ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক করার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে চীন। বেইজিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, কোনো দেশ নিজেকে বিশ্ব বিচারক বা বিশ্ব পুলিশ হিসেবে তুলে ধরতে পারে না। এই ইস্যুতে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সরাসরি বিতর্কে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন।
বেইজিংয়ের কঠোর বার্তা
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকা উচিত। ভেনেজুয়েলায় হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত দেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া সামরিক বা জোরপূর্বক পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। মাদুরোকে চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছবি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে, যা বেইজিংয়ের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
জাতিসংঘে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা
মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত মামলায় তাকে নিউইয়র্কের আদালতে তোলা হচ্ছে। একই সময়ে কলম্বিয়ার অনুরোধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে চীন ও রাশিয়া সমর্থন দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে।
চীনের কূটনৈতিক প্রভাব কতটা
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি অর্থনৈতিক বা সামরিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগ চীনের সীমিত হলেও কূটনৈতিক ভাষ্য ও আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে বেইজিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান জোরদার করতে চীন সক্রিয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লাতিন আমেরিকায় চীনের স্বার্থ
ভেনেজুয়েলা বহু বছর ধরে চীনের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার। হুগো শাভেজের আমল থেকে শুরু হয়ে মাদুরোর সময়েও এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সময় চীন তেল শোধনাগার ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করে ভেনেজুয়েলাকে অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়েছে। ফলে মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে বেইজিং নিজেদের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব এবং শক্তিধর দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের মঞ্চে এই টানাপোড়েন কোন দিকে গড়ায়, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















