০৮:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
আবার নির্বাচনের দৌড়ে মান্না, বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সূচকের বড় পতনে ডিএসই ও সিএসইতে লেনদেন কমল বাংলাদেশের অচলাবস্থা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর জন্য কঠিন পরীক্ষা: এনডিটিভি প্রতিবেদন বিক্ষোভের চাপে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি চলমান শীতল ঢেউ: উত্তরের জনপদে কুয়াশা, কাঁপুনি আর টিকে থাকার গল্প অ্যাশেজ ধাক্কার পরও হাল ছাড়ছেন না স্টোকস, ভুল শুধরানোর অঙ্গীকার চীনের রপ্তানি হুমকিতে নরম সুর, জাপানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত বেইজিংয়ের গ্রিনল্যান্ড সংকটে ডেনমার্ক: যে ভূখণ্ড নিজেই দূরে সরে যাচ্ছে, তাকে রক্ষার লড়াই সংঘর্ষের অবসান, আলেপ্পো ছাড়ল শেষ কুর্দি যোদ্ধারা কিউবার অর্থনীতি ভেঙে পড়লেও সরকারের পতন অনিশ্চিত

চিনি বর্জন, লাল মাংসে সবুজ সংকেত: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন খাদ্য নির্দেশিকা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সদ্য ঘোষিত ফেডারেল স্বাস্থ্য নির্দেশিকা। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত চিনি ও অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, তবে লাল মাংস ও পূর্ণচর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ায় আর আগের মতো বাধা নেই।

নতুন নির্দেশিকার মূল বার্তা

নতুন নির্দেশিকায় প্রোটিনকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্টে দেওয়া খাদ্য পিরামিডে শাকসবজি ও ফলের পাশাপাশি একই স্তরে রাখা হয়েছে মাংস, দুগ্ধজাত খাবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি। আগের মতো শস্যকে আর খাদ্যের ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়নি।

চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিশুদের দশ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো ধরনের অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই উত্তম। চিনিযুক্ত পানীয়কে সরাসরি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পাউরুটি বা পরিশোধিত আটা দিয়ে তৈরি খাবার কমিয়ে ফল ও শাকসবজির মতো প্রাকৃতিক খাবারে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ চিনি ও অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে লাল মাংস ও পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবারকে উৎসাহ দেওয়াকে অনেকে পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছেন। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ ম্যারিয়ন নেসলে বলেন, এই নির্দেশিকা আদর্শগত ও পুরনো ধ্যান ধারণার প্রতিফলন।

প্রোটিন ও চর্বি নিয়ে দ্বিধা

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজিতে এক দশমিক দুই থেকে এক দশমিক ছয় গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত, যা আগের সুপারিশের প্রায় দ্বিগুণ। যদিও স্যাচুরেটেড চর্বি থেকে মোট ক্যালরির দশ শতাংশের বেশি না নেওয়ার পুরোনো সীমা বহাল রাখা হয়েছে। তবুও মাখন ও গরুর চর্বিতে রান্নাকে ভালো বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করায় বিভ্রান্তি বেড়েছে।

বাস্তবতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এই নির্দেশিকা বাস্তবে কতটা মানা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি টিকাদানসহ জনস্বাস্থ্য নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এসব খাদ্য নির্দেশিকার প্রভাব সীমিতই থেকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আবার নির্বাচনের দৌড়ে মান্না, বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন

চিনি বর্জন, লাল মাংসে সবুজ সংকেত: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন খাদ্য নির্দেশিকা

১২:২৩:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সদ্য ঘোষিত ফেডারেল স্বাস্থ্য নির্দেশিকা। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত চিনি ও অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, তবে লাল মাংস ও পূর্ণচর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ায় আর আগের মতো বাধা নেই।

নতুন নির্দেশিকার মূল বার্তা

নতুন নির্দেশিকায় প্রোটিনকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্টে দেওয়া খাদ্য পিরামিডে শাকসবজি ও ফলের পাশাপাশি একই স্তরে রাখা হয়েছে মাংস, দুগ্ধজাত খাবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি। আগের মতো শস্যকে আর খাদ্যের ভিত্তি হিসেবে দেখানো হয়নি।

চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিশুদের দশ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো ধরনের অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই উত্তম। চিনিযুক্ত পানীয়কে সরাসরি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পাউরুটি বা পরিশোধিত আটা দিয়ে তৈরি খাবার কমিয়ে ফল ও শাকসবজির মতো প্রাকৃতিক খাবারে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পুষ্টিবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ চিনি ও অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে লাল মাংস ও পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবারকে উৎসাহ দেওয়াকে অনেকে পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছেন। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ ম্যারিয়ন নেসলে বলেন, এই নির্দেশিকা আদর্শগত ও পুরনো ধ্যান ধারণার প্রতিফলন।

প্রোটিন ও চর্বি নিয়ে দ্বিধা

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজিতে এক দশমিক দুই থেকে এক দশমিক ছয় গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত, যা আগের সুপারিশের প্রায় দ্বিগুণ। যদিও স্যাচুরেটেড চর্বি থেকে মোট ক্যালরির দশ শতাংশের বেশি না নেওয়ার পুরোনো সীমা বহাল রাখা হয়েছে। তবুও মাখন ও গরুর চর্বিতে রান্নাকে ভালো বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করায় বিভ্রান্তি বেড়েছে।

বাস্তবতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এই নির্দেশিকা বাস্তবে কতটা মানা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি টিকাদানসহ জনস্বাস্থ্য নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এসব খাদ্য নির্দেশিকার প্রভাব সীমিতই থেকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।