০১:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
এক হাতে শক্তি আর বিস্ফোরণ ক্ষমতার চর্চা, সিঙ্গেল আর্ম হ্যাং ক্লিনে বদলান শরীরের ছন্দ ইউরোপজুড়ে তুষার ও বরফের তাণ্ডব, বাতিল শত শত ফ্লাইট, সড়কে প্রাণহানি কুয়াশা কী, কেন হয়? কুয়াশা পড়লে ঠান্ডা বাড়ে নাকি কমে? থাইল্যান্ডের বিমানবন্দর সংযোগ দ্রুতগতি রেল প্রকল্প অনিশ্চয়তায়, রাজনৈতিক টানাপোড়েনে আটকে সাত বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ এক মিনিটেই বদলে যেতে পারে জীবন পাকিস্তান-বাংলাদেশের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি ভেনেজুয়েলা ঘিরে তেলের বাজারে ‘অতিরিক্ত সরবরাহ’ শঙ্কা ওজন কমানোর আশ্বাসে ওষুধ, বাস্তবে কাজই করে না অনেকের শরীরে তেল লুটের নতুন ছক, জলবায়ুর চরম ঝুঁকি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধানের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে

লর্ড সভায় টোরি সক্রিয়তা কি লেবার সরকারকে চাপে ফেলতে পরিকল্পিত কৌশল

ব্রিটেনের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলের পরও আইন পাসের পথ যে এতটা কঠিন হবে, তা হয়তো লেবার সরকার নিজেও কল্পনা করেনি। সংসদের নিম্নকক্ষের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও উচ্চকক্ষ লর্ড সভায় একের পর এক বাধার মুখে পড়ছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, লর্ড সভায় সক্রিয় টোরি পিয়াররা কি ইচ্ছাকৃতভাবেই লেবারকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তুলতে চাইছেন।

লর্ড সভায় অস্বাভাবিক উত্তেজনা
লেবার ক্ষমতায় আসার পরপরই লর্ডসের ক্যান্টিনে দুই টোরি পিয়ারের সঙ্গে বসে এক লেবার উপদেষ্টা যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, তা এখন ওয়েস্টমিনস্টার আলোচনার বিষয়। উত্তরাধিকারসূত্রে পিয়ারদের বিলুপ্তির পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে ওই দুই পিয়ার স্পষ্টই জানান, সরকারের প্রতিটি আইন দুর্বল করে দেওয়াই হবে তাদের কৌশল। বিতর্ক দীর্ঘ করা, ভোট পিছিয়ে দেওয়া এবং নতুন লর্ডসভা নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কাছে ছাড় আদায়ে বাধ্য করাই তাদের লক্ষ্য।

সরকারি পরাজয়ের নজির
চলতি সংসদ অধিবেশনেই লর্ডসভায় সরকারের পরাজয়ের সংখ্যা একশোর বেশি ছুঁয়েছে। আরও কয়েক মাস বাকি থাকায় এই সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে রেল জাতীয়করণ, জ্বালানি নীতি কিংবা ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিল—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিতর্ক দীর্ঘায়িত হয়েছে। সংশোধনীগুলো শেষ মুহূর্তে ছোট ছোট ভাগে ভেঙে দেওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগেছে আলোচনা শেষ করতে।

লেবার পিয়ারদের অভিযোগ
লেবার পিয়ারদের অভিযোগ, একই কয়েকজন সাবেক টোরি সংসদ সদস্য বারবার একই বক্তব্য তুলে ধরে স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে দিচ্ছেন। প্রচলিত সমঝোতা আর কাজ করছে না, এমনটাই তাদের দাবি। লর্ড সভায় সাধারণত যে শালীনতা ও রীতিনীতি মানা হয়, সেগুলো উপেক্ষা করেই ভোট ডাকছেন বা অধিবেশন মুলতবি করার চেষ্টা করছেন ওই পিয়াররা। এতে শুধু আইন পাসে বিলম্ব নয়, রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
শাসনব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, লর্ডসভা আগের তুলনায় বেশি assertive হয়ে উঠছে, যা কেবল বর্তমান সরকারের সময়েই নয়, আগের সময়েও দেখা গেছে। যদিও সংখ্যার হিসেবে পরাজয় বাড়ছে, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। তবু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, নির্বাচিত সরকারের স্পষ্ট ম্যান্ডেট থাকা সত্ত্বেও অনির্বাচিত পিয়ারদের এমন ভূমিকা কতটা গ্রহণযোগ্য।

উত্তরাধিকারী পিয়ার বিলুপ্তি ঘিরে সংঘাত
লেবারের ইশতেহারে থাকা উত্তরাধিকারী পিয়ার বিলুপ্তির প্রতিশ্রুতি থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত বলে মনে করছেন অনেকে। লর্ডসভায় থাকা বাকি পঁচানব্বই জন উত্তরাধিকারী সদস্যের বড় অংশ টোরি শিবিরের। এই বিল নিয়ে ভোটের সময় ভেতরে ভেতরে নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে, এমনকি বিল ঠেকাতে ব্যয়বহুল নৈশভোজের আয়োজনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

নতুন পিয়ার নিয়োগ ও সমালোচনা
একাধিক বাধার মুখে পড়ে লেবারও শেষ পর্যন্ত নতুন পিয়ার নিয়োগে গতি বাড়িয়েছে। সাবেক উপদেষ্টা, ইউনিয়ন কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠদের লর্ডসভায় পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বদলে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের যুক্তি, সক্রিয় ও পূর্ণকালীন ভাবে আইন প্রণয়নে যুক্ত থাকতে পারবে—এমন লোকজন এখন দরকার।

