চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নিজ বাড়ির সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার নিহত হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আজগর আলী সিকদারের বাড়ির সামনের সড়কে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত জানে আলম সিকদার বয়স ৫১ বছর। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা হামদু মিয়ার ছেলে। পারিবারিক জীবনে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। রাজনৈতিকভাবে তিনি রাউজান উপজেলা যুবদলের সদস্য ছিলেন এবং পূর্বগুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অলিমিয়া হাট এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন জানে আলম। এ সময় আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা তিনজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে আহত হয়ে তিনি সড়কে পড়ে গেলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক দীপ্তেষ রায় জানান, নিহতের বুকে ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন বলেন, তিনজন মুখোশধারী মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
নিহতের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ বলেন, জানে আলম সিকদার বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির ভেতরে অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুমন জানান, জানে আলম সিকদার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তিনি এই হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















