মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও সময়সীমা নিয়ে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। নতুন বছরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করতে সংসদে বিল উত্থাপন করা হবে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে একজন প্রধানমন্ত্রী টানা বা মোট মিলিয়ে সর্বোচ্চ দশ বছরের বেশি দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে সরকার
পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাসিক সমাবেশে দেওয়া ভাষণে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই সময়সীমা থাকা জরুরি। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করার সুযোগ পেলে নেতৃত্বের পরিবর্তন সহজ হয় এবং নতুন প্রজন্মের জন্য পথ খুলে যায়। একই নীতি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
সংসদে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিল
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি সংসদ অধিবেশনে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পাবলিক প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা পৃথক করার বিল প্রথমেই উত্থাপন করা হবে। পাশাপাশি তথ্য অধিকার আইন এবং সরকারি সেবা উন্নয়নে নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
পুরোনো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল পাকাতান হারাপানের নির্বাচনী অঙ্গীকারে। স্বাধীনতার পর মালয়েশিয়ায় এখন পর্যন্ত দশজন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদ সবচেয়ে দীর্ঘ সময়, টানা বাইশ বছর এই পদে ছিলেন এবং পরে আবারও স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় ফেরেন।
রাজ্য সরকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়
আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারবিষয়ক মন্ত্রী দাতুক সেরি আজালিনা ওসমান সাইদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই আইন কেবল প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের প্রধান নির্বাহীদের ওপর এই সীমা আরোপ করা হচ্ছে না। বর্তমানে পেনাং একমাত্র রাজ্য, যেখানে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে রাজ্যপ্রধানের মেয়াদ সীমিত করা হয়েছে। সাবাহে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হলেও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















