ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে আটক করার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি বিতর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি ছিল একটি লক্ষ্যভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা অভিযান। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও বলপ্রয়োগ সংক্রান্ত নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ঘটনাটি কেবল ভেনেজুয়েলার রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক আইনের ভবিষ্যৎ প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
মাদুরো কীভাবে আটক হলেন
শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। পরে তাঁদের নিউইয়র্কে নেওয়া হয়, যেখানে মাদক, সন্ত্রাস ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার কথা জানানো হয়। এই অভিযানের মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি কী
ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড জুরি মাদুরোর বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ গঠন করেছিল। সে কারণে বিচার বিভাগ সামরিক সহায়তা চেয়েছিল। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতেই বিচারের মুখোমুখি হবেন। একই সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের তেল স্বার্থ পুনরুদ্ধারের কথাও বলেন, যা অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে।
আইনি দ্বন্দ্ব কোথায়
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অন্য দেশে সামরিক শক্তি প্রয়োগ কেবল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন বা আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে বৈধ। মাদক পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধকে সাধারণত সশস্ত্র সংঘাত হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে কেবল একটি ফৌজদারি অভিযোগের ভিত্তিতে সামরিক অভিযান কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই আবার কংগ্রেসকে আগে না জানানোয় অভ্যন্তরীণ আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে।
আগে কি এমন হয়েছে
ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করেছে, তবে সেসব ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সম্মতি বা ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল। পানামার নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগার গ্রেপ্তার কিংবা হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্টের প্রত্যর্পণের ঘটনায় ভিন্ন আইনি কাঠামো প্রয়োগ হয়েছিল। ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে এমন কোনো স্বীকৃত বিকল্প সরকার নেই, যা এই অভিযানের বৈধতা আরও জটিল করেছে।
পরিণতি কী হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আন্তর্জাতিক আইনে প্রয়োগযোগ্য শক্তিশালী শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কার্যকর জবাবদিহি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে এই ঘটনা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বলপ্রয়োগ ও আইনের সীমারেখা নিয়ে নতুন নজির গড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















