০২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর ভাঙন: এক দশকে ঘরহারা ৫০০ পরিবার, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় ৪৮.৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জরুরি: চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে হামের চিকিৎসা ব্যয়ে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, গড় খরচ ১৬ হাজার টাকা: বিডিআরসিএস-আইএফআরসি রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত আট; লক্ষ্যবস্তু বড় গুদাম ও সামরিক স্থাপনা ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শতাধিক ব্যাংক হিসাব বন্ধে মানি লন্ডারিং পর্যালোচনার দাবি ক্যাপিটাল ওয়ানের গ্রিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে নিহত ২, ইউরোপজুড়ে তাপদাহে বাড়ছে দুর্যোগ ভারত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বাজারের বিকল্প নিরাপদ গন্তব্য হয়ে উঠছে? অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে সামুদ্রিক পাখির গণমৃত্যু, সতর্কতা জারি

ভারতের নীতি বদলের ইঙ্গিত চীনা সংস্থার দরপত্রে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি

ভারত সরকার চীনা সংস্থাগুলোর সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণের ওপর থাকা পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে। কূটনৈতিক ও সীমান্ত উত্তেজনা কিছুটা কমার প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে চাঙ্গা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। ২০২০ সালে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তাতে চীনা দরদাতাদের বিশেষ নিবন্ধন ও রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। ফলে কার্যত বিপুল অঙ্কের সরকারি প্রকল্পে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হয়, এসব প্রকল্পের মোট মূল্য ছিল প্রায় সাতশ থেকে সাতশ পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার।

প্রকল্পে ঘাটতি ও বিলম্ব
নিষেধাজ্ঞার কারণে একাধিক মন্ত্রণালয় সরঞ্জাম সংকট ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিভিন্ন দপ্তর ছাড় চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানায়। সরকারি এক সূত্রের ভাষায়, সীমান্তবর্তী দেশগুলোর দরদাতাদের জন্য নিবন্ধনের শর্ত তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দপ্তর।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও পরিসংখ্যান
নিষেধাজ্ঞা জারির কয়েক মাসের মধ্যেই চীনের রাষ্ট্রীয় রেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একটি বড় ট্রেন উৎপাদন প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে। গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পরের বছর চীনা সংস্থাগুলোর নতুন প্রকল্প প্রাপ্তির মূল্য আগের বছরের তুলনায় সাতাশ শতাংশ কমে যায়। বিদ্যুৎ খাতে চীন থেকে যন্ত্রপাতি আমদানিতে কড়াকড়ির ফলে আগামী দশকে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ ও কূটনৈতিক পরিবর্তন
সাবেক মন্ত্রিসভার সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও বিধিনিষেধ শিথিলের সুপারিশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নরেন্দ্র মোদির বহু বছর পর চীন সফরের পর দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করে এবং চীনা পেশাজীবীদের ব্যবসায়িক ভিসা অনুমোদনে জটিলতা কমানো হয়।

সতর্ক অবস্থান বজায়
তবে সম্পর্কের উন্নতি হলেও ভারত এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চীনা সংস্থার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে বিধিনিষেধ বহাল আছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতায় ভারত ও চীনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত

ভারতের নীতি বদলের ইঙ্গিত চীনা সংস্থার দরপত্রে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি

১২:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ভারত সরকার চীনা সংস্থাগুলোর সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণের ওপর থাকা পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে। কূটনৈতিক ও সীমান্ত উত্তেজনা কিছুটা কমার প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে চাঙ্গা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। ২০২০ সালে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তাতে চীনা দরদাতাদের বিশেষ নিবন্ধন ও রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। ফলে কার্যত বিপুল অঙ্কের সরকারি প্রকল্পে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হয়, এসব প্রকল্পের মোট মূল্য ছিল প্রায় সাতশ থেকে সাতশ পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার।

প্রকল্পে ঘাটতি ও বিলম্ব
নিষেধাজ্ঞার কারণে একাধিক মন্ত্রণালয় সরঞ্জাম সংকট ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিভিন্ন দপ্তর ছাড় চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানায়। সরকারি এক সূত্রের ভাষায়, সীমান্তবর্তী দেশগুলোর দরদাতাদের জন্য নিবন্ধনের শর্ত তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দপ্তর।

নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও পরিসংখ্যান
নিষেধাজ্ঞা জারির কয়েক মাসের মধ্যেই চীনের রাষ্ট্রীয় রেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একটি বড় ট্রেন উৎপাদন প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে। গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পরের বছর চীনা সংস্থাগুলোর নতুন প্রকল্প প্রাপ্তির মূল্য আগের বছরের তুলনায় সাতাশ শতাংশ কমে যায়। বিদ্যুৎ খাতে চীন থেকে যন্ত্রপাতি আমদানিতে কড়াকড়ির ফলে আগামী দশকে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ ও কূটনৈতিক পরিবর্তন
সাবেক মন্ত্রিসভার সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও বিধিনিষেধ শিথিলের সুপারিশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নরেন্দ্র মোদির বহু বছর পর চীন সফরের পর দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করে এবং চীনা পেশাজীবীদের ব্যবসায়িক ভিসা অনুমোদনে জটিলতা কমানো হয়।

সতর্ক অবস্থান বজায়
তবে সম্পর্কের উন্নতি হলেও ভারত এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চীনা সংস্থার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে বিধিনিষেধ বহাল আছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতায় ভারত ও চীনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।