ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে ট্র্যাক্টর নিয়ে প্যারিসে ঢুকে পড়েছেন ফরাসি কৃষকরা। ভোরের অন্ধকারে রাজধানীর রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে তাদের ক্ষোভ, যার কেন্দ্রে রয়েছে মারকোসুর জোটের সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। কৃষকদের আশঙ্কা, এই চুক্তি কার্যকর হলে সস্তা আমদানির চাপে দেশীয় কৃষি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
প্যারিসের কেন্দ্রজুড়ে প্রতিবাদের দৃশ্য
বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েক ডজন ট্র্যাক্টর শহরে প্রবেশ করে। কেউ থামে আইফেল টাওয়ারের কাছে, কেউবা আর্ক দ্য ত্রিওমফের সামনে। গ্রামীণ কনফেডারেশন নামে পরিচিত কৃষি সংগঠনের ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ট্র্যাক্টরের গায়ে লেখা ছিল মারকোসুর না। সংগঠনের স্থানীয় নেতা লুডোভিক দুক্লু জানান, তারা কথা দিয়েছিলেন প্যারিসে আসবেন, তাই এসেছেন।

কৃষকদের আশঙ্কা ও জীবিকার প্রশ্ন
এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন লাতিন আমেরিকায় গাড়ি, যন্ত্রপাতি, মদ ও পানীয় রপ্তানির সুযোগ বাড়াতে চায়। কিন্তু কৃষকদের মতে, ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে সস্তা কৃষিপণ্য এলে ফরাসি কৃষকরা টিকতে পারবেন না। ইউর অঞ্চলের কৃষক দামিয়াঁ কর্নিয়ে বলেন, তারা ঝামেলা করতে আসেননি, শুধু নিজেদের পেশা থেকে সম্মানজনক জীবিকা চান।
সরকার ও সংসদের প্রতিক্রিয়া
কড়া পুলিশি পাহারায় কৃষকরা জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা স্পিকার ইয়েল ব্রাউন পিভেরকে উদ্দেশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি কৃষি সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন। কৃষিমন্ত্রী অ্যানি জেনেভার্দ কৃষকদের দাবি যৌক্তিক বলে স্বীকার করলেও শান্তি ও সংলাপের আহ্বান জানান।

রাজধানীর গেটে আটকে থাকা ট্র্যাক্টর
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিস অঞ্চলে প্রায় একশ ট্র্যাক্টর ছিল, তবে বেশিরভাগই রাজধানীর প্রবেশপথে আটকে রাখা হয়। একই দিনে বোর্দোর কাছে জ্বালানি ডিপোর পথে ট্র্যাক্টর রেখে অবরোধ সৃষ্টি করেন কৃষকরা। বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি গরুর গুটি চর্মরোগ মোকাবিলায় গবাদিপশু নিধনের সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষুব্ধ তারা।
ইউরোপজুড়ে বিরোধিতা ও সমর্থন
মারকোসুর চুক্তি পঁচিশ বছরের আলোচনার ফল। বেলজিয়ামে এরই মধ্যে ব্যাপক কৃষক বিক্ষোভ হয়েছে। ইতালি ও ফ্রান্স চুক্তি স্থগিতের দাবি তুলেছে, অন্যদিকে জার্মানি ও স্পেন এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আয়ারল্যান্ড জানায়, তারা এই চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেবে। ফ্রান্স ও ইতালি কৃষকদের সুরক্ষায় কঠোর শর্ত আরোপের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