ভবিষ্যতের সংস্কার বিতর্ক
এই অচলাবস্থার মধ্যেই লর্ডসভা সংস্কারের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট বয়সের পর অবসর, উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনিচ্ছাকৃতভাবে লর্ডসভা সংস্কারের পক্ষে আরও শক্ত যুক্তি তৈরি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এক হাতে শক্তি আর বিস্ফোরণ ক্ষমতার চর্চা, সিঙ্গেল আর্ম হ্যাং ক্লিনে বদলান শরীরের ছন্দ

লর্ড সভায় টোরি সক্রিয়তা কি লেবার সরকারকে চাপে ফেলতে পরিকল্পিত কৌশল

০১:২৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রিটেনের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদলের পরও আইন পাসের পথ যে এতটা কঠিন হবে, তা হয়তো লেবার সরকার নিজেও কল্পনা করেনি। সংসদের নিম্নকক্ষের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও উচ্চকক্ষ লর্ড সভায় একের পর এক বাধার মুখে পড়ছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, লর্ড সভায় সক্রিয় টোরি পিয়াররা কি ইচ্ছাকৃতভাবেই লেবারকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তুলতে চাইছেন।

লর্ড সভায় অস্বাভাবিক উত্তেজনা
লেবার ক্ষমতায় আসার পরপরই লর্ডসের ক্যান্টিনে দুই টোরি পিয়ারের সঙ্গে বসে এক লেবার উপদেষ্টা যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, তা এখন ওয়েস্টমিনস্টার আলোচনার বিষয়। উত্তরাধিকারসূত্রে পিয়ারদের বিলুপ্তির পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে ওই দুই পিয়ার স্পষ্টই জানান, সরকারের প্রতিটি আইন দুর্বল করে দেওয়াই হবে তাদের কৌশল। বিতর্ক দীর্ঘ করা, ভোট পিছিয়ে দেওয়া এবং নতুন লর্ডসভা নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কাছে ছাড় আদায়ে বাধ্য করাই তাদের লক্ষ্য।

সরকারি পরাজয়ের নজির
চলতি সংসদ অধিবেশনেই লর্ডসভায় সরকারের পরাজয়ের সংখ্যা একশোর বেশি ছুঁয়েছে। আরও কয়েক মাস বাকি থাকায় এই সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে রেল জাতীয়করণ, জ্বালানি নীতি কিংবা ফুটবল নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিল—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিতর্ক দীর্ঘায়িত হয়েছে। সংশোধনীগুলো শেষ মুহূর্তে ছোট ছোট ভাগে ভেঙে দেওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগেছে আলোচনা শেষ করতে।

লেবার পিয়ারদের অভিযোগ
লেবার পিয়ারদের অভিযোগ, একই কয়েকজন সাবেক টোরি সংসদ সদস্য বারবার একই বক্তব্য তুলে ধরে স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে দিচ্ছেন। প্রচলিত সমঝোতা আর কাজ করছে না, এমনটাই তাদের দাবি। লর্ড সভায় সাধারণত যে শালীনতা ও রীতিনীতি মানা হয়, সেগুলো উপেক্ষা করেই ভোট ডাকছেন বা অধিবেশন মুলতবি করার চেষ্টা করছেন ওই পিয়াররা। এতে শুধু আইন পাসে বিলম্ব নয়, রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
শাসনব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, লর্ডসভা আগের তুলনায় বেশি assertive হয়ে উঠছে, যা কেবল বর্তমান সরকারের সময়েই নয়, আগের সময়েও দেখা গেছে। যদিও সংখ্যার হিসেবে পরাজয় বাড়ছে, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সরকার শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। তবু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, নির্বাচিত সরকারের স্পষ্ট ম্যান্ডেট থাকা সত্ত্বেও অনির্বাচিত পিয়ারদের এমন ভূমিকা কতটা গ্রহণযোগ্য।

উত্তরাধিকারী পিয়ার বিলুপ্তি ঘিরে সংঘাত
লেবারের ইশতেহারে থাকা উত্তরাধিকারী পিয়ার বিলুপ্তির প্রতিশ্রুতি থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত বলে মনে করছেন অনেকে। লর্ডসভায় থাকা বাকি পঁচানব্বই জন উত্তরাধিকারী সদস্যের বড় অংশ টোরি শিবিরের। এই বিল নিয়ে ভোটের সময় ভেতরে ভেতরে নানা কৌশল নেওয়া হয়েছে, এমনকি বিল ঠেকাতে ব্যয়বহুল নৈশভোজের আয়োজনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

নতুন পিয়ার নিয়োগ ও সমালোচনা
একাধিক বাধার মুখে পড়ে লেবারও শেষ পর্যন্ত নতুন পিয়ার নিয়োগে গতি বাড়িয়েছে। সাবেক উপদেষ্টা, ইউনিয়ন কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠদের লর্ডসভায় পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বদলে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের যুক্তি, সক্রিয় ও পূর্ণকালীন ভাবে আইন প্রণয়নে যুক্ত থাকতে পারবে—এমন লোকজন এখন দরকার।

ভবিষ্যতের সংস্কার বিতর্ক
এই অচলাবস্থার মধ্যেই লর্ডসভা সংস্কারের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট বয়সের পর অবসর, উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনিচ্ছাকৃতভাবে লর্ডসভা সংস্কারের পক্ষে আরও শক্ত যুক্তি তৈরি করছে।