২০২৬ সালের শুরুতেই ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। বছরের প্রথম পাঁচ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—উভয় বাজারেই সূচক ও লেনদেনে ছিল স্পষ্ট ঊর্ধ্বগতি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের উত্থান
সপ্তাহজুড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯১০ থেকে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে। শতাংশের হিসাবে এ বৃদ্ধি প্রায় ১ দশমিক ৭৯ ভাগ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা বাজারে তুলনামূলক শক্তিশালী সূচনার ইঙ্গিত দেয়।
শরিয়াভিত্তিক ডিএসইএস সূচক চার পয়েন্ট এবং শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসথার্টি ৪৫ পয়েন্ট বেড়েছে। বছরভিত্তিক হিসাবে ডিএসইএস সূচকে প্রায় ১ শতাংশ এবং ডিএসথার্টিতে ৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
লেনদেন ও শেয়ার ভলিউমের চিত্র
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গড় দৈনিক লেনদেন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়ে ৩৫৪ কোটি টাকা থেকে ৪৭৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে মোট লেনদেন হওয়া শেয়ারের পরিমাণ বেড়েছে ৪২ শতাংশের বেশি।
তবে শেয়ারের দাম বৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা বেশি সংখ্যক কোম্পানির দর কমেছে। সপ্তাহ শেষে ১৭৬টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৭৭টির কমেছে এবং ৩৬টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স
পাট খাত ছাড়া প্রায় সব খাতেই শেয়ারদরের উন্নতি দেখা গেছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সাম্প্রতিক ধাক্কা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার লক্ষ্য করা গেছে। পাঁচ কার্যদিবসে ব্যাংক খাতের প্রায় ৭৬ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। আর্থিক খাতে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল।
তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২৫টির দর বেড়েছে, দুইটির কমেছে এবং নয়টির অপরিবর্তিত ছিল। ব্যাংক খাতে লেনদেন বেড়েছে ৮০ শতাংশেরও বেশি।
অ-ব্যাংক আর্থিক খাতে কিছু প্রতিষ্ঠানের দর কমলেও মৌলভিত্তি শক্ত কোম্পানিগুলোর উত্থানে পুরো খাতটি ইতিবাচক ছিল। এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।
বীমা, ওষুধ ও টেলিযোগাযোগ খাত
সাধারণ বীমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৪ শতাংশ এবং জীবন বীমা খাতে বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। লেনদেনের পরিমাণ যথাক্রমে ৭৮ শতাংশ ও ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওষুধ ও টেলিযোগাযোগ—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতেও ছিল শক্তিশালী গতি। ওষুধ খাতে প্রায় ৭১ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে প্রায় ৭৩ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে।
শীর্ষ লেনদেন ও ব্লক মার্কেট
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সাপ্তাহিক লেনদেনে শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সিটি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক এবং ফাইন ফুডস।
ব্লক মার্কেটে একক লেনদেন ব্যবস্থায় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা, ফাইন ফুডসের ২৩ কোটি টাকা। এছাড়া ওরিয়ন ইনফিউশন, জিকিউ বল পেন ও গ্রামীণফোনের শেয়ারেও বড় অঙ্কের ব্লক লেনদেন হয়েছে।
শীর্ষ দরবৃদ্ধি ও দরপতন
সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি হয়েছে জেড শ্রেণিভুক্ত তাল্লু স্পিনিং মিলসের, যার শেয়ারদর ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিপরীতে, জেড শ্রেণির আরেক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের শেয়ারদর কমেছে ২৭ শতাংশের বেশি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চিত্র
ঢাকা বাজারের মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ছিল ইতিবাচক প্রবণতা। সিএএসপিআই সূচক সপ্তাহে ৩০২ পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ২ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শীর্ষ সূচক সিএসইথার্টি ২ শতাংশের বেশি এবং সিএসইফিফটি ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
চট্টগ্রাম বাজারে ১৪৪টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, ১০৬টির কমেছে এবং ২২টির অপরিবর্তিত ছিল। এখানে দরবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল মোস্তাফা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোটেক। দরপতনের তালিকায় ছিল ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সাপ্তাহিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, ফাইন ফুডস, সাইহাম কটন মিলস, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং গ্রামীণফোনের শেয়ার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















