ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর দেশটির দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঋণ সংকট আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বছরের পর বছর অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও নিষেধাজ্ঞার চাপে আন্তর্জাতিক বন্ডের সুদ ও কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ২০১৭ সালে দেশটি কার্যত ঋণখেলাপি হয়। সেই সময় থেকেই জমতে থাকা সুদ, মামলা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে ঋণের অঙ্ক ফুলে ফেঁপে উঠেছে।
কতটা ঋণের বোঝা
বিশ্লেষকদের হিসাবে, কেবল আন্তর্জাতিক বন্ডেই ভেনেজুয়েলার খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ছয় হাজার কোটি ডলার। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি, দ্বিপক্ষীয় ঋণ ও আন্তর্জাতিক সালিশি রায় যুক্ত করলে মোট বৈদেশিক দায় দাঁড়ায় প্রায় পনেরো থেকে সতেরো হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। অর্থনীতির আকারের তুলনায় এই ঋণের বোঝা অত্যন্ত ভারী, যা ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনকে জটিল করে তুলেছে
কারা দাবি তুলছে
আন্তর্জাতিক বন্ডধারী বিনিয়োগকারীরাই বড় অংশের দাবিদার। এর পাশাপাশি অতীতে সম্পদ বাজেয়াপ্তের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে জয়ী হওয়া একাধিক বহুজাতিক কোম্পানিও ভেনেজুয়েলার সম্পদের ওপর দাবি জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির বিদেশি শাখা ঘিরে জমা হওয়া দাবির অঙ্ক সম্পদের সম্ভাব্য মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি।
পুনর্গঠন কেন কঠিন
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, একাধিক মামলা ও নিষেধাজ্ঞার জটিলতায় ঋণ পুনর্গঠন সহজ নয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থার সহায়তা ছাড়া বড় কোনো সমাধান সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্থাটির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ না থাকায় সেই পথও আপাতত বন্ধ।
বাজারে কী ইঙ্গিত
রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনায় সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার বন্ডের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই সমাধানের জন্য বড় অঙ্কের ঋণছাঁট ছাড়া উপায় নেই। তেল উৎপাদন ও রাজস্ব না বাড়লে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ফিরে পাওয়া কঠিনই থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















