দেশে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা যতটা সামনে আসছে, বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন ততটাই গভীর হচ্ছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। দলটির বক্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচন আয়োজনের আগে যে ন্যূনতম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আস্থার জায়গা প্রয়োজন, তা দেশে অনুপস্থিত।
সোমবার রাজধানীর মগবাজারে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই মূল্যায়ন তুলে ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বৈঠকে দলটির নেতারা বলেন, প্রশাসনের ভেতরে কিছু সরকারি কর্মকর্তার আচরণ ও ভূমিকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসছে। এসব অভিযোগে বলা হচ্ছে, তারা নিরপেক্ষ না থেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করছেন। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের অধীনে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য ভোটের পরিবেশ গড়ে ওঠা কঠিন বলে মনে করছে জামায়াত।
শুধু প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও দলটির বড় উদ্বেগের জায়গা। বৈঠকে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার বিচারহীনতা রাজনৈতিক মাঠকে আরও সংকুচিত করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনাস্থা তৈরি করছে।
জামায়াতের নেতারা মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘ ষোল বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা দেড় হাজার শহীদ ও হাজারো আহতের ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে। এই নতুন বাংলাদেশ যেন কোনো ষড়যন্ত্র বা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে জিম্মি না হয়ে পড়ে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক করেন।
বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো রাজনৈতিক পক্ষের দিকে ঝুঁকে না পড়েন। একই সঙ্গে প্রশাসনের শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে।
জামায়াতের বক্তব্যে মূল কথা একটাই—নির্বাচনের তারিখ বা প্রস্তুতির ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। ভোটের আগে রাজনৈতিক মাঠ, প্রশাসন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আস্থার পরিবেশ তৈরি না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















