ফ্রান্সে বসবাস ও নাগরিকত্ব পাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদ্রূপের জবাবে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনি। তিনি বলেছেন, আমেরিকাকে মহান করার কথায় তিনি একমত, তবে সেই কাজ শুরু হবে আসন্ন নভেম্বর থেকেই।
ফ্রান্সে পরিবারসহ নতুন অধ্যায়
অস্কারজয়ী জর্জ ক্লুনি, তার স্ত্রী মানবাধিকার আইনজীবী আমাল আলামুদ্দিন ক্লুনি এবং তাদের দুই সন্তান গত মাসে ফরাসি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দক্ষিণ ফ্রান্সে দীর্ঘদিন বসবাসের পর এই নাগরিকত্ব তাদের জীবনে নতুন অধ্যায় এনেছে। ক্লুনি জানিয়েছেন, ফরাসি গোপনীয়তা আইন তাদের পরিবারকে গণমাধ্যমের অনধিকার চর্চা থেকে অনেকটাই রক্ষা করেছে এবং হলিউডের বাইরে সন্তানদের বড় করার সুযোগ দিয়েছে।

ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখে ফ্রান্সের অভিবাসন নীতি ও ক্লুনির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, ক্লুনি নাকি চলচ্চিত্রের চেয়ে রাজনীতি নিয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন এবং ফ্রান্সে অপরাধ বৃদ্ধির জন্য অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেন। এই মন্তব্যকে সরাসরি আক্রমণ হিসেবেই দেখছেন ক্লুনি।
নভেম্বরের ইঙ্গিত
একটি সাক্ষাৎকারে ক্লুনি বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টের স্লোগানের সঙ্গে তিনি একমত, আমেরিকাকে মহান করতে হবে। তবে তার মতে, সেই পরিবর্তনের শুরু হবে নভেম্বর মাসে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে ইঙ্গিত দেয়।

ফরাসি সরকারের অবস্থান
ফ্রান্সে নাগরিকত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েও দেশটির ভেতরে বিতর্ক হয়েছে। একজন জুনিয়র স্বরাষ্ট্র কর্মকর্তা দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তুললেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা জানায়, আইন অনুযায়ী ক্লুনি দম্পতি ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছেন।
ভাষা ও সংস্কৃতির টান
নতুন নিয়মে ফরাসি নাগরিকত্ব পেতে ভাষা দক্ষতা ও নাগরিক জ্ঞান পরীক্ষার শর্ত কঠোর হয়েছে। ক্লুনি স্বীকার করেছেন, দীর্ঘদিনের চেষ্টার পরও তার ফরাসি ভাষাজ্ঞান দুর্বল। তবে তিনি ফরাসি সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে আমাল ক্লুনি সাবলীলভাবে ফরাসি ভাষায় কথা বলেন এবং ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করেন।
প্রভঁসে শান্ত জীবনের সুখ
দম্পতি ২০২১ সালে প্রভঁস অঞ্চলের ব্রিনিওলের কাছে একটি পুরোনো ওয়াইন এস্টেট কিনেছেন। ক্লুনি বলেছেন, সেখানেই তার পরিবার সবচেয়ে সুখে আছে। ফরাসি সরকারও জানিয়েছে, এমন একটি পরিবারকে নাগরিক হিসেবে পেয়ে তারা আনন্দিত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















