০১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
নীরব জাঁকজমকের ভাষা: দুবাইয়ে দামিয়ানির নতুন অধ্যায়ে জেসিকা চ্যাস্টেইনের আলো ভাড়া না কেনা, কেনা না ভাড়া: সুদের ভবিষ্যৎ যেদিকে, সিদ্ধান্তও সেদিকেই ইউরোপের বন্ডে ধসের আভাস, ডাচ পেনশনের সরে দাঁড়ানোয় ঋণচাপে সরকারগুলো ভিয়েতনামের দ্রুত বৃদ্ধি, নড়বড়ে ভিত: উন্নয়নের জোয়ারে ঝুঁকির ছায়া আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ৬৬ সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে আবার নির্বাচনের দৌড়ে মান্না, বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সূচকের বড় পতনে ডিএসই ও সিএসইতে লেনদেন কমল বাংলাদেশের অচলাবস্থা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর জন্য কঠিন পরীক্ষা: এনডিটিভি প্রতিবেদন বিক্ষোভের চাপে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি

চীনের রপ্তানি হুমকিতে নরম সুর, জাপানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত বেইজিংয়ের

চীনের দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ঘিরে যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমনের ইঙ্গিত দিল বেইজিং। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চীনা সরকারি মহল জানাল, জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টানাপোড়েনে ফেলাই তাদের লক্ষ্য নয়। এই বার্তা সামনে আসার পরই টোকিওর শেয়ারবাজারে স্বস্তির প্রতিফলন দেখা যায়।

বেইজিংয়ের নরম বার্তা

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়–সংশ্লিষ্ট একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক গবেষকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত দৈনিক জানায়, চীন কোনোভাবেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে উত্তেজনাপূর্ণ করতে চায় না। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করেন, নিষেধাজ্ঞা কেবল দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সাধারণ বেসামরিক বাণিজ্য এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তাঁর ভাষায়, বেসামরিক খাতে যুক্ত ব্যবসায়ীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

তাইওয়ান প্রসঙ্গ থেকে বাণিজ্য চাপ

এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে গত নভেম্বরের একটি রাজনৈতিক বক্তব্য। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তখন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাইওয়ানে হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। সেই মন্তব্যের পর থেকেই চীন ধারাবাহিকভাবে একাধিক পদক্ষেপ নেয়। জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, জাপানে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয় এবং জাপানি কোম্পানির বিরুদ্ধে অ্যান্টি ডাম্পিং তদন্ত শুরু হয়। চীনা কর্মকর্তারা এসব ব্যবস্থার সঙ্গে ওই বক্তব্যের সরাসরি যোগসূত্র টেনে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বাজারে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া

বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক সংযত বার্তার প্রভাব পড়ে টোকিওর শেয়ারবাজারে। শুক্রবার সূচক এক দশমিক ছয় এক শতাংশ বেড়ে যায়। এর আগে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর বাজারে টানা কয়েক দিন দরপতন হয়েছিল।

বিরল খনিজ ঘিরে উদ্বেগ

চীন দীর্ঘদিন ধরে জাপানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। জাপানের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশই চীনের সঙ্গে। একই সঙ্গে বিরল খনিজ উত্তোলন ও পরিশোধনে চীনের আধিপত্য রয়েছে, যা জাপানের শিল্পখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে দ্বীপ বিরোধের সময় বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে জাপান সরবরাহ বৈচিত্র্য বাড়িয়ে নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হয়েছিল। তবু সম্পূর্ণভাবে চীনা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শিল্পখাতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা রয়েছে।

টোকিওর কড়া কিন্তু সংযত অবস্থান

জাপানের অর্থনীতি ও শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, চীনের বাণিজ্যিক চাপের জবাবে দেশটি দৃঢ় কিন্তু শান্ত অবস্থান নেবে। জাপান এই নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে কূটনৈতিক পথে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ইতিমধ্যে ভারী বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করা শুরু করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে মন্ত্রী সরাসরি কিছু না বললেও জানান, সরকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করছে।

বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব

জাপানের মতে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলেছে এবং বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন সমন্বয়ের প্রয়োজন তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে জাপান যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে শান্ত কিন্তু দৃঢ়ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীরব জাঁকজমকের ভাষা: দুবাইয়ে দামিয়ানির নতুন অধ্যায়ে জেসিকা চ্যাস্টেইনের আলো

চীনের রপ্তানি হুমকিতে নরম সুর, জাপানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত বেইজিংয়ের

০৬:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

চীনের দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ঘিরে যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমনের ইঙ্গিত দিল বেইজিং। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চীনা সরকারি মহল জানাল, জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টানাপোড়েনে ফেলাই তাদের লক্ষ্য নয়। এই বার্তা সামনে আসার পরই টোকিওর শেয়ারবাজারে স্বস্তির প্রতিফলন দেখা যায়।

বেইজিংয়ের নরম বার্তা

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়–সংশ্লিষ্ট একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক গবেষকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত দৈনিক জানায়, চীন কোনোভাবেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে উত্তেজনাপূর্ণ করতে চায় না। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট করেন, নিষেধাজ্ঞা কেবল দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সাধারণ বেসামরিক বাণিজ্য এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তাঁর ভাষায়, বেসামরিক খাতে যুক্ত ব্যবসায়ীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

তাইওয়ান প্রসঙ্গ থেকে বাণিজ্য চাপ

এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে রয়েছে গত নভেম্বরের একটি রাজনৈতিক বক্তব্য। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তখন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাইওয়ানে হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। সেই মন্তব্যের পর থেকেই চীন ধারাবাহিকভাবে একাধিক পদক্ষেপ নেয়। জাপানি সামুদ্রিক খাদ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, জাপানে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয় এবং জাপানি কোম্পানির বিরুদ্ধে অ্যান্টি ডাম্পিং তদন্ত শুরু হয়। চীনা কর্মকর্তারা এসব ব্যবস্থার সঙ্গে ওই বক্তব্যের সরাসরি যোগসূত্র টেনে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

বাজারে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া

বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক সংযত বার্তার প্রভাব পড়ে টোকিওর শেয়ারবাজারে। শুক্রবার সূচক এক দশমিক ছয় এক শতাংশ বেড়ে যায়। এর আগে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর বাজারে টানা কয়েক দিন দরপতন হয়েছিল।

বিরল খনিজ ঘিরে উদ্বেগ

চীন দীর্ঘদিন ধরে জাপানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। জাপানের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশই চীনের সঙ্গে। একই সঙ্গে বিরল খনিজ উত্তোলন ও পরিশোধনে চীনের আধিপত্য রয়েছে, যা জাপানের শিল্পখাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে দ্বীপ বিরোধের সময় বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে জাপান সরবরাহ বৈচিত্র্য বাড়িয়ে নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হয়েছিল। তবু সম্পূর্ণভাবে চীনা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে শিল্পখাতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা রয়েছে।

টোকিওর কড়া কিন্তু সংযত অবস্থান

জাপানের অর্থনীতি ও শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী জানিয়েছেন, চীনের বাণিজ্যিক চাপের জবাবে দেশটি দৃঢ় কিন্তু শান্ত অবস্থান নেবে। জাপান এই নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে কূটনৈতিক পথে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং তা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ইতিমধ্যে ভারী বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করা শুরু করেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে মন্ত্রী সরাসরি কিছু না বললেও জানান, সরকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করছে।

বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব

জাপানের মতে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব ফেলেছে এবং বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন সমন্বয়ের প্রয়োজন তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে জাপান যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে শান্ত কিন্তু দৃঢ়ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়।