রিড শেষ করতে না পারায় অতিরিক্ত ১৫ মিনিট দেওয়া হয়।
শেষে ফল প্রকাশের আগে আমি রামকি কৃষ্ণনকে জিজ্ঞেস করি তাঁর অবস্থা কেমন। তিনি বলেন, খুব একটা ভালো হয়নি। পরে জানা যায়, তিনি ৫৬টির মধ্যে ৪৪টি সূত্র সমাধান করেছিলেন। প্রাথমিক পর্বে সর্বোচ্চ ৪৭টি সমাধান করে শীর্ষে ছিলেন সালগাঁওকার, কিন্তু মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে তিনিও নিশ্চিত ছিলেন না ফাইনালে উঠবেন কি না।
এই পর্ব কতটা কঠিন ছিল, তা বোঝাতে একটি উদাহরণই যথেষ্ট। একটি সূত্রে শব্দের উল্টো-পাল্টা, অর্থের ইঙ্গিত এবং ব্যাখ্যা মিলিয়ে সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে হয়। সবকিছু করতে হয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করতে করতে।
গ্রিড, সাহস আর গৌরব
মধ্যাহ্নভোজের পর ছয়জন ফাইনালিস্টকে মঞ্চে ডাকা হয়। সেখানে তাঁদের সামনে তুলনামূলকভাবে কম কঠিন দুটি গ্রিড দেওয়া হয়। ফাইনালটি কুইজের আদলে পরিচালিত হয়। বড় পর্দায় ফাঁকা গ্রিড ভেসে ওঠে, একে একে সূত্র সমাধান করতে হয়, না পারলে পরের প্রতিযোগীর কাছে তা চলে যায়।

প্রাথমিক পর্বের তুলনায় ফাইনাল তুলনামূলক সহজ হলেও তাৎক্ষণিক সমাধান করাটা মোটেও সহজ ছিল না। শেষ পর্যন্ত রামকি কৃষ্ণন ৮৫ পয়েন্ট পেয়ে জয়ী হন, সোহিল ভগতের স্কোর ছিল ৭৫।
পরিষ্কার সাফল্য
পুরো আয়োজনজুড়ে বিবেক সিংকে দেখা যায় সন্তুষ্ট ও শান্ত। এক্সট্রা-সি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশ্ব ক্রিপটিক ক্রসওয়ার্ড চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত যাত্রা তাঁর জন্য দীর্ঘ ও অর্থবহ।
এই সব শুরুর আগে তিনি নতুনদের জন্য একটি বই লেখেন এবং বিমানের ইন-ফ্লাইট ম্যাগাজিনে ক্রসওয়ার্ড তৈরি করতেন।
২০১৩ সালে তিনি এক্সট্রা-সি, ইন্ডিয়ান ক্রসওয়ার্ড লিগ এবং জাতীয় স্কুল পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চালু করেন। উদ্দেশ্য ছিল ক্রসওয়ার্ডের শতবর্ষকে স্মরণ করা।
আজও নতুন প্রজন্মকে ক্রসওয়ার্ডের সঙ্গে পরিচয় করাতে তাঁর আনন্দ কমে না। তিনি মনে করেন, সাধারণ মাধ্যমিক স্তরের ইংরেজি জানলেই ক্রিপটিক ক্রসওয়ার্ড সমাধান করা সম্ভব। দরকার শুধু ইঙ্গিত বোঝা আর কিছু সমার্থক শব্দ জানা।
তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন ক্রসওয়ার্ড কেবল ইংরেজিভাষী অভিজাতদের জন্য। বাস্তবে তা নয়।
কাবির ফিরাক 



















