০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
সিইএস ২০২৬: ‘এআই’ দিয়ে নতুন গ্যাজেট চক্রের ইঙ্গিত বিশ্বাসঘাতকতার অন্ধকার অধ্যায়: সিআইএর ইতিহাসে সবচেয়ে ক্ষতিকর গুপ্তচর অ্যালড্রিচ এমসের মৃত্যু এনভিডিয়ার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গিগা ফ্যাক্টরি, দুই হাজার ছাব্বিশ পর্যন্ত চাহিদা বাড়বে বলে জানাল লেনোভো অজুহাত মানে না কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষক, ফিটনেস রেজল্যুশন টিকিয়ে রাখার নতুন যুদ্ধ ইয়িদান পুরস্কারপ্রাপ্তদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে বদলাচ্ছে আধুনিক শিক্ষা ও দক্ষতার ধারণা এক হাতে শক্তি আর বিস্ফোরণ ক্ষমতার চর্চা, সিঙ্গেল আর্ম হ্যাং ক্লিনে বদলান শরীরের ছন্দ ইউরোপজুড়ে তুষার ও বরফের তাণ্ডব, বাতিল শত শত ফ্লাইট, সড়কে প্রাণহানি কুয়াশা কী, কেন হয়? কুয়াশা পড়লে ঠান্ডা বাড়ে নাকি কমে? থাইল্যান্ডের বিমানবন্দর সংযোগ দ্রুতগতি রেল প্রকল্প অনিশ্চয়তায়, রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে সাত বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ এক মিনিটেই বদলে যেতে পারে জীবন

সুইজারল্যান্ডের বর্ষবরণে আগুনের বিভীষিকা, বারে মুহূর্তে নিভে গেল চল্লিশ প্রাণ

নতুন বছরের আনন্দ যে এমন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি পর্যটন শহরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মাঝেই একটি ব্যস্ত বারে হঠাৎ ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই আগুন প্রাণঘাতী রূপ নেয়।

আগুন লাগার মুহূর্ত এবং বিভ্রান্তি

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত দেড়টার দিকে বারের ভেতরে শ্যাম্পেন বোতলের সঙ্গে জ্বালানো আগুনের ফোয়ারা ছাদের খুব কাছে চলে যায়। মুহূর্তেই ছাদে আগুন ধরে যায়। উচ্চ শব্দের গান চলতে থাকায় প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন এটি কোনো মজা কিংবা সামান্য ঘটনা। কিন্তু কালো ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে।

সংকীর্ণ বেরিয়ে যাওয়ার পথ

বারটির নিচতলা ও ওপরতলায় তখন কয়েক শ মানুষ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, বেরিয়ে যাওয়ার জন্য কার্যত একটি মাত্র সরু পথ ছিল। আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই মানুষ হুড়োহুড়ি শুরু করে। ছোট দরজার সামনে ভিড় জমে যায়, অনেকে পড়ে যায়, একে অপরের ওপর চাপা পড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত চল্লিশ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বহু আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি পরিষেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগুনের গতি এত দ্রুত ছিল যে অনেককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তদন্তে যা উঠে আসছে

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শ্যাম্পেন বোতলের সঙ্গে ব্যবহৃত আগুনের ফোয়ারাই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। ছাদের শব্দরোধী উপকরণ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়ক হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সংস্কারকাজ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি বহির্গমন পথ যথাযথ ছিল কি না, সেসব বিষয়েও তদন্ত চলছে। বারের দুই ব্যবস্থাপককে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

শহর জুড়ে শোক

ঘটনার পর শহরজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনের খোঁজে অপেক্ষা করছেন। এত বড় প্রাণহানিতে আনন্দের বর্ষবরণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে জাতীয় শোকের স্মৃতিতে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিইএস ২০২৬: ‘এআই’ দিয়ে নতুন গ্যাজেট চক্রের ইঙ্গিত

সুইজারল্যান্ডের বর্ষবরণে আগুনের বিভীষিকা, বারে মুহূর্তে নিভে গেল চল্লিশ প্রাণ

১২:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের আনন্দ যে এমন মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে রূপ নেবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি পর্যটন শহরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মাঝেই একটি ব্যস্ত বারে হঠাৎ ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই আগুন প্রাণঘাতী রূপ নেয়।

আগুন লাগার মুহূর্ত এবং বিভ্রান্তি

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত দেড়টার দিকে বারের ভেতরে শ্যাম্পেন বোতলের সঙ্গে জ্বালানো আগুনের ফোয়ারা ছাদের খুব কাছে চলে যায়। মুহূর্তেই ছাদে আগুন ধরে যায়। উচ্চ শব্দের গান চলতে থাকায় প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন এটি কোনো মজা কিংবা সামান্য ঘটনা। কিন্তু কালো ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে।

সংকীর্ণ বেরিয়ে যাওয়ার পথ

বারটির নিচতলা ও ওপরতলায় তখন কয়েক শ মানুষ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, বেরিয়ে যাওয়ার জন্য কার্যত একটি মাত্র সরু পথ ছিল। আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই মানুষ হুড়োহুড়ি শুরু করে। ছোট দরজার সামনে ভিড় জমে যায়, অনেকে পড়ে যায়, একে অপরের ওপর চাপা পড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত চল্লিশ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বহু আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি পরিষেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আগুনের গতি এত দ্রুত ছিল যে অনেককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

তদন্তে যা উঠে আসছে

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শ্যাম্পেন বোতলের সঙ্গে ব্যবহৃত আগুনের ফোয়ারাই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। ছাদের শব্দরোধী উপকরণ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সহায়ক হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সংস্কারকাজ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি বহির্গমন পথ যথাযথ ছিল কি না, সেসব বিষয়েও তদন্ত চলছে। বারের দুই ব্যবস্থাপককে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

শহর জুড়ে শোক

ঘটনার পর শহরজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনের খোঁজে অপেক্ষা করছেন। এত বড় প্রাণহানিতে আনন্দের বর্ষবরণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে জাতীয় শোকের স্মৃতিতে।