ভারত সরকার চীনা সংস্থাগুলোর সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণের ওপর থাকা পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে। কূটনৈতিক ও সীমান্ত উত্তেজনা কিছুটা কমার প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে চাঙ্গা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে। ২০২০ সালে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তাতে চীনা দরদাতাদের বিশেষ নিবন্ধন ও রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। ফলে কার্যত বিপুল অঙ্কের সরকারি প্রকল্পে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হয়, এসব প্রকল্পের মোট মূল্য ছিল প্রায় সাতশ থেকে সাতশ পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার।
প্রকল্পে ঘাটতি ও বিলম্ব
নিষেধাজ্ঞার কারণে একাধিক মন্ত্রণালয় সরঞ্জাম সংকট ও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিভিন্ন দপ্তর ছাড় চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানায়। সরকারি এক সূত্রের ভাষায়, সীমান্তবর্তী দেশগুলোর দরদাতাদের জন্য নিবন্ধনের শর্ত তুলে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দপ্তর।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও পরিসংখ্যান
নিষেধাজ্ঞা জারির কয়েক মাসের মধ্যেই চীনের রাষ্ট্রীয় রেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান একটি বড় ট্রেন উৎপাদন প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে। গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পরের বছর চীনা সংস্থাগুলোর নতুন প্রকল্প প্রাপ্তির মূল্য আগের বছরের তুলনায় সাতাশ শতাংশ কমে যায়। বিদ্যুৎ খাতে চীন থেকে যন্ত্রপাতি আমদানিতে কড়াকড়ির ফলে আগামী দশকে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের সুপারিশ ও কূটনৈতিক পরিবর্তন
সাবেক মন্ত্রিসভার সচিব রাজীব গৌবার নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও বিধিনিষেধ শিথিলের সুপারিশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নরেন্দ্র মোদির বহু বছর পর চীন সফরের পর দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করে এবং চীনা পেশাজীবীদের ব্যবসায়িক ভিসা অনুমোদনে জটিলতা কমানো হয়।
সতর্ক অবস্থান বজায়
তবে সম্পর্কের উন্নতি হলেও ভারত এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। চীনা সংস্থার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে বিধিনিষেধ বহাল আছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতায় ভারত ও চীনের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















