মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। শুল্ক ও রুশ তেল আমদানিকে ঘিরে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর রাহুল ইতিহাসের পাতা উল্টে টেনে এনেছেন একাত্তরের যুদ্ধকালীন ভারতের অবস্থান এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ।
ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক
মার্কিন কংগ্রেসের এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ভারতের ওপর আরোপিত শুল্কে প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব একটা সন্তুষ্ট নন। তাঁর দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে এবং ভারত এখন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অনেকটাই কমিয়েছে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জোরেই মোদি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

রাহুলের কটাক্ষ, পার্থক্য বোঝার আহ্বান
এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক মাধ্যমে রাহুল লেখেন, পার্থক্যটা বুঝুন। সঙ্গে তিনি একটি পুরোনো ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে তাঁর অভিযোগ ছিল, ভারত পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার সময় ট্রাম্পের একটি ফোন কলের পর মোদি নতি স্বীকার করেছিলেন। রাহুলের বক্তব্যে এই প্রসঙ্গটি আবারও সামনে আসে।
একাত্তরের উদাহরণে ইন্দিরা গান্ধী
ভিডিওতে রাহুল স্মরণ করিয়ে দেন, একাত্তরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর পাঠানোর পরও ইন্দিরা গান্ধী কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। তাঁর ভাষায়, এখানেই নেতৃত্বের প্রকৃত পার্থক্য স্পষ্ট। এই তুলনাই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে।

কংগ্রেসের আরও তোপ
কংগ্রেসের যোগাযোগ বিষয়ক সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও ট্রাম্পের বক্তব্য শেয়ার করে কটাক্ষ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে মোদি ও ট্রাম্পের বন্ধুত্ব প্রদর্শনের নানা আয়োজন হলেও বাস্তবে ভারতের কতটা লাভ হয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন থেকে গেছে।

শুল্ক ও প্রতিরক্ষা সরবরাহ প্রসঙ্গ
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভারতের ওপর মোট পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ রুশ তেল আমদানির সঙ্গে যুক্ত। তিনি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে দেরির কথাও বলেন এবং জানান, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র নীতি বদলাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের দাবি, কূটনৈতিক সৌজন্য আর ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের প্রচার যতই হোক, বাস্তব লাভ না হলে তার মূল্য নেই। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















