০২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর ভাঙন: এক দশকে ঘরহারা ৫০০ পরিবার, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় ৪৮.৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জরুরি: চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে হামের চিকিৎসা ব্যয়ে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, গড় খরচ ১৬ হাজার টাকা: বিডিআরসিএস-আইএফআরসি রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত আট; লক্ষ্যবস্তু বড় গুদাম ও সামরিক স্থাপনা ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শতাধিক ব্যাংক হিসাব বন্ধে মানি লন্ডারিং পর্যালোচনার দাবি ক্যাপিটাল ওয়ানের গ্রিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে নিহত ২, ইউরোপজুড়ে তাপদাহে বাড়ছে দুর্যোগ ভারত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বাজারের বিকল্প নিরাপদ গন্তব্য হয়ে উঠছে? অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে সামুদ্রিক পাখির গণমৃত্যু, সতর্কতা জারি

মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, তীব্র ক্ষোভে উত্তাল শহর

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রয়োগকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত নারী রেনে নিকোল গুড, বয়স সাঁইত্রিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরার সময় খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ ও রক্তাক্ত এক দৃশ্য।

ঘটনার বিবরণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিনিয়াপোলিসের দক্ষিণ অংশে অভিবাসন বিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা এক কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই আরেকজন কর্মকর্তা পরপর তিনটি গুলি ছোড়েন একটি হোন্ডা এসইউভির ভেতরে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনে ধাক্কা দেয়। পথচারীদের চিৎকার ও ক্ষোভের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় গুডকে গাড়ির ভেতরে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই ফেডারেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিহত নারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁর আচরণকে গার্হস্থ্য সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই বক্তব্য ভিত্তিহীন। তিনি অভিবাসন বাহিনীকে শহর ছাড়ার আহ্বান জানান। মিনেসোটার গভর্নরও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়াকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ, দ্রুত ও ন্যায্য তদন্তের অঙ্গীকার করেন।

রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ
গুলির ঘটনার পর হাজারো মানুষ তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ফেডারেল ভবনের সামনেও নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠে নামানো হচ্ছে, যার ফলেই এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তাঁরা তিনটি গুলির শব্দ শুনেছেন এবং পরে আহত অবস্থায় দেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার দৃশ্য দেখেছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গাড়ির ভেতর থেকে বের হওয়া আরেক যাত্রী রক্তে ভেজা অবস্থায় ছিলেন। একজন চিকিৎসক নিজেকে পরিচয় দিয়ে আহত নারীর কাছে যেতে চাইলে কর্মকর্তারা তাঁকে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক বক্তব্য
রেনে নিকোল গুড ছিলেন একজন মা ও কবি। তিনি চলচ্চিত্র ভালোবাসতেন এবং সৃজনশীল লেখালেখি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর মা জানান, তাঁর মেয়ে সম্ভবত ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং কোনোভাবেই কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

নীতিগত প্রেক্ষাপট
বর্তমান প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন রোধ ও অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে অভিবাসন বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে প্রশিক্ষণের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত

মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নারী নিহত, তীব্র ক্ষোভে উত্তাল শহর

১২:৩০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রয়োগকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত নারী রেনে নিকোল গুড, বয়স সাঁইত্রিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরার সময় খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ ও রক্তাক্ত এক দৃশ্য।

ঘটনার বিবরণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিনিয়াপোলিসের দক্ষিণ অংশে অভিবাসন বিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবাদের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা এক কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই আরেকজন কর্মকর্তা পরপর তিনটি গুলি ছোড়েন একটি হোন্ডা এসইউভির ভেতরে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনে ধাক্কা দেয়। পথচারীদের চিৎকার ও ক্ষোভের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় গুডকে গাড়ির ভেতরে নিথর হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সরকারি বক্তব্য ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই ফেডারেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিহত নারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁর আচরণকে গার্হস্থ্য সন্ত্রাস হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই বক্তব্য ভিত্তিহীন। তিনি অভিবাসন বাহিনীকে শহর ছাড়ার আহ্বান জানান। মিনেসোটার গভর্নরও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়াকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ, দ্রুত ও ন্যায্য তদন্তের অঙ্গীকার করেন।

রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ
গুলির ঘটনার পর হাজারো মানুষ তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসে। শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিবাসন বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান ওঠে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ফেডারেল ভবনের সামনেও নতুন করে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাঠে নামানো হচ্ছে, যার ফলেই এমন প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তাঁরা তিনটি গুলির শব্দ শুনেছেন এবং পরে আহত অবস্থায় দেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার দৃশ্য দেখেছেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, গাড়ির ভেতর থেকে বের হওয়া আরেক যাত্রী রক্তে ভেজা অবস্থায় ছিলেন। একজন চিকিৎসক নিজেকে পরিচয় দিয়ে আহত নারীর কাছে যেতে চাইলে কর্মকর্তারা তাঁকে বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক বক্তব্য
রেনে নিকোল গুড ছিলেন একজন মা ও কবি। তিনি চলচ্চিত্র ভালোবাসতেন এবং সৃজনশীল লেখালেখি নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর মা জানান, তাঁর মেয়ে সম্ভবত ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং কোনোভাবেই কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

নীতিগত প্রেক্ষাপট
বর্তমান প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন রোধ ও অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বহিষ্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে অভিবাসন বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে প্রশিক্ষণের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনছে।